home top banner

Health Tip

আলসার ও ব্রংকাইটিস প্রতিরোধে এবং লিভার সুরক্ষায় যষ্টিমধু অনন্য
22 September,13
Tagged In:  pain problem  
  Viewed#:   254

পরিচিতি যষ্টিমধু বহুবর্ষজীবী গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর কাণ্ড বহু শাখাবিশিষ্ট, তিন-চার ফুট লম্বা, সরল ও নরম হয়ে থাকে। এর পাতা দণ্ডের উভয় দিকে সমান্তরালভাবে বিন্যস্ত এবং দণ্ডের অগ্রভাগে একটি পাতা থাকে। এর পাতাগুলো ডিম্বাকৃতির, সবুজ ও মসৃণ। পুষ্পদণ্ডের উভয় দিকে হালকা গোলাপি বর্ণের ফুল ফোটে। এর ফল পডজাতীয় এবং এর প্রতিটি ফলে দুই-পাঁচটি বীজ থাকে। এর মূল বেশ মোটা, গোলাকার ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত। কার্যকর জৈব রাসায়নিক উপাদান যষ্টিমধুর প্রধান কার্যকর রাসায়নিক উপাদানটি হলো ট্রাইতারপিনয়েড স্যাপোনিন গ্লিসাইরিজিন (গ্লিসাইরিজিনিক অ্যাসিডের পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম লবণের মিশ্রণ)।

এ ছাড়াও এতে রয়েছে গ্লাবরানিন এ ও বি, গ্লিসাইরেটল, গ্ল্যাবরোলাইড, আইসোগ্ল্যারোলাইড নামে ট্রাইতারপিনয়েড স্যাপেনিন; ফরমোনোনেটিন, গ্ল্যাবরোন, নিওলিকুইরিটিন, হিসপা-গ্ল্যাবরিডিন এ ও বি নামে আইসোফাবন; হারনিয়ারিন, আম্বিলিফেরন নামক কৌমারিন এবং আনোসেরিন, এমাইরিন, স্টিগমাস্টেরল নামক ট্রাইতারপিন স্টেরল ইত্যাদি। আধুনিক গবেষণা ও ঔষধি গুণাবলি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় যষ্টিমধু ব্যবহারের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। আর এত ব্যবহারই আধুনিক কালের গবেষকদের দৃষ্টি এর প্রতি ফিরিয়ে আনে। এ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে আবিষ্কৃত এর ঔষধি গুণাবলির ব্যাখ্যা নিম্নে দেয়া হলো : আলসার প্রতিরোধে যষ্টিমধুতে রয়েছে আলসার প্রতিরোধী ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান।

তাই এটি এসপিরিন-জাতীয় ওষুধের প্রভাবে সৃষ্ট আলসারসহ সব ধরনের আলসার প্রতিরোধ ও নিরাময়ে কার্যকর। যষ্টিমধু গ্যাস্ট্রিক মিউকোসা থেকে মিউকাস রসসহ আলসার প্রতিরোধী অন্যান্য রসের নিঃসরণ বাড়ানোর মাধ্যমে আলসার প্রতিহত করে। শ্বাসনালীর প্রসারণ ও কফ নিঃসরণে যষ্টিমধুতে বিদ্যমান গ্লিসাইরিজিন শ্বাসনালী প্রসারিত করে এবং ভেতরে জমে থাকা কফ নরম করে বের করে দেয়। এটি ফুসফুসের ব্রংকিয়াল পেশির সঙ্কোচন প্রতিহত করে। তাই এটি কণ্ঠস্বরের কর্কশভাব দূর করে এবং যেসব ভাইরাস শ্বসনতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি ও অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণা থেকে জানা যায়, এটি সার্স (SARS) রোগ প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ভাইরাস প্রতিরোধে যষ্টিমধুতে বিদ্যমান গ্লিসাইরিজিন ভাইরাসের বৃদ্ধি রোধ এবং T-লিস্ফোসাইট ও NK কোষের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।

এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যষ্টিমধু আমাদের ইনফুয়েঞ্জা ভাইরাস ও হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা করে। যকৃৎ সুরক্ষায় আধুনিক কালের গবেষণায় যষ্টিমধুর যকৃৎ প্রতিরক্ষাকারী গুণের প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষণা থেকে জানা যায়, যষ্টিমধু এসপারটেট এমিনো ট্রান্সফারেজ (AST), এলানিন এমিনো ট্রান্সফারেজ (ALT), ল্যাকটেট ডিহাইট্রোজেনেজের (LDH) এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং আমাদের লিভার বা যকৃৎ সুস্থ রাখে। শুধু তা-ই নয়, এটি আমাদের লিভার বা যকৃৎকে কার্বন-ট্রেটা-কোরাইড (CCl4), ক্যাডমিয়াম (Cd) সহ অন্যান্য বিষাক্ত বস্তুর হাত থেকেও আমাদের রক্ষা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যষ্টিমধু আমাদের কোষীয় ও অ্যান্টিবডি নির্ভর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। ফলে আমাদের দুর্বলতা নিরসনে ও রোগ প্রতিরোধে যষ্টিমধু কার্যকর ভূমিকা পালন করে। লোকজ ব্যবহার যষ্টিমধু এক অসাধারণ ভেষজ, যার লোকজ ব্যবহারের ঐতিহ্য অনেক পুরনো। নিম্নে যষ্টিমধু লোকজ ব্যবহার দেয়া হলো : অপুষ্টিজনিত কৃশতায় পুষ্টিহীনতা বা শরীরের বিপাকজনিত সমস্যায় যারা কৃশতায় ভুগছেন, তারা যদি প্রতিদিন অল্প যষ্টিমধু সেবন করেন, তবে উপকার পাবেন। জণ্ডিসে যারা জণ্ডিসে আক্রান্ত বা আগে জণ্ডিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের সবার আগে ডিম, ঝাল ও তেলজাতীয় খাবার বর্জন করতে হবে। আর যষ্টিমধু চূর্ণ করে এক গ্রাম মাত্রায় আধাকাপ গরম দুধসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে দু’বার খেতে হবে।

এভাবে পাঁচ-ছয় দিন খেলেই উপকার পাওয়া যাবে। মৃগী রোগে এ রোগের ক্ষেত্রে যষ্টিমধু চূর্ণ এক বা দুই গ্রাম মাত্রায় নিয়ে আধাকাপ পরিমাণ পাকা চালকুমড়ার রসের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন খেতে হবে। এর ফলে ওই রোগাক্রমণ যত তাড়াতাড়ি হচ্ছিল, সেটি আর হবে না। আর দীর্ঘ দিন ব্যবহার করতে পারলে, এ রোগ থেকে রেহাইও পাওয়া যেতে পারে। যৌন অতৃপ্তিতে যারা পরিপূর্ণ যৌনতৃপ্তি পাচ্ছেন না, তাদের যষ্টিমধু চূর্ণ এক গ্রাম মাত্রায় দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে ও বিকেলে দু’বার করে দু-তিন সপ্তাহ খেতে হবে।

তবে প্রথম সপ্তাহে একটু সংযত থাকতে হবে। বায়ুজনিত পেট ব্যথায় যাদের পেটে বায়ুজনিত ব্যথা হয়, সে ক্ষেত্রে যষ্টিমধু চূর্ণ দেড়গ্রাম বা দুই গ্রাম মাত্রায় দুই বেলা খাওয়ার আগে পানিসহ খেতে হবে। তিন-চার দিন খাওয়ার ফলেই উপশম হয়ে যাবে। মূত্রাব রোধে বা প্রস্রাব আটকে যাওয়ায় পেট ফাঁপাজনিত কারণে প্রস্রাব তলপেটে জমে আছে কিন্তু বেগ নেই। এ ক্ষেত্রে ২-৩ গ্রাম যষ্টিমধু চূর্ণ ও ৭-৮টি কিশমিশ একত্রে বেটে একটু গরম পানিসহ খেলে তৎক্ষণাৎ প্রস্রাব হবে। ফোড়ায় এ ক্ষেত্রে যষ্টিমধু বেটে প্রলেপ দিলে ফোড়া পাকবে ও ফেটে যাবে। চোখ ঝাপসায় চোখে ঝাপসা দেখতে থাকলে শুকনো আমলকী ২-৩টা ১ গ্রাম পরিমাণ যষ্টিমধুর সাথে নিয়ে একটু থেঁত করে আধাকাপ গরম পানিতে ৫-৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার পর দুই-তিনবার সেঁকে সেই পানি দিয়ে চোখ ধুলে কয়েক দিনের মধ্যে এ সমস্যা কেটে যাবে। 

সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: আলসারেটিভ কোলাইটিস
Previous Health Tips: মানসিক রোগ: একটি গল্প ও কিছু কথা

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')