কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসছে অসংখ্য মৃত মা-কচ্ছপ। শীত মৌসুমের শুরুতে মা-কচ্ছপ উপকূলের বালুচরে ডিম পাড়তে গভীর সমুদ্র থেকে ছুটে আসছে। এ সময় মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে মা-কচ্ছপ মারা যাচ্ছে। আবার সৈকতে ডিম পাড়ার সময়ও বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে কচ্ছপের মৃত্যু হচ্ছে।
গতকাল বুধবার শহরের নাজিরাটেক, ফদনারডেইল সৈকত ঘুরে দেখা যায়, বিশাল পাঁচটি কচ্ছপ পড়ে আছে।
স্থানীয় জেলে বাবুল আকতার ও কালা মিয়া বলেন, প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে চার-পাঁচটি মৃত মা-কচ্ছপ সৈকতে ভেসে আসছে। একেকটির ওজন দুই থেকে তিন মণ।
সৈকতের কলাতলী, সোনারপাড়া, নিদানিয়া, চেপটখালী, মাদারবনিয়া, চোয়াংখালী, মনখালী এলাকা ঘুরে ৫০টির বেশি মৃত কচ্ছপ দেখা গেছে। সেন্ট মার্টিন সৈকতেও মৃত কচ্ছপ ভেসে আসছে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, সাত-আট দিন ধরে সৈকতে মৃত কচ্ছপ ভেসে আসছে। এসব কচ্ছপ মারা যাচ্ছে গভীর সাগরে ট্রলিং জালে আটকা পড়ে। জোয়ারের পানিতে এসব মরা কচ্ছপ সৈকতে ভেসে এলে লোকজন বালুচরে পুঁতে ফেলে।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বোট মালিক সমিতির নেতা জমির আহমদ বলেন, গত বছরও এই সময়ে সেন্ট মার্টিন সৈকতে পাঁচ শতাধিক মৃত মা-কচ্ছপ ভেসে আসে। এবারও তাই হচ্ছে। মা-কচ্ছপ জালে আটকা পড়লে জেলেরা পিটিয়ে মেরে ফেলে। এ ক্ষেত্রে জেলেদেরও কেউ সচেতন করছে না।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, জেলার ৮০ কিলোমিটার সাগর উপকূলে পুঁতে রাখা নিষিদ্ধ জালে আটকা পড়ে ডিম পাড়তে আসা হাজার হাজার মা-কচ্ছপ মারা যাচ্ছে। মরা কচ্ছপ থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে সৈকতের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, জালে আটকা পড়ে মা-কচ্ছপের যেমন মৃত্যু হচ্ছে, তেমনি সৈকতে ডিম পাড়ার সময়ও কুকুরের কামড়ে বহু মা-কচ্ছপ মারা যাচ্ছে। এখন বেওয়ারিশ কুকুর নিধন জরুরি। এ ব্যাপারে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

