স্তন ক্যান্সার কেবল মেয়েদের রোগ নয়। পুরুষদেরও হতে পারে এ রোগে। তবে পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের প্রবণতা কম থাকলেও বর্তমানে এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু পুরুষদের মধ্যে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে এ ক্যান্সার প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
পুরুষদের বুকের দেওয়ালে স্তন বৃন্তের ঠিক নিচে অল্প পরিমাণ অকার্যকরী কিছু স্তন কোষ থাকে। এই কোষগুলির অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে পুরুষদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার দেখা দেয়। স্তন ক্যান্সার সাধরণ অবস্থায় মহিলাদের মধ্যে দেখা গেলেও পুরুষদের মধ্যে বিরল নয়। ২০১০ সালে পৃথিবী জুড়ে পুরুষদের মধ্যে মোট ১,৯৭০ টি স্তন ক্যান্সারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তার মধ্যে ৩৯০ জন এই ক্যান্সারে প্রাণ হারান।
পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ:
১) স্তনকলার মধ্যে ব্যথাহীন পিণ্ড তৈরি।
২) স্তনের চামড়ার পরিবর্তন দেখা যায়, চামড়া লাল হয়ে যায়, কুঁচকে যায়, তাতে ভাঁজ বা খাঁজ তৈরি হয়।
৩) স্তনবৃন্তের রঙের পরিবর্তন হয়। লালচে হয়ে যায় বা ভিতরের দিকে ঢুকে যায়।
৪) স্তনবৃন্ত থেকে রসক্ষরণ হয়।
রোগনির্ণয় পদ্ধতি: আল্ট্রাসাউন্ড ও ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারের নির্ণয় করা হয়। বায়োপসির সঙ্গেই করা ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরোন হরমোনের পরীক্ষায় রোগ সনাক্ত করা সম্ভব।
চিকিৎসা: শল্য চিকিৎসাই পুরুষদের স্তন ক্যান্সারের মূল চিকিৎসা। এর মাধ্যমে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের মাধ্যমে যে পিণ্ড (টিউমার) তৈরি হয় তাকে বাদ দেওয়া হয়। এছাড়াও রেডিয়েশন থেরাপি চলে। এর মাধ্যমে এক্স রে জাতীয় উচ্চশক্তির রশ্মি দিয়ে ক্যান্সার কোষ মেরে ফেলা হয়। চলে কেমোথেরাপি, যার দ্বারা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে ক্যান্সার কোষ মেরে ফেলা হয়।এছাড়া পুরুষদের স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের জন্য ব্যাপক ভাবে চলে হরমোন থেরাপি।
সূত্র - প্রথম আলো

