দেশের মোট জনসংখ্যার ১৮ শতাংশ মানুষই কোনো না কোনো কিডনি রোগে ভুগছেন। এ রোগে আক্রান্ত ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনই অর্থাভাবে চিকিৎসার আওতায় আসতে পারছেন না। অন্য ১০ জনের মধ্যে ৭ জন ডায়ালাইসিস এবং ৩ জন কিডনি প্রতিস্থাপন করছেন। তবে এই ৭ জনের ৫ জনই খরচ বহন করতে না পেরে একসময় ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দিচ্ছেন। খবর সময় টেলিভিশনের।
কিডনি রোগের মূল কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনিতে প্রদাহের পাশাপাশি ভুল ওষুধের প্রয়োগ এবং খাবারে ভেজাল। এ রোগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগী এমন সময় চিকিৎসকের কাছে যান যখন ডায়ালাইসিস জরুরি হয়ে পড়ে।
দেশের দুই কোটি কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসের জন্য প্রশিক্ষিত নার্স আছেন ২০০ জন, আর ডায়ালাইসিস সেন্টার আছে ৮৪টি তবে এ গুলোর বেশিরভাগই ঢাকায়। ঢাকার বাইরে ডায়ালাইসিস সেন্টার তেমন না থাকায় সব রোগীকে সেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। এ সমস্যা সমাধানে প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট চালুর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, “ডায়ালেসিস সেন্টার শতকরা ৮০ ভাগ ঢাকায়। আর বাকি ২০ ভাগ ঢাকার বাইরে। এ কারণে দেশের সব জায়গায় এ সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমি মনে করি দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ডায়ালেসিস ইউনিট চালু থাকা দরকার।”
নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এই রোগের ডায়ালাইসিস খরচ (প্রতিবার) সরকারি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, আর বেসরকারি ৩০০০ থেকে ৬০০০ টাকা। কিডনি ডায়ালাইসিসের ক্ষেত্রে যন্ত্র ও ফ্লুইড আমদানি করতে হয় যার ভ্যাট অনেক বেশি। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফ করা হলে চিকিৎসা ব্যয় অনেক কমে যাবে বলে জানালেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান জানালেন, 'যে ফ্লুইড আমদানি করতে হয় সেটা খুবই উচ্চ মূল্য। এটা যদি আমাদের দেশে উৎপাদন করা যায় সেক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে। আর ডায়ালাইসিস যন্ত্র আমদানিতে অনেক টাকা ভ্যাট দিতে হয় সরকার যদি এক্ষেত্রে ভ্যাট মওকুফ করে তাহলে কিডনি চিকিৎসা ব্যয় অনেক কমে যাবে বলে আমাদের ধারণা।'
ভ্যাট মওকুফের ব্যাপারে সরকার পদক্ষেপ নেবে বলে জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'যেহেতু ডায়ালাইসিসের খরচ অনেক বেশি সেক্ষেত্রে এ জিনিসের ভ্যাট কমালে মানুষ তো উপকৃত হবে। তাই এ ভ্যাট কমানোর ব্যাপারে অবশ্যই সরকার বিবেচনা করবে।'
কিডনি রোগ প্রতিরোধে, সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সোশ্যাল করপোরেট রেসপনসিবিলিটি পালনে বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
সূত্র - natunbarta.com

