জিহ্বায় ব্যথাকে ডাক্তারি ভাষায় গ্লসোডাইনিয়া বলা হয়। গ্লসো বলতে বোঝায় জিহ্বা আর ডাইনিয়া অর্থ ব্যথা। জিহ্বার ব্যথার সঙ্গে জ্বালাপোড়া ভাব অনুভূত হতে পারে সেগুলো হলো_
দীর্ঘমেয়াদি মুখের প্রদাহ
দাঁত তোলার সময় স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে।
শুষ্ক মুখের বিরূপ প্রতিক্রিয়া
মুখে ছত্রাক সংক্রমণ
ভিটামিনের স্বল্পতার কারণে।
অ্যালার্জিজনিত কারণে
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে
মানব দেহের হরমোনের তারতম্যের কারণে
তামাকসামগ্রী ব্যবহারের কারণে
দুশ্চিন্তা বা বিষণ্নতায়
কিছু ওষুধ সেবনের কারণে
যেমন- ক. ডাইয়ুরেটিকস জাতীয় ওষুধ, খ. ডায়াবেটিস রোগে মুখে খাওয়ার ওষুধ, গ. দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধ সেবন গ্লসোডাইনিয়া বা জিহ্বায় ব্যথা বার্নিং মাউথ সিনড্রোমের একটি লক্ষণ হতে পারে। তবে বার্নিং মাউথ সিনড্রোমে শুধু জিহ্বাই আক্রান্ত হয় না বরং মুখের বিভিন্ন স্থান আক্রান্ত হতে পারে। গ্লসোডাইনিয়ায় জিহ্বায় জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে এমনকি খাবার সময় কোনো ঝাল জাতীয় খাবার না খেলেও। জিহ্বার ব্যথা কতদিন স্থায়ী হবে তা নির্ভর করে কী কারণে ব্যথা অনুভূত হচ্ছে তার ওপর। যদি মুখের অভ্যন্তরে কোনো ধারালো দাঁত থাকে তাহলে অবশ্যই তার সমাধান করতে হবে দ্রুত। তা না হলে জিহ্বার ব্যথা কোনোভাবেই দূরীভূত হবে না।
চিকিৎসা:
যেসব কারণে জিহ্বার প্রদাহ হতে পারে তা সমাধান করতে হবে।
দাঁতে স্থাপিত ক্রাউন বা কৃত্রিম দাঁত অমসৃণ থাকলে তা মসৃণ করতে হবে।
ফিলিংয়ের অসম স্থান মসৃণ করতে হবে।
স্থানীয়ভাবে প্রয়োগকারী কিছু মলম যথাযথ পদ্ধতিতে অন্য ওষুধের সঙ্গে মিশ্রিত করা প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে আমাদের দেশে যেসব মলম সচরাচর প্রয়োগ করা হয় অনেক ক্ষেত্রেই তা রোগীর কোনো কাজে আসে না।
রিংগয়াল নার্ভ বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাইক্রোসার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
বেনজোডায়জিপিন বা বিষণ্নতানাশক ওষুধ প্রয়োজন হলে প্রয়োগ করতে হবে। একটি কথা না বললেই নয়। জিহ্বায় ব্যথা বা গ্লসোডাইনিয়া প্রায় ১৫০টি কারণে হতে পারে। সবার সচেতনতার জন্য একটি গাইডলাইন প্রদান করা হলো। তার মানে নয় চিকিৎসা স্বল্প পরিসরে সীমাবদ্ধ।
সূত্র - দৈনিক যায়যায়দিন

