বিশ্বব্যাপী প্রতিদিন মানুষ ১৬০ কোটি কাপ কফি পান কারা হয়ে থাকে। আর চায়ের ক্ষেত্রে এই হিসাব প্রায় দ্বিগুণ। মানুষ এই দুটি পানীয় পান করে দারুণ স্বাদ পায় এবং চাঙ্গা বোধ করে। কারণ এতে ক্যাফিন নামক পদার্থ রয়েছে। কিন্তু আমরা দৈনিক ছয় থেকে আট গ্লাস পানি খাওয়ার প্রতি জোর দেই কারণ ওই চা বা কফির কারণে আমাদের শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। কিন্তু এই ধারণার বিপরীতে প্রমাণ কী?
ক্যাফিনের কারণে শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয় আর এই তথ্য প্রমাণে ১৯২৮ সালে একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয় তিনজন মানুষের ওপর। তাদের ওই গবেষণায় দুটি শীত মৌসুম পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেই সময় কখনো তারা দিনে চার কাপ কফি পান করতেন। কখনো বা শুধুই চা পান করতেন। আবার কখনো মদ্য পান করতেন। কখনো বা আবার সাধারণ পানি পান করতেন। এ সময় নিয়মিত ভাবেই তাঁদের প্রস্রাব পরীক্ষা করা হচ্ছিল। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেল, দুই মাস সাধারণ পানি কিংবা মদ পানের পর তাঁদের প্রস্রাবের মাত্রা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে আর কফি বা চা পানের পর তা হ্রাস পেয়েছে।
কিন্তু অধিক পরিমাণে ক্যাফিনের ব্যবহারে যেখানে কিডনিতে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায় এবং সোডিয়ামের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্ত করে সেখানে এটি কেন প্রস্রাবের চাপকে কমিয়ে দেবে? এই নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েই গেছে। অন্যদিকে ইউনিভার্সিটি অব কানেক্টিকাটের গবেষক লরেন্স আর্মস্ট্রং তাঁর ১০ টি গবেষণায় দেখেছেন প্রস্রাবের চাপ কমানোর ক্ষেত্রে ক্যাফিনের ভূমিকা খুবই সামান্য। ১২ থেকে ১৫ জনের মধ্যে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে যাঁরা ক্যাফিন যুক্ত পানীয় পান করেছেন আর যাঁরা ক্যাফিনহীন পানীয় পান করেছেন তাঁদের প্রস্রাবের পরিমাণ একই।
আরেকটি বিরল গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু মানুষকে প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর চা পান করিয়ে এবং একই পরিমাণের ফুটানো পানি পান করানোর পর তাদের শরীরে হাইড্রেশনের মাত্রা একই পরিমাণের পাওয়া গেছে। কিন্তু কফি পান করার পর তাদের মূত্রের পরিমাণ ৪১ শতাংশ বেড়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের মাত্রাও বেড়েছে। কিন্তু ওই লোকগুলো গবেষণার আগে নিজেদের ক্যাফিন থেকে দূরেই রেখেছিল।
বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির সোফি কিলার তার নতুন গবেষণায় শুধু মূত্রের পরিমাপ না করে, যকৃতের কার্যকারিতাও পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন পানি পান করা এবং কফি পান করা ব্যক্তির শরীরে পানির পরিমাণ সমান। যে কারণে কফি পান করলে শরীরে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হয় সেটা আর আধুনিক গবেষকরা মানতে নারাজ।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

