প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে তাঁর সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার সচিবালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০১৪’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। খবর বাসসের।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বান্দরবানের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিটিউট মিলনায়তনে উপস্থিত জনগণের সঙ্গে কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকার বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে উল্ল্লেখ করে তিনি বলেন, ’৯৬ সালের আগে পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক হানাহানি মারামারি ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয় এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তিনি বলেন, ‘আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তিচুক্তির অধিকাংশ শর্ত ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছি। বাকি শর্তগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব।’ তিনি বলেন, সংবিধানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের অঙ্গীকার রয়েছে । সেই অঙ্গীকার পালনে সরকার বদ্ধপরিকর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাহকবাহিত রোগে ২০১০ সালে পৃথিবীতে অনেক মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে বেশির ভাগই হচ্ছে শিশু। বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, যাতায়াত বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে বাহকবাহিত রোগসমূহের ঝুঁকি ও বিস্তারের ঘটনা ঘটছে।
উষ্ণমণ্ডলীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও নানা ধরনের বাহকবাহিত রোগ বিরাজ করছে উল্ল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, কখনো কখনো এই রোগসমূহ বিপুলসংখ্যক লোককে সংক্রমিত করে বা মৃত্যুঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নানাবিধ কার্যক্রম গ্রহণের ফলে এই রোগগুলোর কোনো কোনোটি নিয়ন্ত্রণে এসেছে অথবা নির্মূলের পর্যায়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে বাহকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
বর্তমানে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে এসেছে উল্ল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা প্রদান এবং কীটনাশকযুক্ত মশারি বিতরণ ও ব্যবহারের ফলে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে উল্ল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সন্মিলিত চেষ্টায় টিকাদান কর্মসূচি সফল করার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে পোলিওমুক্ত করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়, সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যক্রম পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং করছে। আমাদের সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে দেশে কালাজ্বরের বিস্তারও কমে এসেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

