ডিমে এতো বেশি ভিটামিন রয়েছে যে প্রায়ই একে 'প্রকৃতির মাল্টিভিটামিন' বলা হয়ে থাকে। গোলসদৃশ এ খাদ্যবস্তুটির ভেতরে অনন্য মানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। আর আছে মস্তিষ্কের জন্য অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
তাই সবাইকে ডিম খাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা। এখানে ডিম খাওয়ার ৬টি উপকারিতাবিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
১. পুষ্টি উপাদানে পরিপূর্ণ ডিম :
ডিমের খোসাটি ছাড়া অবশিষ্ট যা আছে তা প্রকৃতির সবচেয়ে পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য। একটু ভেবে দেখুন, ডিমের মধ্যে পুষ্টির পরিমাণ এতো বেশি যে, তা একটি ভ্রূণকে আস্ত একটি মুরগি বানিয়ে ফেলে।
ডিমে ভিটামিন, খনিজ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটিন, ভালো মানের ফ্যাট এবং নানা লেজার রশ্মিতে দেখা যায় এমন উপাদানের ছড়াছড়ি। অনেকেই হয়তো জানেন, তবুও একটি পরিপূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো।
প্রমাণ সাইজের একটি ডিমে রয়েছে :
ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন), যা আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ৯ শতাংশ
ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন), যা আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ১৫ শতাংশ
ভিটামিন 'এ', যা আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ৬ শতাংশ
ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক এসিড), আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ৭ শতাংশ
সেলেনিয়াম, আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ২২ শতাংশ
এ ছাড়া মানব দেহের জন্য দরকারী খনিজ ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন 'ই', ফোলেটসহ আরো অনেক উপাদান কিছু না কিছু পরিমাণ রয়েছে।
বড় আকারের একটি ডিম থেকে ৭৭ ক্যালরি পাওয়া যায় যাতে ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম ফ্যাট এবং কার্বহাইড্রেট আছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।
ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন এবং ভিটামিনের অন্যান্য উপাদান কুসুমে রয়েছে।
২. দেহে আদর্শ কলেস্টেরল মাত্রা বজায় রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় :
অবশ্য মানুষ ডিমের কলেস্টেরল নিয়ে আতঙ্কে ভোগেন। ডিমে ২২ মিলিগ্রাম কলেস্টেরল থাকে যা অন্য যেকোনো খাবারের চেয়ে বেশি। কিন্তু কলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাবার মানে এই নয় যে, তা রক্তে ক্ষতিকর কলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন আপনার লিভার প্রয়োজনীয় কলেস্টেরল তৈরি করে। আপনি বাড়তি কলেস্টেরল খেলে লিভার তা কম উৎপাদন করবে। আর না খেলে বেশি উৎপাদন করবে।
অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গবেষকরা দেখেছেন, ডিম মূলত শরীরে ভালো কলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষতিকর কলেস্টেরল (এলডিএল) কমিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় মাত্রা বজায় রাখে।
তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের হৃদযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি ডিম বাড়িয়ে দেয়, বেশ কিছু গবেষণায় এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ জন্য আরো গবেষণা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, যেসব ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা নির্দিষ্ট, তাদের জন্য ডিম ক্ষতিকর হতে পারে।
৩. মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কোলিন রয়েছে ডিমে :
কোলিন অতি সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদান যা লেজার রশ্মিতে ধরা পড়ে। একে প্রায়ই বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনের গ্রুপে ফেলা হয়। স্বাস্থ্য ও দেহের নানা কাজে কোলিন অতি জরুরি।
কোলিন মেমব্রেনের একটি উপাদান। তা ছাড়া মস্তিষ্ক থেকে বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ বা অনুভূতি পৌঁছাতে ক্রিয়াশীল রাসায়নিক কার্যক্রমকে আদর্শভাবে পরিচালিত করতে এই কোলিন প্রয়োজন। কোলিনের ঘাটটিতে লিভারে সমস্যা, হৃদযন্ত্রের রোগ এবং স্নায়বিক বৈকল্যতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য কোলিন অতি দরকারী। কম পরিমাণ কোলিন গ্রহণে গর্ভবতী নারীর ভ্রূণের সঙ্গে সংযুক্ত টিউবে ত্রুটি সৃষ্টি করে।
৪. এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ উচ্চমানের প্রোটিন :
ডিমে রয়েছে এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ উচ্চমানের প্রোটিন। দেহের কাঠামোগত এবং অভ্যন্তরীণ কাজের ভিত্তি গড়ে তোলে প্রোটিন। দেহের জন্য প্রয়োজন হয় এমন প্রোটিন গঠনের জন্য ২১টি এমাইনো এসিড লাগে। মানবদেহ ৯টির বেশি এমাইনো এসিড তৈরি করতে পারে না। বাকিগুলো অবশ্যই খাদ্যবস্তু থেকে যোগাড় করতে হয়। আর এ জন্য ডিমের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রোটিন পেতে হলে এমাইনো এসিড তৈরিতে ডিমের নম্বর ১০০-তে ১০০।
৫. চোখের জন্য উপকারী ল্যুটেন এবং জিঅ্যাক্সাথিনে পরিপূর্ণ ডিম :
ডিমে দুই ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা চোখের জন্য দারুণ উপকারী। একটি ল্যুটেন এবং আরেকটি জিঅ্যাক্সাথিন। এ দুটি উপাদান রেটিনাতে কাজ করে। পরিণত বয়সে চোখে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা এমনকি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় ডিমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরো একটি কুসুম এবং আরেকটির এক-তৃতীয়াংশ প্রতিদিন একাধারে সাড়ে ৪ সপ্তাহ খেলে রক্তে ল্যুটেন ২৮-৫০ শতাংশ হারে এবং জিঅ্যাক্সাথিন ১১৪-১৪২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়।
৬. দেহের স্থূলতা কমায় :
সকালের নাস্তায় ডিম দেহের স্থূলতা কমিয়ে দেয়। সামান্য মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট ধারণ করে ডিম। কিন্তু অধিক পরিমাণে প্রোটিন এবং ফ্যাট থাকে। খাদ্য গ্রহণের পর কতখানি খাবার তৃপ্তি দিয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে একটি ইনডেক্স তৈরি হয়েছে যার নাম স্যাটিইটি ইনডেক্স। ডিম এই ইনডেক্সের উচ্চ স্কেলে রয়েছে।
সকালের নাস্তায় ডিম থেকে ক্যালরি নিয়েছেন এমন মানুষের দেহ অনেক ফিট। কিন্তু সমান ক্যালরি রয়েছে এমন ডিমবিহীন খাবার যারা খেয়েছেন তাদের দেহ অনেক বেশি স্থূলকায়।
যেসব মেয়েরা সকালের নাস্তার সঙ্গে ডিম খান তারা পরের ৩৬ ঘণ্টা দৈহিকভাবে ফিট থাকেন। টানা ৮ সপ্তাহ ডিম খেয়ে বহু নারীর আগের স্থূলতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।
সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার
ধন্যবাদ এমন উপকারী পোস্ট দেবার জন্যে, আশা করি আগামীতে আরো ভালো ভালো পোস্ট উপহার দিবেন.


Comments