আপনার শিশুর বয়স কি দেড় থেকে দুই বছর? এই সময়ে শিশুটি কি কম ঘুমাচ্ছে? গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এ বয়সী শিশুদের ঘুমের অভ্যাসের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও সম্পর্কিত। আর কম ঘুমজনিত কারণে বেশি বেশি খেলে পরবর্তী জীবনে মুটিয়ে যাওয়া এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিতে পড়তে পারে শিশুরা। যুক্তরাজ্যের এক গবেষণার বরাত দিয়ে ইন্দো এশিয়ান নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ১ হাজার ৩০৩টি পরিবারের শিশুদের ওপর এ নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এ পরিবারগুলোর ১৬ থেকে ২১ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের ঘুম ও খাবারদাবারের অভ্যাসের বিস্তারিত তথ্য জমা করে সেগুলো পর্যালোচনা করেন গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ মাস বয়সী শিশুদের যারা প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার চেয়ে কম ঘুমায়, তারা গড়ে ১৩ ঘণ্টার চেয়ে বেশি সময় ঘুমানো শিশুদের তুলনায় ১০ ভাগ বেশি ক্যালরি গ্রহণ করছে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের হেলথ বিহেভিয়র রিসার্চ সেন্টারের গবেষক অ্যাবি ফিশার বলেছেন, ‘কম ঘুমানো শিশুরা বেশি ক্যালরি গ্রহণের ঝুঁকিতে থাকে।’
তিন বছরের চেয়ে কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ঘুম এবং ক্যালরি গ্রহণের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নিয়ে এটাই প্রথম গবেষণা। এ দুইয়ের মধ্যে সম্পর্কের প্রকৃত কারণটি অস্পষ্ট থেকে গেলেও গবেষকেরা বলেছেন, ক্ষুধার হরমোনের ওপর কম ঘুমানোর কোনো প্রভাব থাকতে পারে।
হেলথ বিহেভিয়র রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী অ্যাবি ফিশার বলেছেন, শিশুদের ঘুম ও খাওয়ার যোগসূত্র নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তবে, যেটুকু বোঝা গেছে সে বিষয়েই অভিভাবকদের সচেতন হওয়া উচিত।
গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ওবেসিটি-তে প্রকাশিত হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

