শরীরের ছোট ছোট জোড়া বলতে সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট ছোট জোড়াকে বোঝায়। অনেক কারণ রয়েছে এসব জোড়ার ব্যথার। তবে কিছু কিছু কারণে জোড়া ব্যথার সাথে প্রদাহ হতে পারে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলো এ ধরনের একটি কারণ যেখানে জোড়া ব্যথার সাথে প্রদাহ হয়। আর এই রোগটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যার ফলে হাত ও পায়ের ছোট ছোট জোড়া এমনকি শরীরের অন্যান্য জোড়া আক্রান্ত হয়ে রোগীকে পঙ্গু করে দিতে পারে। তাই এখানে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো।
এ রোগের উপসর্গগুলো হলো জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা। ব্যথা সাধারণত আস্তে আস্তে বিস্তার লাভ করে। সাধারণত হাত ও পায়ের ছোট ছোট জোড়াগুলো বেশি আক্রান্ত হয়। প্রায়ই সমানভাবে দুই পাশের অর্থাৎ ডান ও বাম দিকের জোড়া গুলোতে ব্যথা হয়। বড় বড় জোড়া যেমন- কনুই, কাঁধ, হাঁটু ও গোড়ালিও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় ঘাড়েও ব্যথা হতে পারে। এ রোগের ব্যথা কায়িক পরিশ্রম করলে কমে কিন্তু বিশ্রাম নিলে বেড়ে যায় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় ব্যথা বেশি অনুভূত হয়। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আস্তে আস্তে কমে আসে। আক্রান্ত জোড়া ফুলে যায়।সকালে ঘুম থেকে জাগলে আক্রান্ত জোড়া গুলো শক্ত শক্ত মনে হয়। এই শক্ত ভাব একঘণ্টার বেশি সময় ধরে থাকে। নড়া চড়া করার পর এটা কিছুটা কমে যায়। ব্যথার সাথে রোগীর জ্বর হতে পারে। শরীরের ওজন কমে যেতে পারে। দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।রোগীর খুব অবসন্নতা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় আক্রান্ত জোড়ার কাছাকাছি মাংস শুকিয়ে যেতে পারে।রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। প্লীহা বড় হতে পারে। চোখ লাল হতে পারে।হৃৎপিণ্ডের অসুবিধা দেখা দিতে পারে। শ্বাসযন্ত্রের অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘ দিন এ রোগে ভুগলে শরীরের জোড়া গুলো তার নিজস্ব আকৃতি হারিয়ে ফেলতে পারে। ফলে রোগীর বিভিন্ন রকম অক্ষমতা দেখা দিতে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি পুরোপুরি পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।
চিকিৎসা : চিকিৎসার শুরুতে রোগীকে রোগ সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। রোগের প্রকৃতি বোঝাতে হবে। অর্থাৎ জানাতে হবে যে, রোগটি সম্পূর্ণভাবে হয়তো ভালোহবে না। তবে উপযুক্ত চিকিৎসা নিয়ে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রোগের মারাত্মক ঝুঁকি যেমন- পঙ্গুত্ব থেকে নিজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।ব্যথা কমানোর জন্য বেদনানাশক ওষুধ হিসেবে ইনডোমেথাসিন, নেপ্রক্সেন, ডাইকোফেন বা সিলিককসিড জাতীয় ওষুধ দেয়া যেতে পারে।প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগীকে ডিএমআরডি জাতীয় ওষুধ দিতে হবে যাতে রোগ বেশি মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে। প্রয়োজন হলে স্টেরয়েড জাতীয়ওষুধ দেয়া যেতে পারে।অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ও পরিমিত ব্যায়াম এ রোগের জন্য খুবই জরুরি।
ওষুধের পাশাপাশি কিছু ফিজিক্যাল থেরাপি যেমন ওয়াক্সবাথ বা মোমথেরাপি, সাউন্ড থেরাপি, হাইড্রোথেরাপি এ রোগের জন্য খুবই উপকারী। এগুলো প্রয়োজনমতো করলে রোগী বেদনানাশক ওষুধ অনেক কমিয়ে দিতে পারে। ফলে ওই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে রেহাই পেতে পারে।পরিশেষে বলা যায়, এ রোগ হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা করাতে হবে। রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য রোগীকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে যাতে সে পঙ্গুত্ব থেকে রেহাই পেতে পারে। সর্বোপরি রোগীকে পুনর্বাসন চিকিৎসার মাধ্যমে সমাজের একজন সক্রিয় মানুষ হিসেবে দেশ ও জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সাহায্য করতে হবে।
সূত্র - নয়া দিগন্ত

