শরীরের অন্যান্য জোড়া বা জয়েন্ট থেকে কাঁধের জোড়ায় বেশি নড়াচড়া হয়। কাঁধের ত্রিশটি পেশির মধ্যে চারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এরা বাহুর নড়াচড়ায় সহায়তা করে। এ পেশি কিছু হাড়ের ওপর দিয়ে এবং কিছু হাড় ও লিগামেন্টের নিচ দিয়ে বিস্তৃত। কিছু কারণে এ জোড়ার নড়াচড়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। যেমন- হাড়ের গঠনগত অস্বাভাবিক আকৃতি (বাঁকা বা হুকের মতো), জোড়ার আর্থ্রাইটিস ও অতিরিক্ত হাড় (ওসটিওফাইটস), জয়েন্টের স্থানচ্যুতি, হাড়ের ফ্র্যাকচার ও অস্বাভাবিকভাবে হাড় জোড়া লাগা, বার্সার প্রদাহ, লিগামেন্ট হাড়ে পরিণত হওয়া, টেনডনের প্রদাহ, হাড়ের টিউমার, জোড়ার বিভিন্ন রোগ এবং ইনজুরি। এসব কারণে বাহুর নড়াচড়ার সময় হাড়ের সঙ্গে পেশির সংঘর্ষ হয়। মুভমেন্ট কমে যায় এবং ব্যথা হয়। ব্যথা অনুভূত হয় কাঁধের ভেতর, উপরিভাগ ও বাহুতে। কখনও কখনও ব্যথা কনুইয়ে যায়। ব্যথার জন্য কাঁধের পেশি শুকিয়ে যায় এবং পেশি দুর্বল হয়। ব্যথাযুক্ত কাঁধে কাত হয়ে ঘুমালে ব্যথা তীব্র হয় এবং ব্যথার জন্য ঘুমানো যায় না। ব্যথা, সীমিত মুভমেন্ট ও পেশি দুর্বলতার জন্য পিঠ চুলকানো, চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ানো, জামার বোতাম লাগানো, প্যান্টের পেছনের পকেটে হাত দেয়া ইত্যাদি কষ্টকর হতে পারে। কাঁধে কোনো নির্দিষ্ট নড়াচড়ায় ক্রিপিটাস বা ক্রেকলিং সেনসেশন হয় বা শব্দ শোনা যায়।
চিকিৎসা ও প্রতিকার
এ সমস্যা হলে দীর্ঘদিন বিনা চিকিৎসায় থাকলে কাঁধের পেশি দুর্বল হয়, কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং আর্থ্রাইটিস হয়ে জোড়া নষ্ট হয়। সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্ষতি থেকে জোড়াকে রক্ষা করা যায়। কাঁধের ব্যথার তীব্রতা ও কারণ অনুসন্ধান করতে রোগের ইতিহাস জানতে হবে, রোগের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কাঁধের শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে এবং কিছু প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যেমন এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফি ও এমএরআই-এর সাহায্য নিতে হবে।
মেডিক্যাল চিকিৎসা
বিশ্রাম এবং আর্ম সিলিং বা এলবো ব্যাগ ব্যবহার করলে ব্যথা কমে আসবে। প্রতি ঘণ্টায় দশ মিনিট করে গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক লাগালে ফোলা ও ব্যথা কম হবে। ননস্টেরয়ডাল এন্টিইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ সেবন করলে ব্যথা কমে যাবে। স্টেরয়েড ইনজেকশন পুশ করলে রোগের উপসর্গ দ্রুত লাঘব হবে। স্ট্রেসিং, পেশি নমনীয় ও পেশি শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করে জোড়াকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে ফিজিক্যাল থেরাপি-এসডব্লিউডি, ইউএসটি, আইআরআর ব্যবহার করতে হবে।

