হাত-পা জ্বালাপোড়া
হাত-পা শির শির করা বা ঝিঁ ঝিঁ ধরার অনুভুতি হয় নি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। হ্যাঁ, দুই হাত বা দুই পা দীর্ঘক্ষন ধরে ক্রস করে রাখলে কিংবা দীর্ঘক্ষন হাত অথবা পায়ের উপর ভর করে থাকলে ঐ স্থানে রক্ত প্রবাহ কমে আসে এবং ভর উঠিয়ে নিলে প্রবল বেগে রক্তের প্রবাহ শুরুর কারনে ঐ ধরনের অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তবে এটা ক্ষনিকের জন্য।
অনেক সময় তীব্র ব্যাথার সাথে সুড়সুড়ি অনুভূতি লাগতে পারে। যদি কোন কারন তথা হাত-পা ক্রস করে না রাখা, ভর দিয়ে না রাখার পরও ব্যাথার সাথে সুড়সুড়ি লাগে, তাহলে সতর্ক থাকতে হবে। এটা হতে পারে স্নায়ুর কোন ক্ষতির কারনে। শির শির করা, কিংবা অনুভূতি শুন্য লাগা, এবং সাথে জ্বালাপোড়া হওয়াটা আসলে ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’র লক্ষণ।
এই ‘পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’ অনেক কারনে হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস, এ্যালকোহল আসক্তি, ভিটামিন ‘বি-১২’ এর অভাব, অন্যান্য সমস্যা যেমন শিঙ্গলস ইত্যাদি। এছাড়া ইনজুরি, ইনফেকশন, বিষক্রিয়ার ফলেও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কখনো কখনো চিকিৎসা ছাড়াই উপরোক্ত লক্ষনসমূহ সাময়িকভাবে দূর হয়ে যায়। এ্যাসপিরিন কিংবা ব্যাথানাশক ঔষধে অনেক সময় আরাম বোধ হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট, এন্টি-সেইজ্যুর ঔষধ প্রয়োগ, ফিজিক্যাল থেরাপি কিংবা সার্জারীর প্রয়োজন হতে পারে।
অনেক সময় আপনা থেকেই লক্ষণ কমে যায় বা তীব্রতা কম পরিলক্ষিত হয়। আর এ সুযোগে অনেকেই এটাকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু এধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করে দ্রুত চিকিৎসা না করালে আপনার হাত, পা অথবা শরীরের প্রান্তীয় এলাকাসমূহ ইনজুরির শিকার হতে পারে। অর্থাৎ নার্ভসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর এসব ইনজুরি বড় ধরনের কোন জটিলতার দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে পারে।
যদি আপনি ডায়াবেটিসের রোগী হন, তাহলে রক্তের সুগারের মাত্রা সব সময়ে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। এতে নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি’র বিদ্যমান লক্ষণসমূহ আস্তে আস্তে কমে আসবে।
(পরের পর্বে দেখুন অস্পষ্ট, যখন-তখন, ব্যাখ্যাতীত পেইন)
ডিসকভারি ফিট এন্ড হেলথ থেকে হেলথ প্রায়র ২১

