home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

মায়ের ওপর যত্ত রাগ!
২৬ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  child care  
  Viewed#:   156

সাধারণত মায়ের সঙ্গেই সন্তানের সখ্য থাকে বেশি। সন্তান তার আবদার, চাওয়া-পাওয়া, ভালো লাগা, মন্দ লাগা ভাগাভাগি করে নেয় মায়ের সঙ্গে। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। যেমন ধরা যাক মিথিলার (ছদ্মনাম) কথা। তার বয়স মাত্র ১১। পড়ালেখায় সে মোটামুটি ভালো। বন্ধুমহলেও সে জনপ্রিয়। পরিবারের প্রায় সব সদস্যের সঙ্গেই তার স্বাভাবিক সম্পর্ক। কিন্তু মাকে সে কিছুতেই সহ্য করতে পারে না। মায়ের প্রতি তার প্রচণ্ড রাগ—মা কিছু বললেই সে ঝাঁজিয়ে ওঠে। কথায় কথায় তর্ক করে, সব ব্যর্থতার জন্য সে মাকে দায়ী করে এবং মায়ের কোনো নির্দেশ সে পালন করে না—মায়ের বিরোধিতা করাই যেন তার প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। বাবা অনেক চেষ্টা করেছেন মিথিলাকে তার মায়ের প্রতি অনুগত করার; কিন্তু যেই কে সেই... তার সমস্যা যেন দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আজকাল সে মায়ের সঙ্গে কথাই বলে না।

মিথিলার মতো সমস্যা পাঁচ ছয় বছরের শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো শিশুর মধ্যে যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে। নানা কারণে এমনটি হতে পারে। মায়ের কোনো আচরণে যদি সে তীব্র মনঃকষ্টে ভোগে বা প্রতিনিয়ত হতাশ হয়—যেমন মা যদি সার্বক্ষণিকভাবে তাকে উপদেশ-নির্দেশ দিতে থাকেন বা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বারবার তাকে বকাবকি করতে থাকেন, বাবা-মায়ের মধ্যে যদি তুমুল দাম্পত্য কলহ চলতে থাকে, আশপাশের মানুষজন বিশেষত পরিবারের অন্যান্য সদস্য যদি প্রতিনিয়ত তার মাকে কটুবাক্য শোনাতে থাকে, সন্তানের মনে যদি কোনো অমীমাংসিত দ্বন্দ্ব বা তীব্র মানসিক চাপ তৈরি হয় এবং নাটক-সিনেমার রোলমডেলরা যদি নাটকে বা সিনেমায় এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে থাকেন, তখন শিশুর মনে মায়ের প্রতি বিরাগ জন্ম নিতে পারে। এ ছাড়া কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার, অপজিশনাল ডেফিয়েন্ট ডিসঅর্ডার এবং মাদকাসক্তির মতো সমস্যা যদি শিশুর মধ্যে থেকে থাকে, তখন মায়ের প্রতি বা মা-বাবা দুজনের প্রতি এমনকি পরিবারের প্রায় সব সদস্যের প্রতি তার প্রচণ্ড রাগ ও অবাধ্যতা তৈরি হয়।

মায়ের প্রতি বিরাগভাজন শিশুর স্বভাব পরিবর্তন করতে হলে বাবা-মাকে বিশেষত মাকে ধৈর্য ধরে সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়গুলো হচ্ছে—

শিশুকে তার আচরণ পরিবর্তনের জন্য সুযোগ দিন

অযথা তাকে দোষারোপ করবেন না, তার সব কর্মকাণ্ড নিয়ে কটূক্তি, সমালোচনা বন্ধ করুন।

শিশুকে স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠতে দিন, নিরাপত্তার অজুহাতে তার ওপর অতিরিক্ত নজরদারি কখনোই নয়।

রূঢ় আচরণ পরিহার করুন, প্রয়োজনে শাস্তির বদলে তাকে তার প্রাপ্য পুরস্কার বন্ধ করতে পারেন, কিন্তু শারীরিক নির্যাতন করবেন না। শোধরানোর জন্য তাকে বাথরুমে বা ঘরে আটকে রাখবেন না।

নিজেই পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করুন। বাবার কাছে বা স্কুলের শিক্ষকের কাছে শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ কখনোই নয়।

দাম্পত্য কলহ এড়িয়ে চলুন, মতের অমিল হলেই শিশুকে সাক্ষী মেনে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের বিরুদ্ধে বলবেন না।

শিশুর মধ্যে কোনো মানসিক চাপ বা দ্বন্দ্ব রয়েছে কি না জানার চেষ্টা করুন— বাড়িতে, স্কুলে বা অন্যত্র সে কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে কি না, জানার চেষ্টা করুন।

বয়ঃসন্ধিকালের সন্তান যদি কারও সঙ্গে আবেগীয় সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, তখন উত্তেজিত না হয়ে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন।

শিশুটির বন্ধু কারা জানার চেষ্টা করুন, তাদের কারও মধ্যে এ ধরনের আচরণের সমস্যা থাকলে তার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে শিশুকে নিরুৎসাহিত করুন।

দেশি-বিদেশি চ্যানেলের নাটক- সিনেমায় অবাধ্য সন্তানের চরিত্র থাকলে সেগুলো দেখতে তাকে নিরুৎসাহিত করুন।

শিশুর মধ্যে বিষণ্নতা, উৎকণ্ঠা থাকলে তা নিরসনের চেষ্টা করুন।

যদি বিষয়টি তীব্র হয়ে ওঠে, তবে অবশ্যই অন্তর্নিহিত কারণ (কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার, অপজিশনাল ডেফিয়েন্ট ডিসঅর্ডার ও মাদকাসক্তি) জানা ও তার সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।


সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কি সন্তান প্রসবের পর ভালো হয়ে যায়?
Previous Health Tips: শিশুর কান পরিষ্কার করতে

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')