home top banner

খবর

স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা রোধে নতুন আইন করার চিন্তা
০৯ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Tagged In:  public health  health sector in Bangladesh   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   29

স্বাস্থ্য খাতে বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধে একাধারে কয়েকটি আইন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান বিভিন্ন নীতিমালা দিয়ে কাজ না হওয়ায় নতুন সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবার আইনের আওতায় এ খাতকে ঠিক রাখার দিকে নজর দিয়েছেন। এ ছাড়া ৪০-৫০ বছরের পুরনো কোনো কোনো আইন ও বিধি সময়োপযোগী করারও উদ্যোগ রয়েছে মন্ত্রণালয়ের।

জনস্বাস্থ্য খাত নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাস্থ্য খাতে নানা রকম অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা ও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে এ খাতে সরকারি পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা, ওষুধ কেনা-উৎপাদন-আমদানি, নিয়োগ-বদলি-পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ বিস্তর। একইভাবে চিকিৎসক থেকে শুরু করে চিকিৎসাক্ষেত্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা, গ্রামে চিকিৎসক না থাকা, কর্মস্থলে অবস্থান না করা, সময় মেনে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়াসহ নানা ক্ষেত্রে অনিয়ম আছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি পর্যায়েও সরকারের বিধিবিধান না মানা, চিকিৎসাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ইচ্ছামাফিক অর্থ আদায়, সরকারি চিকিৎসকদের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি মেডিক্যাল শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, ওষুধের দাম বা মান সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকার মতো বিষয়গুলো বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। এসব বিষয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি যুগোপযোগী করা হয়েছে, ওষুধনীতি প্রণয়নের কাজ অনেকটা এগিয়েও আইনগত জটিলতার মুখে পরবর্তী প্রক্রিয়া আটকে গেছে, জাতীয় জনসংখ্যানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেক্টরের আরো বেশ কয়েকটি ইস্যুভিত্তিক নীতিমালা রয়েছে। তবে এর কোনোটিই পুরোপুরি অনুসরণ করা হচ্ছে না। অনেকে নীতিমালাকে গুরুত্বহীন মনে করে থাকেন। এ কারণেই এখন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে নতুন কিছু আইনের।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু নীতিমালা দিয়ে কাজ হবে না। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের জন্য পুরোপুরি কার্যকর করতে হলে নতুন আইন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চলতি মাসের শেষ দিকে জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলের এক সভার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ওই সভায় চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ওই সভায় প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলোতে আইন প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

চিকিৎসকদের গ্রামে না থাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের চাকরির প্রথম দুই বছর গ্রামে থাকার কথা নীতিমালায় থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। তাই এখন এ ক্ষেত্রে আইন করে চিকিৎসকদের গ্রামে রাখতে বাধ্য করা হবে।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বিদ্যমান নীতিমালাকে আইনে পরিণত করে আরো কঠোর বিধিবিধান চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদেরও একই রকম মত। তবে অনেকেই আবার আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন হেলথ ইকোনমিকস ইউনিটের মহাপরিচালক আসাদুল ইসলাম বলেন, দেশের সব মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইউনিভার্সেল হেলথ কাভারেজের আওতায় একটি সোশ্যাল হেলথ প্রটেকশন স্কিম করার নীতিমালা ইতিমধ্যেই প্রণীত হয়েছে, এখন এটা আইনে পরিণত করা দরকার। আইন না করতে পারলে নীতিমালা দিয়ে এই স্কিম পুরোপুরি সফল করা সম্ভব হবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. শিফায়েত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশের বেসরকারি সেক্টরের মেডিক্যাল শিক্ষা ও বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনাকে আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে একটি আইন প্রণয়ন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ মানুষ এখন বেসরকারি সেক্টরের স্বাস্থ্য খাত থেকে অস্বাভাবিকভাবে আর্থিক, মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হচ্ছে। বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র বা মেডিক্যাল শিক্ষাক্ষেত্রগুলো যেন কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছে না। তারা সবটাই নিজেদের ইচ্ছামাফিক চালাতে চায়। তাই সময়োপযোগী আইনের আওতায় এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে।

সরকারের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কমিটির একজন সদস্য ও ওষুধ বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, দেশের ওষুধ সেক্টর বলতে গেলে পুরোটাই এখন ওষুধ কম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে। সরকারের ওষুধ প্রশাসন ও সাধারণ ভোক্তারা ওষুধ কম্পানির কাছে জিম্মি। ওষুধ কম্পানির মালিকরা সবটাই তাঁদের মতো করে চালাতে চান। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপও নেওয়া যায় না। ওষুধের দাম ও মানেও চলে মালিকদের আধিপত্য। এ ছাড়া আরেকটি চক্র লেগে আছে ভেজাল ও নকল ওষুধ নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণায়। মাঝেমধ্যে এসব প্রতারণা রোধে অভিযান চালানো হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। এমনকি সম্প্রতি ঢাকার মিটফোর্ডে পাইকারি ওষুধের মার্কেটে অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ আটকের পর ওষুধ বিক্রেতারা ধর্মঘট ডাকেন। পরিস্থিতির মুখে কর্তৃপক্ষ পরে জব্দ করা ওষুধ ফেরত এবং আটক ব্যক্তিদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

সূত্র জানায়, এমন বেপরোয়া পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে একটি জাতীয় ওষুধনীতি প্রণয়নে হাত দিয়েছিল সরকার। শুরু থেকেই এ উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন চক্রান্ত হয়। এর পরও ওই নীতিমালাটি চূড়ান্তকরণের কাছাকাছি আসতেই একটি চক্র উচ্চ আদালতে রিট করলে পুরো প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে যায়। তাই এখন আগের পুরনো আইনকে আবার নতুন করে তৈরি করা জরুরি।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকার ইতিমধ্যেই ওষুধ নিয়েও নতুন একটি আইনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে।

সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বিনা অস্ত্রোপচারে পেসমেকার প্রতিস্থাপন
Previous Health News: লাল মাংস উপকারী গর্ভধারণে

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')