home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

বার্ধক্যে স্বাস্থ্য ঠিকঃ পর্ব ১
২২ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Tagged In:  pain problem  neck pain  
  Viewed#:   101

neck-pain

বার্ধক্যে ঘাড়ে ব্যথা
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ঘাড়ের ব্যথায় ভোগেন। এই ব্যথা হওয়ার পেছনে নানাবিধ কারণ রয়েছে, যেমন- আঘাত লাগা, পজিশনাল অর্থাৎ ঘাড়ের নড়াচড়ার কারণে ব্যথা বা সঠিক নয় এমন পজিশনে ঘুমিয়ে পড়া, হাড়ে ইনফেকশন, অস্টিওপোরাসিস, টিউমার, সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস ইত্যাদি। বয়স বাড়লে ঘাড়ে ব্যথা সার্ভাইক্যাল স্পনডাইলোসিসের জন্য বেশি হয়। যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি তাদের এ রোগ দেখা যায়। ঘাড়ের দুই হাড়ের মধ্যবর্তী তরুণাস্থির বার্ধক্যজনিত পরিবর্তনের ফলে স্পনডাইলোসিস হয়।

উপসর্গ
* ঘাড়ে ব্যথা হওয়া
* ব্যথা অনেক সময় হাতের দিকে ছড়িয়ে পড়া
* ঘাড় নাড়াতে না পারা এবং ঘোরালে বা পেছনে বাঁকা করলে ব্যথা বৃদ্ধি পেয়ে ঘাড়ের মাংসপেশিতে কামড়ানো ভাব হয়
* হাতের আঙুল ঝিনঝিন করা
* হাত বা হাতের আঙুলে অবশ অবশ ভাব হওয়া
* শরীরের অন্য স্থানে মাঝে মাঝে ব্যথা ছড়িয়ে যায়, যেমন কাঁধে বা মাথার পেছনের দিকে

চিকিৎসা ও প্রতিকার
রোগটি ভালো হওয়ার নয়, ভালো থাকার রোগ। এ রোগের চিকিৎসায় রোগীর সহযোগিতা প্রয়োজন। ভালো থাকতে হলে-
* ব্যথা উপশমকারী ওষুধ, যেমন- ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম, আইবুপ্রোফেন, নেপরেক্সিন ইত্যাদি গ্র“পের ওষুধ চিকিসকের পরামর্শে ভরা পেটে খাওয়া যেতে পারে। ব্যথা বেশি থাকলে পেপটিক আলসার থাকলে পায়ুপথে কিংবা মাংসপেশিতে ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ ব্যবহার করা যায়। ওষুধ বেদনাদায়ক স্থানে বাহ্যিক ব্যবহার করা যায়।
* রোগীকে মাংসপেশি শিথিলকরণ ওষুধ, যেমন ডায়াজিপাম দেয়া হয়ে থাকে। সব সময় ওষুধ খেতে হবে এমন কথা নেই, চিকিৎসকের নির্দেশানুযায়ী নিয়মকানুন মেনে চললে রোগী ভালো থাকবেন।
সার্ভাইক্যাল কলার : ঘাড়ে প্রচণ্ড ব্যথা থাকা অবস্থায় ঘাড়কে বিশ্রাম দেওয়া জরুরি। কলার ব্যবহার করে ঘাড়কে বিশ্রাম দিতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় কলার খুলে ফেলা উচিত।
সার্ভাইক্যাল ট্রাকশন : সাধারণত কম ওজন দিয়ে সার্ভাইক্যাল ট্রাকশন শুরু করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ৬-১২ কেজি ওজনের ট্রাকশন দেওয়া হয়ে থাকে। রোগীর ওজন, বয়স এবং পুরুষ-মহিলা ভেদে ট্রাকশন প্রদত্ত ওজন কম-বেশি হয়। ট্রাকশন দেওয়ার সময় রোগীর কোনো অসুবিধা হলে ট্রাকশন দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বলা হয়ে থাকে রোগী যতটুকু ওজনে আরাম বোধ করেন ততটুকু ওজন দিয়ে শুরু করা উচিত এবং আরামবোধ ধরে রেখেই ধীরে ধীরে ওজন বাড়ানো উচিত।
থার্মোথেরাপি : ডিপহিট চিকিৎসা এ রোগে প্রয়োগ করা হয়। যেমন শর্টওয়েভ ডায়াথারমি, মাইক্রোওয়েভ ডায়াথারমি ও আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি। অল্প গরম পানির মধ্যে গামছা ভিজিয়ে ঘাড়ে সেঁক দেয়া যায়।
ব্যায়াম : থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, যেমন আইসোমেট্রিক নেক মাসলস স্ট্রেনদেনিং এক্সারসাইজ, সোল্ডার ইলিভেসন এক্সারসাইজ ইত্যাদি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

থেরাপি ও ব্যায়াম কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন। ইনফেকশনের জন্য ঘাড়ে ব্যথা হলে বিশ্রাম নিতে হবে, কলার ব্যবহার করা ছাড়াও ওষুধ খেতে হবে। থার্মোথেরাপি দেয়া যাবে না।
ভালো থাকার পরামর্শ
* চলাফেরার সময় কলার ব্যবহার করুন।
* শোয়ার সময় ছোট নরম একটা বালিশ রোল করে ব্যবহার করবেন।
* ফোমের বিছানায় ঘুমাবেন না।
* যে কোনো এক কাত হয়ে ঘুম থেকে উঠবেন।
* ঝুঁকে কোনো কাজ করবেন না।
* চেয়ারে বসার সময় ঘাড় ও পিঠ সোজা রেখে বসবেন।
* সোজা হয়ে গোসল করবেন।
* টিউবওয়েল চাপবেন না।
* ঘাড় সোজা রেখে দাঁড়িয়ে রান্না করবেন। প্রয়োজনে চেয়ারে বসবেন।
* ঘাড় পেছনের দিকে বাঁকিয়ে কোনো কাজ (যেমন উপরের দেয়ালের ময়লা পরিষ্কার করা, গাল শেভ করা ইত্যাদি) করবেন না।
* আধা শোয়া অবস্থায় শুয়ে কোনো কাজ (যেমন- খবরের কাগজ পড়া, টিভি দেখা ইত্যাদি) করবেন না।
* গাড়িতে চড়ার সময় সামনের আসনে বসবেন, কখনো দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
* কলার পড়া অবস্থায় গাড়ি চালাবেন না।
* চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।
* ব্যথা বেশি থাকা অবস্থায় ব্যায়াম করবেন না।
* কোনো প্রকার মালিশ করবেন না।

সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: জিহ্বায় ব্যথা ও জ্বালাপোড়া
Previous Health Tips: প্রতিদিন হাসি মুখে থাকতে পারার জন্য ১৬ টি উপায়

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')