home top banner

Health Tip

কাঁধের জোড়ায় ব্যথা হলে
19 January,14
Tagged In:  pain problem  shoulder joint pain  
  Viewed#:   125

shoulder-joint-painশরীরের অন্যান্য জোড়া বা জয়েন্ট থেকে কাঁধের জোড়ায় বেশি নড়াচড়া হয়। কাঁধের ত্রিশটি পেশির মধ্যে চারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এরা বাহুর নড়াচড়ায় সহায়তা করে। এ পেশি কিছু হাড়ের ওপর দিয়ে এবং কিছু হাড় ও লিগামেন্টের নিচ দিয়ে বিস্তৃত। কিছু কারণে এ জোড়ার নড়াচড়ার ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে। যেমন- হাড়ের গঠনগত অস্বাভাবিক আকৃতি (বাঁকা বা হুকের মতো), জোড়ার আর্থ্রাইটিস ও অতিরিক্ত হাড় (ওসটিওফাইটস), জয়েন্টের স্থানচ্যুতি, হাড়ের ফ্র্যাকচার ও অস্বাভাবিকভাবে হাড় জোড়া লাগা, বার্সার প্রদাহ, লিগামেন্ট হাড়ে পরিণত হওয়া, টেনডনের প্রদাহ, হাড়ের টিউমার, জোড়ার বিভিন্ন রোগ এবং ইনজুরি। এসব কারণে বাহুর নড়াচড়ার সময় হাড়ের সঙ্গে পেশির সংঘর্ষ হয়। মুভমেন্ট কমে যায় এবং ব্যথা হয়। ব্যথা অনুভূত হয় কাঁধের ভেতর, উপরিভাগ ও বাহুতে। কখনও কখনও ব্যথা কনুইয়ে যায়। ব্যথার জন্য কাঁধের পেশি শুকিয়ে যায় এবং পেশি দুর্বল হয়। ব্যথাযুক্ত কাঁধে কাত হয়ে ঘুমালে ব্যথা তীব্র হয় এবং ব্যথার জন্য ঘুমানো যায় না। ব্যথা, সীমিত মুভমেন্ট ও পেশি দুর্বলতার জন্য পিঠ চুলকানো, চিরুনি দিয়ে মাথা আঁচড়ানো, জামার বোতাম লাগানো, প্যান্টের পেছনের পকেটে হাত দেয়া ইত্যাদি কষ্টকর হতে পারে। কাঁধে কোনো নির্দিষ্ট নড়াচড়ায় ক্রিপিটাস বা ক্রেকলিং সেনসেশন হয় বা শব্দ শোনা যায়।

চিকিৎসা ও প্রতিকার
এ সমস্যা হলে দীর্ঘদিন বিনা চিকিৎসায় থাকলে কাঁধের পেশি দুর্বল হয়, কাঁধ শক্ত হয়ে যায় এবং আর্থ্রাইটিস হয়ে জোড়া নষ্ট হয়। সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে ক্ষতি থেকে জোড়াকে রক্ষা করা যায়। কাঁধের ব্যথার তীব্রতা ও কারণ অনুসন্ধান করতে রোগের ইতিহাস জানতে হবে, রোগের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কাঁধের শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে এবং কিছু প্রয়োজনীয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যেমন এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাফি ও এমএরআই-এর সাহায্য নিতে হবে।

মেডিক্যাল চিকিৎসা
বিশ্রাম এবং আর্ম সিলিং বা এলবো ব্যাগ ব্যবহার করলে ব্যথা কমে আসবে। প্রতি ঘণ্টায় দশ মিনিট করে গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক লাগালে ফোলা ও ব্যথা কম হবে। ননস্টেরয়ডাল এন্টিইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ সেবন করলে ব্যথা কমে যাবে। স্টেরয়েড ইনজেকশন পুশ করলে রোগের উপসর্গ দ্রুত লাঘব হবে। স্ট্রেসিং, পেশি নমনীয় ও পেশি শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করে জোড়াকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে ফিজিক্যাল থেরাপি-এসডব্লিউডি, ইউএসটি, আইআরআর ব্যবহার করতে হবে।

আর্থ্রােস্কোপিক সার্জারি
কনজারভেটিভ চিকিৎসায় ভালো না হলে এবং রোগের পুনরাবৃত্তি হলে আর্থ্রােস্কোপ দিয়ে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে কাঁধে প্রবেশ করিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এর মাধ্যমে ১. অস্বাভাবিক আকৃতির হাড় সেভিং করে গঠন ঠিক করা হয়, ২. অতিরিক্ত হাড় রিমুভ করা হয়, ৩. বার্সাইটিস ও আর্থ্রাইটিস হলে বিসংকোচন করা হয়, ৪. লিগামেন্ট হাড়ে পরিণত হলে বিচ্ছেদ করা হয় এবং ৫. ল্যাবরাম রিপেয়ার করে জোড়া স্থানচ্যুতি বন্ধ করা হয়। আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির পর নিয়মিত ও পরিমিত পরিচর্যা করে জোড়াকে আগের অবস্থায় দ্রুত ফিরিয়ে আনা হয়। 
 
সূত্র - যুগান্তর

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জিরো ফিগারঃ
Previous Health Tips: শীতেও চলুক ব্যায়াম

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')