জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মহিলাদের স্তনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ম্যাস্টালজিয়া বলে। হরমোনের পরিবর্তনের জন্য এটি হয়ে থাকে। স্তনে ব্যথার সঙ্গে চাকা বা গুটি অনুভূত হতে পারে। অনেকে এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন। আসলে এটা সবসময় মারাত্মক কিছু নয়।
হরমোন নির্ভরশীল এ পরিবর্তন, সাধারণত ৫৫ বছর বয়সের নিচে এবং যে মহিলার মাসিক এখনও বন্ধ হয়নি তাদের হতে পারে। কোনো কোনো মহিলার মাসিকের আগে ব্যথা ও গুটির সমস্যা হয়। মাসিকের পর তা কমে যায়। রক্তে হরমোনের লেভেল স্তনের টিস্যুকে প্রভাবিত করে। কোনো কোনো সময় ব্যথা তীব্র এবং সব সময় থাকে, ব্যথা হাতেও ছড়িয়ে যেতে পারে। অনেকে ভাবেন স্তন ক্যান্সার হয়েছে। আসলে এটা ক্যান্সার নয়। ক্যান্সারের কারণে স্তনে ব্যথা হয় না। তবে স্তনে গুটি কিংবা ম্যাস্টালজিয়া হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। তিনি পরীক্ষা করে কী কারণে অসুবিধা হচ্ছে তা বলতে পারবেন।
মেমোগ্রাম
মেমোগ্রাম স্তনের এক্স-রে। ৩০ বছর বয়সের উপরে এটা বেশি কাজ করে। কারণ তখন স্তনের টিস্যু কম গ্লান্ডুলার থাকে এবং এক্স-রের ছবি ভালো আসে।
আল্ট্রাসাউন্ড
শব্দ তরঙ্গ দিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়। ছোট একটা মাইক্রোফোন জাতীয় যন্ত্র স্তনের ওপর ধরা হয় এবং স্তনের গুটি, সিস্ট অথবা স্বাভাবিক স্তন এই পরীক্ষায় ধরা পড়ে। সব বয়সের মহিলাদের জন্য এটা কার্যকর পরীক্ষা।
ফাইন নিডেল এসপিরেশন সাইটোলজি
একটি সূক্ষ্ম সুই দ্বারা স্তনের গুটি থেকে কিছু কোষ সরিয়ে তা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দ্বারা পরীক্ষা করা হয়।
চিকিৎসা
এ রোগ ধরা পরলে রোগিকে আশ্বস্ত করা যায়। রোগের উপসর্গ যদি বেশি না থাকে, তাহলে কোনো ওষুধ পত্রের প্রয়োজন হয় না। এটি নিজেই ভালো হয়ে যায়, তবে কয়েক মাস লাগতে পারে।
উপসর্গ যদি থেকে যায় অথবা রোগী যদি উপসর্গের জন্য কষ্ট পেতে থাকেন তাহলে বিভিন্ন রকমের চিকিৎসা দেয়া হয়। যেমন-
ইভিনিং প্রিমরোজ অয়েল ক্যাপসুল
এটি খেলে স্তনের ব্যথা এবং চাকা ও শক্তভাব কমে যায়। বিশেষ করে মাসিকের আগে যখন উপসর্গ বাড়ে তখন এ ক্যাপসুল খাওয়া যায়। সবার ক্ষেত্রে এটা কাজ না-ও করতে পারে এবং কাজ করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। ওষুধের দামও বেশি।
কেফিন
চা অথবা কফি বেশি খেলে স্তনে ব্যথা হতে পারে। তাই এ খাবার খাওয়া কমিয়ে দিলে রোগী ভালো থাকে।
দুশ্চিন্তা
দুশ্চিন্তায় মাথাব্যথা, ঘুম কম হওয়া, বিরক্ত হওয়া এবং ক্লান্ত হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাস্টালজিয়া হতে পারে। তাই দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
ব্রা
সঠিক ফিটিং ব্রা অনেক সময় ব্যথা সারাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য।
হরমোন থেরাপি
যদি উপসর্গ বেশি হয় তাহলে হরমোন থেরাপি দেয়া যেতে পারে। হরমোন খাবার সময় গর্ভধারণ করা যাবে না। এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে।
সূত্র - যুগান্তর.কম

