home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ডিম খাওয়ার পক্ষে ৬টি জোরালো কারণ
২২ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Tagged In:  eggs for health  egg nutrient  
  Viewed#:   563   Comments#:   1   Favorites#:   1

eggs-for-healthডিমে এতো বেশি ভিটামিন রয়েছে যে প্রায়ই একে 'প্রকৃতির মাল্টিভিটামিন' বলা হয়ে থাকে। গোলসদৃশ এ খাদ্যবস্তুটির ভেতরে অনন্য মানের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। আর আছে মস্তিষ্কের জন্য অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
তাই সবাইকে ডিম খাওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা। এখানে ডিম খাওয়ার ৬টি উপকারিতাবিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

১. পুষ্টি উপাদানে পরিপূর্ণ ডিম :
ডিমের খোসাটি ছাড়া অবশিষ্ট যা আছে তা প্রকৃতির সবচেয়ে পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য। একটু ভেবে দেখুন, ডিমের মধ্যে পুষ্টির পরিমাণ এতো বেশি যে, তা একটি ভ্রূণকে আস্ত একটি মুরগি বানিয়ে ফেলে।
ডিমে ভিটামিন, খনিজ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন প্রোটিন, ভালো মানের ফ্যাট এবং নানা লেজার রশ্মিতে দেখা যায় এমন উপাদানের ছড়াছড়ি। অনেকেই হয়তো জানেন, তবুও একটি পরিপূর্ণ তালিকা দেওয়া হলো।

প্রমাণ সাইজের একটি ডিমে রয়েছে :
ভিটামিন বি১২ (কোবালামিন), যা আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ৯ শতাংশ
ভিটামিন বি২ (রিবোফ্লাভিন), যা আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ১৫ শতাংশ
ভিটামিন 'এ', যা আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ৬ শতাংশ
ভিটামিন বি৫ (প্যান্টোথেনিক এসিড), আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ৭ শতাংশ
সেলেনিয়াম, আদর্শমানের খাদ্য তালিকার ২২ শতাংশ

এ ছাড়া মানব দেহের জন্য দরকারী খনিজ ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন 'ই', ফোলেটসহ আরো অনেক উপাদান কিছু না কিছু পরিমাণ রয়েছে।
বড় আকারের একটি ডিম থেকে ৭৭ ক্যালরি পাওয়া যায় যাতে ৬ গ্রাম প্রোটিন, ৫ গ্রাম ফ্যাট এবং কার্বহাইড্রেট আছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ।
ডিমের সাদা অংশে প্রোটিন এবং ভিটামিনের অন্যান্য উপাদান কুসুমে রয়েছে।

২. দেহে আদর্শ কলেস্টেরল মাত্রা বজায় রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় :
অবশ্য মানুষ ডিমের কলেস্টেরল নিয়ে আতঙ্কে ভোগেন। ডিমে ২২ মিলিগ্রাম কলেস্টেরল থাকে যা অন্য যেকোনো খাবারের চেয়ে বেশি। কিন্তু কলেস্টেরলসমৃদ্ধ খাবার মানে এই নয় যে, তা রক্তে ক্ষতিকর কলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিন আপনার লিভার প্রয়োজনীয় কলেস্টেরল তৈরি করে। আপনি বাড়তি কলেস্টেরল খেলে লিভার তা কম উৎপাদন করবে। আর না খেলে বেশি উৎপাদন করবে।
অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গবেষকরা দেখেছেন, ডিম মূলত শরীরে ভালো কলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়িয়ে দেয় এবং ক্ষতিকর কলেস্টেরল (এলডিএল) কমিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় মাত্রা বজায় রাখে।
তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের হৃদযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি ডিম বাড়িয়ে দেয়, বেশ কিছু গবেষণায় এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ জন্য আরো গবেষণা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, যেসব ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকা নির্দিষ্ট, তাদের জন্য ডিম ক্ষতিকর হতে পারে।

