খাগড়াছড়ি সদরের গোলাবাড়ি ইউনিয়নের তৈবাকলাই গ্রামবাসী এখনো ছড়ার পানি পান করে। গত সেপ্টেম্বর মাসে এই গ্রামের অন্তত ২০ জন ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়েছিল। আড়াই বছর বয়সী এক শিশু মারাও যায়। এ ঘটনার পর খাগড়াছড়ির স্থানীয় প্রশাসন নড়েচড়ে উঠলেও যে কারণে রোগের উৎপত্তি, সেটি সমাধানে কোনো উদ্যোগ এখনো নেই। এই গ্রামে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই।
খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের চারমাইল থেকে এক কিলোমিটার দূরে গেলেই তৈবাকলাই গ্রাম। গ্রামে ৬৬ পরিবারের বসবাস। একটি বাড়ি থেকে আরেক বাড়ির দূরত্ব অনেক দূর। তাই গ্রামটির বিস্তৃতিও বেশ বড়।
সেপ্টেম্বর মাসে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত আড়াই বছরের শিশু কুপুতি ত্রিপুরার বাসায় গত শুক্রবার গিয়ে দেখা যায়, দুর্গম এক পাহাড়ের ওপর তাদের বাড়ি। বাড়িতে যেতে কয়েকটি খাড়া পাহাড় ও ছড়া ডিঙিয়ে যেতে হয়। শিশুটির বাবা দপেন কুমার ত্রিপুরা (২৯) জানান, তাঁরা এখনো ছড়ার পানি পান করেন। তবে তা ফুটিয়ে পান করেন। আগে ছড়ার পানি সরাসরি পান করতেন। শিশুকন্যা কুপুতির সাথে তিনি নিজেও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি জানান, ছড়ার পানি পান করা ছাড়া তাঁদের কোনো উপায় নেই। শিশুকন্যার মৃত্যুর চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন পানি ফুটিয়ে খেতে। এর পর থেকে ফুটানো পানি তাঁরা পান করছেন।
তৈবাকলাই গ্রামের কারবারি (গ্রামপ্রধান) মনোরঞ্জন ত্রিপুরা (৫০) জানান, তিনিও নিজে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পানির কারণে গ্রামে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছিল।
সরেজমিনে এ গ্রাম ঘোরার সময় দেখা যায়, গ্রামের মধ্য দিয়ে আপ্রাংখ তৈসা ও তৈবাকলাই তৈসা (তৈসা অর্থাৎ ছড়া) বয়ে গেছে। ডায়রিয়ার আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবাই এই দুই ছড়ার পানি ব্যবহার করতেন। গ্রামের মাঝখানে তৈবাকলাই তৈসার পাড়ে বেশ কয়েকটি কুয়া রয়েছে। এই কুয়াগুলোই হলো গ্রামের একমাত্র বিশুদ্ধ পানির উৎস।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শহীদ তালুকদার বলেন, তৈবাকলাই গ্রামের লোকেরা পানির মাধ্যমে সংক্রমিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। কারণ, সে সময়ে বৃষ্টির পানিতে জুমের পচা দ্রব্য পানিতে পড়ে পানি দূষিত হয়েছিল।
সূত্র - প্রথম আলো

