বৃহস্পতিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) 'সার্টিফিকেশন কমিটি' সরকারি ভাবে এই শংসাপত্র তুলে দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গুলাম নবি আজাদের হাতে৷ 'হু' তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভারত-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে একসঙ্গে এদিন পোলিওমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে৷ এই ঘোষণার ফলে জনসংখ্যার নিরিখে সারা পৃথিবীর ৮০ শতাংশই পোলিও ভাইরাসের কবল থেকে মুক্ত বলে স্বীকৃতি পেয়ে গেল৷ শংসাপত্র হাতে নিয়ে গুলাম নবি বলেন, 'জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এ যাবত্ এটাই সরকারের বৃহত্তম সাফল্য৷ এর কৃতিত্ব যেমন তৃণমূলস্তরের তামাম স্বাস্থ্যকর্মী থেকে শুরু করে আমলা-আধিকারিকদের, তেমনই লক্ষ লক্ষ অভিভাবকেরও, যারা তাদের সন্তানকে পালস পোলিও বুথে নিয়ে আসতে দ্বিধা করেননি৷'
তবে এই সাফল্যে আত্মতুষ্ট হওয়ার কোনো জায়গা নেই বলে জানাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিভিন্ন সূত্র৷ হু-র পোলিও বিষয়ক কর্মকাণ্ডের মুখপাত্র সোনা বারি-র কথাতেও এক সুর৷ এদিন জেনেভায় হু-র সদর দপ্তর থেকে তিনি ফোনে বলেন, 'এখন ভারতের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল৷ কারণ, পড়শি পাকিস্তান-আফগানিস্তান এখনও পোলিওমুক্ত নয়৷ ওয়াইল্ড পোলিও ভাইরাস যেহেতু ভ্রাম্যমাণ, তাই নজরদারি ঢিলে হলেই ফের পোলিওর গ্রাসে আসতে পারে ভারত৷' তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, একসময় পোলিও-আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে ভারতই ছিল দুনিয়ার শীর্ষে৷ আগামী দিনে যদি ফের কোনো শিশু পোলিও ভাইরাসের জেরে অ্যাকিউট ফ্ল্যাসিড প্যারালিসিসে আক্রান্ত হয়, তখন কিন্ত্ত আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হবে ভারতকে৷
সে জন্যই পালস পোলিও অভিযান এখনই বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা খারিজ করে দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকর্তারা৷ বরং ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন-পর্ব মিটে গেলে চালু হয়ে যাবে ইন-অ্যাকটিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিনের ইঞ্জেকশন৷ কারণ, এই সাফল্য একদিনে আসেনি৷ গোটা দেশের প্রায় ১৭ কোটি শিশুকে পালস পোলিওর আওতায় আনতে গিয়ে উদয়াস্ত পরিশ্রম করেছেন প্রায় ২৫ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী৷ ১৯৯৫ সালে যখন পালস পোলিও কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, তখন এ দেশে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজারেরও বেশি৷ এমনকি, পাঁচ বছর আগেও এ দেশে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭৪১ জন, ২০০৯-এ যা গোটা দুনিয়ার সমস্ত পোলিও আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক৷ জোর বাড়ানো হয় পালস পোলিও অভিযানে৷ ফলও মেলে হাতেনাতে৷ ২০১০-এ আক্রান্তের সংখ্যা নেমে আসে ৪২-এ আর ২০১১-তে মাত্র একে৷
তার পর গত তিন বছরে আর একজনও ভারতে পোলিওতে আক্রান্ত হননি৷ এর পরই নিজস্ব পদ্ধতিতে অনুসন্ধান চালান হু-র বিশেষজ্ঞরা৷ বিভিন্ন শাখার ১১ জন বিশেষজ্ঞ ভারত-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশের যাবতীয় তথ্য যাচাই করে গত দু' দিন বৈঠকে বসে স্থির করেন, পোলিও ভাইরাসের দাপট সত্যিই আর নেই এ মুলুকে৷ – সংবাদ সংস্থা।
সূত্র - natunbarta.com

