home top banner

Health Tip

ঠাণ্ডা থাক দূরে
25 November,13
Tagged In:  winter care  winter cold  
  Viewed#:   149

winter-clodভোরের শিশির আর হালকা কুয়াশা মনে করিয়ে দিচ্ছে শীত জেঁকে বসতে বেশি দেরি নেই। এখন দিনে গরম, রাতে শীত। আবহাওয়ার এ মিশ্র অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে সর্দি-কাশি, টনসিল, চর্মরোগসহ নানান ব্যাধি।

ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে দরকার বাড়তি প্রস্তুতি। এ নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিলেটের সরকারি তিব্বিয়া কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. মহিব বুল্যাহ বলেন, “ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি। তাই তাদের প্রতি আরও সতর্ক দৃষ্টি রাখা দরকার।”

এই মৌসুমে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়া থাকে গরম। ফ্যান চালিয়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখতে হয়। সন্ধ্যার পর অল্প ঠাণ্ডা পড়ে। রাতে আর ভোরে বেড়ে যায়। তাই অনেকেই পাতলা কাঁথা বা চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমান।

মহিবের কথায়, “অনেক সময় কাঁথা গায়ে ঘুমানোর সময় গরম লাগে। এই কারণে রাতে পাখাও ছেড়ে রাখেন অনেকে। ফলে ভোরে আরও ঠাণ্ডা লাগে। তারপরও আলসেমি করে বিছানা থেকে উঠে ফ্যান বন্ধ করা হয় না। ফলাফল সর্দি, কাশিসহ আরও কিছু শারীরিক সমস্যা। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাতে ঘুমানো আগে ফ্যানের স্পিড কমিয়ে রাখুন।”

শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। একটু অসতর্কতার ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে নিউমোনিয়া পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

“শীতের সময় শিশুদের প্রস্রাবের বেগ বেশি থাকে। রাতে ঘুমের মধ্যে বিছানায় প্রস্রাব করে বেশিক্ষণ থাকলে তা থেকে সর্দি-কাশি ও চর্মরোগ হতে পারে। শিশুদের ঠাণ্ডা লাগলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।” বললেন মহিব।

ঠাণ্ডা আর গরমের এই মিশ্র আবহাওয়া সতর্ক থাকতে আরও কিছু দিক লক্ষ রাখতে বললেন তিনি।

শীতে উত্তর দিক থেকে ঠাণ্ডা বাতাস বইতে থাকে। এ সময় বিশেষ করে শিশুদের থাকার ঘরে উত্তরের জানালা বেশি সময় খোলা রাখা যাবে না। বড়দের মতো শিশুরা হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে না।

এ সময়ের সতর্কতা

* রাতের ঘুমানো আগে ফ্যানের স্পিড কমিয়ে রাখুন।

* বাস, ট্রেন বা লঞ্চে- দূর পথের যাত্রায় ঠাণ্ডা বাতাস থেকে যাতে সর্দি, কাশি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। দরকার হলে মাফলার ব্যবহার করুন।

* শিশুদের গায়ে যেন সরাসরি কুয়াশা না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

* যারা মোটরসাইকেল চালান, ঘর থেকে বের হওয়ার আগে শীতের পোশাক, উইন্ডব্রেকার বা ভেস্ট সঙ্গে রাখুন। মাথায় হেলমেট তো থাকছেই।

* শীতে অপরিচ্ছন্ন থাকলে চর্মরোগ হতে পারে। নিয়মিত গোসল ও পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় ব্যবহার করুন।

* যাদের ঠাণ্ডা জনিত সমস্যা বেশি, তারা সরাসরি ঠাণ্ডা বাতাসে না থাকলেই ভালো করবেন।

* ঘরে কাপড়ের স্যান্ডেল ব্যবহার করতে পারেন।

* সকালে শিশুদের শরীর অলিভ অয়েল অথবা সরিষার তেল দিয়ে মালিশ করুন। প্রবীণরাও শরীরে তেল ব্যবহার করতে পারেন।

* যাদের টনসিল, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি আছে তারা ঠাণ্ডা পানি, আইসক্রিম, বরফ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

* শিশুদের ফ্রিজ থেকে ঠাণ্ডা কোনো খাবার বা আইসক্রিম খাওয়াবেন না।

শরীর খারাপ করলে যা করবেন

ভাইরাস আক্রান্ত হয়েই এ সময় অধিকাংশ রোগব্যাধি হয়। ঠাণ্ডা লেগে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, মাথাব্যথা হতে পারে। জ্বর সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। সর্দি পুরোপুরি ভালো হতে কারও কারও ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১৫ দিন লাগতে পারে। শিশুদের কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এই আবহাওয়াতে যে কারও গায়ে ঘামাছির মতো দানা দেখা দিতে পারে। এ ধরনের চর্মরোগ সাধারণত অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয়। শরীরে এই সমস্যা দেখা দিলে নিমপাতা সেদ্ধ করা পানিতে গোসল করতে পারেন। এছাড়া হাম হলে শুধু নিমপাতার ডাল ভালো করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে গায়ে বারবার বুলিয়ে নিলেও উপশম হয়।

বাড়িতে নিমগাছ থাকলে মশার উপদ্রব কমবে। রোগব্যাধিও কম ছড়াবে।

শীতে আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ায় ত্বক ফেটে যেতে পারে। এর থেকে রেহাই পেতে অলিভ অয়েল বা সরিষার তেল ব্যবহার করতে পারেন।

টনসিলের সমস্যা থাকলে ঠাণ্ডা পানি ও খাবার যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। গোসলের সময় গায়ে গরম পানি দিলেও মাথায় দিন ঠান্ডা পানি। কারণ মস্তিষ্ক সবসময় উষ্ণ থাকে। মাথায় গরম পানি দিলে অসুস্থ শরীরে মেজাজ আরও খিটখিটে হতে পারে। শীতল পানি মেজাজ ঠাণ্ডা রাখে।

শীতকালীন রোগব্যাধিতে নিজে নিজে কোনো ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মহিব বুল্যাহ। তিনি বলেন, “যাদের ট্যাবলেট বা সিরাপজাতীয় অষুধ খেলে সমস্যা হয় তারা সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যাথায় প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ইউনানি ওষুধ ব্যবহার করতে পারেন।”

এছাড়া টনসিলের ব্যাথা উপশমের জন্য বিভিন্ন রকম ইউনানি তেল বা ‘ম্যাসাজিং অয়েল’ আছে।

শরীরের যেসব জায়গার ত্বক ঢাকা যায় না যেমন- মুখমণ্ডল, হাতের কব্জিতে এই তেল লাগালে শীতের প্রকোপ কম অনুভূত হয়।

মাথা ব্যথা ও সর্দি কাশিতে এগুলো মালিশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সূত্র - বিডি নিউস ২৪

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শরীরের বাজে গন্ধ দূর করার ৫ টি গৃহ চিকিৎসা
Previous Health Tips: শীতের ধুলাবালি থেকে শ্বাসকষ্ট

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')