৩. মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কোলিন রয়েছে ডিমে :
কোলিন অতি সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদান যা লেজার রশ্মিতে ধরা পড়ে। একে প্রায়ই বি-কমপ্লেক্স ভিটামিনের গ্রুপে ফেলা হয়। স্বাস্থ্য ও দেহের নানা কাজে কোলিন অতি জরুরি।
কোলিন মেমব্রেনের একটি উপাদান। তা ছাড়া মস্তিষ্ক থেকে বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ বা অনুভূতি পৌঁছাতে ক্রিয়াশীল রাসায়নিক কার্যক্রমকে আদর্শভাবে পরিচালিত করতে এই কোলিন প্রয়োজন। কোলিনের ঘাটটিতে লিভারে সমস্যা, হৃদযন্ত্রের রোগ এবং স্নায়বিক বৈকল্যতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য কোলিন অতি দরকারী। কম পরিমাণ কোলিন গ্রহণে গর্ভবতী নারীর ভ্রূণের সঙ্গে সংযুক্ত টিউবে ত্রুটি সৃষ্টি করে।

৪. এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ উচ্চমানের প্রোটিন :
ডিমে রয়েছে এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ উচ্চমানের প্রোটিন। দেহের কাঠামোগত এবং অভ্যন্তরীণ কাজের ভিত্তি গড়ে তোলে প্রোটিন। দেহের জন্য প্রয়োজন হয় এমন প্রোটিন গঠনের জন্য ২১টি এমাইনো এসিড লাগে। মানবদেহ ৯টির বেশি এমাইনো এসিড তৈরি করতে পারে না। বাকিগুলো অবশ্যই খাদ্যবস্তু থেকে যোগাড় করতে হয়। আর এ জন্য ডিমের কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রোটিন পেতে হলে এমাইনো এসিড তৈরিতে ডিমের নম্বর ১০০-তে ১০০।

৫. চোখের জন্য উপকারী ল্যুটেন এবং জিঅ্যাক্সাথিনে পরিপূর্ণ ডিম :
ডিমে দুই ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা চোখের জন্য দারুণ উপকারী। একটি ল্যুটেন এবং আরেকটি জিঅ্যাক্সাথিন। এ দুটি উপাদান রেটিনাতে কাজ করে। পরিণত বয়সে চোখে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা এমনকি চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় ডিমের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুরো একটি কুসুম এবং আরেকটির এক-তৃতীয়াংশ প্রতিদিন একাধারে সাড়ে ৪ সপ্তাহ খেলে রক্তে ল্যুটেন ২৮-৫০ শতাংশ হারে এবং জিঅ্যাক্সাথিন ১১৪-১৪২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পায়।

৬. দেহের স্থূলতা কমায় :

সকালের নাস্তায় ডিম দেহের স্থূলতা কমিয়ে দেয়। সামান্য মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট ধারণ করে ডিম। কিন্তু অধিক পরিমাণে প্রোটিন এবং ফ্যাট থাকে। খাদ্য গ্রহণের পর কতখানি খাবার তৃপ্তি দিয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে একটি ইনডেক্স তৈরি হয়েছে যার নাম স্যাটিইটি ইনডেক্স। ডিম এই ইনডেক্সের উচ্চ স্কেলে রয়েছে।

সকালের নাস্তায় ডিম থেকে ক্যালরি নিয়েছেন এমন মানুষের দেহ অনেক ফিট। কিন্তু সমান ক্যালরি রয়েছে এমন ডিমবিহীন খাবার যারা খেয়েছেন তাদের দেহ অনেক বেশি স্থূলকায়।
যেসব মেয়েরা সকালের নাস্তার সঙ্গে ডিম খান তারা পরের ৩৬ ঘণ্টা দৈহিকভাবে ফিট থাকেন। টানা ৮ সপ্তাহ ডিম খেয়ে বহু নারীর আগের স্থূলতা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।

সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

Please Login to comment and favorite this Health Tip

Comments

Md. Ashikur Rahman | Feb 22, 2014

ধন্যবাদ এমন উপকারী পোস্ট দেবার জন্যে, আশা করি আগামীতে আরো ভালো ভালো পোস্ট উপহার দিবেন.

Next Health Tips: প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত
Previous Health Tips: জিহ্বায় ব্যথা ও জ্বালাপোড়া

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')