হাজারীবাগের ট্যানারিগুলো থেকে দৈনিক ২১ হাজার কিউবিক মিটার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এসব বর্জ্যে রয়েছে ক্রোমিয়াম, সালফার ও পশুর মাংস। বর্জ্যগুলো শুধু নদীর পানিই দূষিত করছে না বরং দূষিত করছে নদীপারের পরিবেশ ও বাতাসও। এতে বিভিন্ন রোগে ভুগছে নদীপারের মানুষ।
শুক্রবার বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে দূষণের এই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘নদী দখল ও দূষণের স্বরূপ এবং পরিত্রাণ’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
বৈঠকে এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন শিল্প-কারখানার ৯০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য প্রতিদিন নদীতে পড়ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান মতে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ ১৩টি নদীতে শুকনা মৌসুমে কোনো প্রাণ বাঁচে না। রাজধানী ঢাকা এবং এর সংলগ্ন এলাকার চারদিক নদীবেষ্টিত। বিশ্বের কোনো দেশের রাজধানী অথবা মেট্রোপলিটন শহরের প্রতি প্রকৃতির এই আশীর্বাদের দৃষ্টান্ত বিরল। চারদিকের এই নদীপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ কিলোমিটার।
কিন্তু ঢাকা শহরের চারদিকের নৌপথের ওপর ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের অনাচার শুরু হয়। একদিকে দখল অন্য দিকে দূষণের আগ্রাসন। ফলে নদী সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। পানি দূষিত ও দুর্গন্ধময় হয়ে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
বৈঠকে সংকট উত্তরণের জন্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ না করা, নদীতে পলিথিন, গৃহস্থালি ও কারখানার বর্জ্য না ফেলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান আলোচকরা।
ঢাকা ওয়াসার এ পরিসংখ্যান তথ্য তুলে ধরে বৈঠকে বলা হয়, রাজধানীতে প্রতিদিন পয়োবর্জ্যের পরিমাণ ১৩ লাখ ঘনমিটার। যার মধ্যে ৫০ হাজার ঘনমিটার পরিশোধন করা হচ্ছে। বাকি ১২ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার ফেলা হচ্ছে নদীতে। এ কারণেও বদলে যাচ্ছে নদীর চেহারা।
বৈঠকে দৈনিক মানব জমিন-এর সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, আহ্ছান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম সফিউল্লাহ বক্তব্য দেন।
সূত্র - risingbd.com

