home top banner

খবর

হরলিক্স ‘প্রতারণা’
০৩ এপ্রিল, ১৪
Tagged In:  horlicks  energy drinks   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   21

স্বাস্থ্য গঠনের অন্যতম উপাদান ডিএইচএ এর নাম করে বাজারজাত করলেও জুনিয়র হরলিক্সে সে উপাদান পায়নি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)।

নিজের বাচ্চার জন্য বাজার থেকে জুনিয়র হরলিক্স কিনে কৌতূহলের বশে প্রতিষ্ঠানটির একজন বিজ্ঞানী পরীক্ষা করে ডিএইচএ বা ডেকোসাহেক্সানয়িক এসিড পাননি শিশুদের জন্য তৈরি ওই খাদ্যে।

তবে হরলিক্স কর্তৃপক্ষ জিএসকে এই পরীক্ষা প্রত্যাখ্যান করেছে।

এর আগে ২০০৮ সালে মিথ্যা দাবি করে বিজ্ঞাপন প্রচার করায় হরলিক্সের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রক সংস্থা এএসএ।

বিসিএসআইআরের ‘স্ট্রেংথেনিং এনালাইটিকাল অ্যান্ড মাইক্রোবিয়াল ল্যাবরেটরিজ’ প্রকল্পের পরিচালক রেজাউল করিম বিডিনিউজ টোয়োন্টফোর ডটকমকে বলেন, ডিএইচএ একটি ওমেগা-৩ প্রাইমারি অ্যামিনো এসিড। এটি মানুষের মস্তিস্ক, ত্বক এবং চোখের রেটিনা গঠনের অন্যতম উপাদান।

“ডিএইচএ সমৃদ্ধ খাবার খেলে মস্তিষ্ক, ত্বক এবং চোখের রেটিনার গঠন সুদৃঢ় হয়।” 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রিধারী রেজাউল করিম আট মাস আগে তার বাচ্চার জন্য হরলিক্স কেনেন।

তিনি বলেন, “আগোরা থেকে জুনিয়র হরলিক্স কিনে বাসায় এসে দেখি এর গায়ে অন্য উপাদানের পরিমাণ উল্লেখ থাকলেও ডিএইচএ’র পরিমাণ কত, তা নেই। তখনি আমার কৌতূহল হয়।”

ডিএইচএ-এর পরিমাণ জানতে হরলিক্সকে গবেষণা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসেন তিনি।

হরলিক্স পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিসিএসআইআর-এর তৈরি প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি আছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কাছে।

গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর হরলিক্স নিয়ে এ পরীক্ষাটি করা হয় বলে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে।

একটি ইলিশ মাছের তুলনায় জুনিয়র হরলিক্সে কী পরিমাণ ডিএইচএ আছে, তা পরীক্ষা করে দেখেন বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীরা।

প্রতিবেদনটি বলছে, এই নিরীক্ষায় (সায়েন্টিফিক টেস্ট) ইলিশের প্রতি ৪০ গ্রামে ১০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। যার মধ্যে ডিএইচএ ছিল ৫৭ মিলি গ্রাম।

একই পরিমাণ ‘নিউ জুনিয়র হরলিক্স উইথ ডিএইচএ’ তে শূন্য দশমিক ৫৫ গ্রাম তেল পাওয়া গেলেও কোনো ডিএইচএ পাননি গবেষকরা।

হরলিক্স উৎপাদনকারী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে)-এর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি ম্যানেজার) লোকমান হোসেন এই পরীক্ষা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের শুধু ‘হরলিক্সে’ কোনো ডিএইচএ নাই, তবে ‘জুনিয়র হরলিক্সে’ ডিএইচএ আছে।”

তাদের পণ্যের মান নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেদন দেখে তিনি বলেন, “রিপোর্টে শুধু ‘ইলিশ’ এবং ‘হরলিক্স’ লেখা থাকায় আমার ধারণা গবেষক শুধু হরলিক্স পরীক্ষা করেছেন, জুনিয়র হরলিক্স নয়।”

বিষয়টি আবার জানতে চাইলে গবেষক রেজাউল করিম বলেন, “আমি জুনিয়র হরলিক্স পরীক্ষা করেছি। ওই হরলিক্সের গায়ে কার্টুন রয়েছে। স্পষ্ট করে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ছিল ‘নিউ জুনিয়র হরলিক্স উইথ ডিএইচএ’।”

এরপর লোকমান বলেন, “তাহলে সেই পণ্যের ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন তারিখ, কারা এটি বাজারজাত করেছিল, তা নিশ্চিত না করে কিছু বলা যাবে না।”

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল হোসেন বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এরকম প্রতারণার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ না আসায় আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।”

ভোক্তা অধিকার আইনের ৪৪ ধারার অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি খাদ্যে প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ১ এক বছর জেল এবং কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হবে।

মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক কমল প্রসাদ দাশ এই বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হরলিক্সের কোনো পণ্য আমাদের তালিকাভুক্ত নয়। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।”

বিএসটিআই শুধু নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের মান নিয়ে কাজ করে বলে জানান তিনি।

কমল দাশ বলেন, “হরলিক্স একটি পরিপূরক খাদ্য (ফুড সাপ্লিমেন্ট), আমাদের পরিপূরক খাদ্য নিয়ে কোনো মান নেই। তবে কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে মান করে নিতে চাইলে করে দিই।”

হরলিক্স ছাড়াও উৎপাদক প্রতিষ্ঠান জিএসকে’র একই ক্যাটাগরির পণ্যের মধ্যে রয়েছে মালটোভা, ভিভা এবং বুস্ট।

সূত্র - bdnews24.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: চা-কফি কি সত্যিই পানি শূন্যতার কারণ...?
Previous Health News: গরমে বেড়েছে ডায়রিয়া

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')