home top banner

Health Tip

হাঁটুর ব্যথায় হাঁটুন
22 March,14
Tagged In:  knee pain  pain problem  
  Viewed#:   183

Walk-with-knee-painহাঁটুর ব্যথা মানেই কি বাত? নাকি আর্থ্রাইটিসের সমস্যা? অন্তত ২৮-এর যৌবনে হাঁটুর ব্যথা এমনই চিন্তাদায়ক হয় বইকি। হাঁটু-কোমরের ব্যথা এখন বয়সের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেভাবে সর্বজনীন হয়ে পড়েছে, তাতে এহেন চিন্তা খুব অলৌকিক নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে বেশি চিন্তা না করে এক্সারসাইজ করা ভাল। দৌড়সর্বস্ব জীবনে যেভাবে কায়িক পরিশ্রম কমছে, তাতে শরীরের নানা অংশে এমন ব্যথা হামেশাই দেখা দিচ্ছে। প্রথমেই অপারেশনে না গিয়ে বাড়িতেই নানা এক্সারসাইজে, বা সামান্য হাঁটাহাঁটিতে সারতে পারে হাঁটুর ব্যারাম। ডাক্তাররা বললেন, খানিক ফিজিওথেরাপি আর নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম হাঁটুর ব্যথা কমিয়ে, জয়েন্ট মাসলও একেবারে টানটান করবে অল্প সময়ের মধ্যেই।

 
প্রাত্যহিক দিনের স্ট্রেচিং বা ফি-হ্যাণ্ড হাঁটুর ব্যথায় খুব গুরুত্বপূর্ণ। ফাস্ট ফুডের অপকারিতা আর দিনভর কম্পিউটারনির্ভর জীবনে, মাসল অকেজো থাকতে থাকতে ব্যথা করে। হাঁটু ব্যথা মানেই আর্থ্রাইটিসের ভয় সব সময় থাকে না। আর প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে হালকা ফিজিও আর দরকার ব্যায়াম। 'পেন কিলার দিয়ে ব্যথা সারাবার চেষ্টা করবেন না। পেন কিলারে সময় নষ্ট হলে আমাদের কাছে আসেন অনেকে। তখন অপারেশন ছাড়া আর উপায় থাকে না। আর হাঁটুর জয়েন্ট পেন তো আকছার হচ্ছে সব বয়সের লোকের। প্রথমেই বলি, সোজা, সুঠাম হাঁটতে হবে। নিয়মিত কেউ যদি অন্তত আধ ঘন্টা চিন্তাহীন সোজা পা ফেলে হাঁটেন, তাহলেই তিনি লক্ষ্য করবেন যেকোনো জয়েন্ট পেন কীভাবে সেরে যাচ্ছে। আর যাদের ইতিমধ্যেই ব্যথা শুরু হয়েছে, তারা আর্থ্রাইটিসের ভয়ে অপারেশনে ঝুঁকবেন না। অধিকাংশেরই আর্থ্রাইটিস হয় না। আমরা কিছু ফিজিও থেরাপি রেকমেন্ড করি। সেশন শেষ হয়ে গেলে সামান্য ব্যায়াম করুন। নির্দিষ্ট ধরনের মাসল এক্সারসাইজ ছোটখাট ব্যথা সারিয়ে দেবে। বরং কয়েকদিন পর ফিল করবেন, পায়ের মাসল-জয়েন্ট শক্তিশালী হয়েছে', জানাচ্ছেন ডাক্তার চিণ্ময় রায়।

তবে এক্ষেত্রেও আরও কিছু সমস্যা থেকে যায়। বাড়িতে আলস্য নিয়ে অনেকেই ব্যায়াম করতে চান না বলে জিমে যান। সঠিন ট্রেনিং না পেলে হাঁটু জখম হবার চান্স বেশি। ডাক্তারের কথায়, 'জিমে অনেক সময় ভুল চার্ট দেয়া হয়। মানে ধরুন ট্রেডমিলে হাঁটার সঠিক মাপ আছে, বা সাইকেলেও নির্দিষ্ট সময়ই হাঁটা উচিত। অনেকেই আবার না জেনে ভাইব্রেটর নেন। সব কিছু মিলিয়ে হিতে বিপরীত হলে তখন অপারেশন ছাড়া গতি নেই। তাই একদম প্রফেশনাল জিমে যান, যেখানে সঠিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ট্রেনার আছে।’

যারা জিমে যেতে চান না তাদের জন্য বাড়িতেই হাঁটু সারানোর নানা ব্যায়াম মজুত- তা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরাই। প্রথমেই আসে চেয়ার স্ট্রেচিং। চেয়ারে বসে সামনে পা টানটান করে মেলে দিন। একটু মাটি থেকে তুলে ৫-১০ সেকেন্ড রাখুন। দিনে ৪-৫ বার করুন। হিল সাইড নি-এক্সটেনশনও খুব উপকারি। উপুড় হয়ে শুয়ে একদিকের পা একবার ভাঁজ করুন। অন্য পায়ের গোড়ালি সামান্য একদিকে কাত করুন। ১০ সেকেন্ড রেখে আবার উল্টো পায়ে করতে হবে। হ্যামস্ট্রিং স্ট্রেচিং মূলত কমবয়েসীদের জন্য। সোজা দাঁড়ান। এক পা তুলুন। পায়ের পাতা সোজা থাকবে। এই অবস্থায় পিঠের দিকে তাকাতে চেষ্টা করুন। ব্যালেন্স রাখতে দেওয়ালের সাহায্য নিতে পারেন। এটাও ১০ সেকেন্ড করে তিন সেট করবেন।

একটু কঠিন এক্সারসাইজের উপকারিতাও বাড়িতেই নেওয়া যায়। ওয়াল সাইড যেমন। দেওয়ালে পিঠ রেখে হাঁটু ৩০ ডিগ্রি ভাঁজ করে রাখুন ১ মিনিট। এভাবে তিন সেট। বেন্ট লেগ রেজ করতে পারেন। চেয়ারে সোজা বসে, হাঁটু না ভেঙে যতটা পারেন ওপরে তুলুন। এক মিনিট রাখবেন প্রথম দিকে। তারপর যত বাড়ানো যায়। স্ট্রেট লেগ রেজে দুটো চেয়ার লাগবে। একটায় বসে অন্যটায় পা তুলে দিন। অন্য পায়ের পাতা সোজা রেখে সেই পাটা আকাশের দিকে তুলুন। ১ মিনিট রাখার চেষ্টা করুন। অন্তত তিন বার করবেন দু-পা বদলে। স্টেপ আপে চর্বিও ঝরবে। উঁচু সিঁড়ি বা চেয়ারে হাত রেখে হাফ বেন্ট হতে হবে। লাফিয়ে পা সামনে-পিছনে আনতে হবে। ১০ বার করে শুরু করুন। পরে ৩০ বার করবেন।

এছাড়া আছে জিম বাইক। হাঁটু অন্তত ১৫ ডিগ্রি মুড়ে এক্সারসাইজ করবেন। প্রথমে পাওয়ার থাকবে একেবার হালকা। পরে স্ট্রেংথ অনুযায়ী বাড়াবেন। বাড়াবাড়ি হবার আগে পেন কিলারে কাজ না সেরে এক্সারসাইজ যদি অপারেশনের খরচা বাঁচায় তাতে ক্ষতি কি? সোজা হাঁটা দিয়েই না-হয় শুরু হোক হাঁটুর ব্যারাম সারানো।

সূত্র - নুতনবার্তা

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গরমে ঘাম থেকে মুক্তি
Previous Health Tips: রোগ সারাবে আঙ্গুর!

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')