১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ছিল সরকারি ছুটি। আর সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগও বন্ধ ছিল সেদিন। তবে এই ছুটির দিনেই বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসক, সেবক-সেবিকা ও কর্মকর্তারা মিলিতভাবে সৃষ্টি করেছেন এক অভিনব দৃষ্টান্ত। ছুটি বলে অবকাশে দিনটি কাটিয়ে না দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা রোগী দেখেছেন। আর্তমানবতার সেবায় চিকিৎসকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২ জন অধ্যাপক, ১৭ জন সহযোগী অধ্যাপক, ১৫ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৫৯ জন চিকিৎসা সহকারী সেদিন সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত বিনা মূল্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের একটি যথার্থ দৃষ্টান্ত এটি। এবং এই উদ্যোগকে অবশ্যই অভিনব বলতে হয়। কারণ, যেকোনো উপলক্ষে ছুটি পেলে অবকাশযাপনই যখন আমাদের সাধারণ প্রবণতা, তখন এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণত দেখা যায় না।
দেশের সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে নানা অভিযোগ রয়েছে; বিশেষত প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের ছুটির দিনে রোগী দেখার এই বিশেষ উদ্যোগটি সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই চিকিৎসকদের মধ্যে এমন অনেক বরেণ্য বিশেষজ্ঞও রয়েছেন, যাঁরা এখন আর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত নন। তা ছাড়া তাঁদের অনেকেই অতিশয় ব্যস্ত; ছুটি কাটানোর অবকাশ হয়তো তাঁদের খুবই কম মেলে। সেদিন তাঁরা পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সারাটি দিন কাটাতে পারতেন, কিন্তু তা না করে তাঁরা যে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিনা মূল্যে রোগীদের সেবা দিয়েছেন, সেটা তাঁদের আন্তরিক সেবাপরায়ণতার প্রকাশ। ভালো হয়, যদি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন এভাবে উদ্যাপন করে।
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের এই দৃষ্টান্ত গোটা চিকিৎসা পেশার জন্যই অনুসরণীয়। বিভিন্ন উপলক্ষে সারা দেশের সরকারি ও বেসরকারি-নির্বিশেষে সব প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকেরাই এমন উদ্যোগ নিতে পারেন।
সূত্র - প্রথম আলো

