প্রশ্ন : শুরুতেই জানতে চাইছি, আর্থ্রাইটিস কী?
উত্তর : গ্রিক শব্দ ‘আর্থ্রাে’- এর মানে হলো অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড়া এবং ‘আইটিস’ শব্দের মানে প্রদাহ। খুব সাধারণভাবে বলা যায়, আর্থ্রাইটিস হলো অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড়ার প্রদাহ। এই প্রদাহ এক বা একাধিক অস্থিসন্ধিতে হতে পারে। অনেকে শুধু বাতের ব্যথা বলতে আর্থ্রাইটিসকে বুঝিয়ে থাকেন। বাংলায় অনেকে আর্থ্রাইটিসকে বলেন গেঁটেবাত বা গ্রন্থিবাত। আর্থ্রাইটিসের কোনো কোনো ধরন শুধু অস্থিসন্ধিকেই নয়, অন্যান্য অংশেও প্রদাহ ঘটায়। আবার একটি ধরন রয়েছে, যার নাম অস্টিও আর্থ্রাইটিস এটা খুব কম প্রদাহ ঘটাতে পারে।
প্রশ্ন : প্রকৃতপক্ষে অস্টিও আর্থ্রাইটিস কী? আর-আর্থ্রাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ধরন কী কী?
উত্তর : সংক্ষেপে অস্টিও আর্থ্রাইটিস হলো হাড়ের স্বাভাবিক ব্যবহার থেকে সৃষ্ট ক্ষয় বা ক্ষতি। সাধারণ অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টে ইনজুরি বা আঘাত থেকে কিংবা বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে এটা হতে পারে। আর আর্থ্রাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ ধরন হলো অস্টিও আর্থ্রাইটিস। এটি সাধারণত বড় বড় জোড়ায় হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি হয় ওজন বহনকারী জোড়াগুলোতে। যেমন- কোমর, হাঁটু, মেরুদণ্ড ইত্যাদি। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও গাউট আর্থ্রাইটিসের ধরনও বেশ সাধারণ। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে সাধরণত হাত-পায়ের ছোট ছোট গিরাগুলোতে প্রদাহ হয়, আর গাউটে এক বা বেশকিছু গিরায় প্রদাহ হয় এবং এটা ঘটে যখন গিরায় ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল গঠিত হয়।
প্রশ্ন : এই যে প্রদাহের কথা বলা হচ্ছে এই প্রদাহ জিনিসটা আসলে কী?
উত্তর : প্রদাহের আভিধানিক অর্থ হলো জ্বালা, যন্ত্রণা বা টাটানি। বেশির ভাগ সময় প্রদাহ হচ্ছে আঘাত বা সংক্রমণের ফলে সৃষ্ট শরীরের নিরাপত্তামূলক প্রতিক্রিয়া। এর চিহ্নগুলো হলো তাপ, লাল হওয়া, ফুলে যাওয়া ও ব্যথা। এগুলো তৈরি হয় শরীরের ইনফেকশন ফাইটিং ইমিউন সেলগুলো কর্তৃক নিঃসৃত জৈব রাসায়নিক পদার্থের প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ। এরা জীবাণুর দেয়াল ধসিয়ে ফেলে জীবাণুকে ধ্বংস করে ও ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে সরিয়ে ফেলে। সাধারণত যুদ্ধে জয়ী হলে প্রদাহ চলে যায়। অনেক সময় প্রদাহ এমনভাবে ঘটে যে, তার সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না, শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বধর্ম ত্যাগ করে নিজস্ব টিস্যুগুলোকেই আক্রমণ করে বসে। এটি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। কোনো কোনো গবেষকের মতে- এর কারণ হলো বংশগত প্রবণতা এবং কোনো ভাইরাস বা অন্য কোনো জীবাণুর সংস্পর্শে থাকা। এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়।
প্রশ্ন : তা হলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অন্যান্য বাত রোগে প্রদাহ হয়, ঠিক তো?
উত্তর : রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অন্যান্য বাত রোগে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী দু’ধরনের প্রদাহ হতে পারে। অন্য দিকে অস্টিও আর্থ্রাইটিসে সামান্য প্রদাহ হতে পারে, আবার একেবারেই কোনো প্রদাহ নাও হতে পারে।
প্রশ্ন : শুনেছি অস্থিসন্ধির মধ্যে রয়েছে হাঁটু, কটি ও আঙুলের গাঁট। এ ধরনের অন্য কোনো অস্থিসন্ধি বা জয়েন্ট আছে কি?
উত্তর : শরীরের যেকোনো স্থানে যেখানেই দু’টি বা আরো বেশি হাড়ের সংযোগ ঘটবে, তাকে জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধি হিসেবে গণ্য করতে হবে। শরীরে অনেক অস্থিসন্ধি রয়েছে। বেশির ভাগ অস্থিসন্ধির মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন কাজ সহজেই করতে পারি, যেমন হাঁটাচলা, ওঠাবসা, শরীর বাঁকানো, এমনকি ঘোরানো, কোনো কিছু ধরা ইত্যাদি। অবশ্য সব অস্থিসন্ধির মাধ্যমে এগুলো করা যায় না, তবে বেশির ভাগ অস্থিসন্ধির দ্বারা এগুলো করা যায়। কিন্তু অস্থিসন্ধির অসুখ হলে এ সব কাজ সম্পাদনে সমস্যা হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডের দুটো কশেরুকার মাঝখানের নকশা খুব শক্তিশালী ও এই জয়েন্ট সামান্য নড়াচড়া করতে সক্ষম। অন্য দিকে কিছু জয়েন্ট যেমন হাতের কবজি এবং কাঁধ ও পায়ের জয়েন্টগুলো সম্পূর্ণ নমনশীল। শরীরে শত শত জয়েন্ট রয়েছে। হাঁটাচলা ও কথা বলা ছাড়াও জয়েন্টগুলো আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে।
সুত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

