home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

প্রসূতি এবং তার বুকের দুধ
২৬ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  child care  breast feeding  
  Viewed#:   413

Breast-Feedingশিশুকে কি শাল দুধ খাওয়ানো উচিত?
শাল দুধের হলুদাভ রং এবং ঘনত্ব দেখে অনেকেই মনে করেন, এই দুধ হয়তো শিশু হজম করতে পারবে না। শিশু খুব ভালোভাবেই শালদুধ হজমকরতে পারে এবং এ দুধে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ ও ডি এবং পরাগ প্রতিরোধেরঅনেক উপকরণ (এন্টিবডি) থাকে। শালদুধ খাওয়ানোর জন্য মায়ের জরায়ুর সংকোচনক্ষমতাও বৃদ্ধি পায় এবং মা দ্রুত স্বাভাবিক স্বাস্থ্যে ফিরে আসেন।

পৃথিবীর সব স্তন্যপায়ী প্রাণীই কিন্তু বাচ্চাকে শালদুধ খাওয়ায়- ফেলে দেয় না; মানুষের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়ার নয়।কতক্ষণ পর পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত? শিশু খাবারের জন্য কান্না করলেই তাকে বুকের দুধ খেতে দেয়া উচিত- তা যত ঘনঘনইহোক না কেন। তবে শিশু জন্মের প্রথম কয়েক সপ্তাহ তাকে মোটামুটিভাবে এক ঘণ্টাপরপর বুকের দুধ খেতে দেয়া উচিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুর পাকস্থলী বড়হতে থাকে ও মায়ের বুকের দুধের পরিমাণও বাড়তে থাকে এবং শিশুকে একবার বুকেরদুধ ভরপেট খাওয়ানোর পর আবার খাওয়ানোর বিরতির পরিমাণও বাড়তে থাকে- তবে এবিরতি ২ ঘণ্টার বেশি হয় না। শিশু যদি অসুস্থ থাকে, তাহলে তার খাবারেরচাহিদা স্বাভাবিকভাবেই কমে যেতে পারে।

শিশু যথেষ্ট পরিমাণে বুকের দুধ পাচ্ছে কি না কীভাবে বুঝবেন
সুস্থ-স্বাভাবিকশিশু সাধারণত যতক্ষণ ক্ষুধা থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত বুকের দুধ চুষতে থাকে।পেট ভরে গেলে দুধ চোষা বন্ধ করে দেয়। পেট ভরে গেলে শিশু ঘুমিয়ে পড়ে। শিশুরবয়স একটু বাড়লে পেট ভরার পরও দুধ ছাড়তে চায় না- দুধ মুখে নিয়েই ঘুমায় এবংদুধ সরাতে গেলেই আবার চুষতে থাকে; এটা শিশুর স্বাভাবিক ক্ষুধা নয়- এটাশিশুর একটা অভ্যাস যা প্রশ্রয় না দেয়াই ভালো। এতে শিশুর স্বাভাবিক ঘুম এবংহজমে সমস্যা হয়। মা ও শিশু সুস্থ-স্বাভাবিক থাকলে সাধারণত ১০-১৫ মিনিট (উভয়স্তনে) দুধ খাওয়ানোর পরই শিশুর পেট ভরে যায়।
বয়স অনুপাতে শিশুর ওজন ঠিক মতো বাড়ছে কি না- তাও লক্ষ্য করুন।

শিশুকে বুকের দুধ কীভাবে খাওয়ানো উচিত
শিশুকেমায়ের আসন পাতা কোলে শুইয়ে নিয়ে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। তার বুক এবং মাথাকোমর এবং পা থেকে কিছুটা উপরের দিকে তুলে তাকে দুধ খাওয়ানো উচিত; এতে শিশুস্বাভাবিকভাবে দুধ চুষতে এবং গিলতে পারে। বুকের দুধ পান করার সময় দুধেরবোঁটা এবং বোঁটার চারপাশের কালো অংশের পুরোটাই যেন শিশুর মুখের ভেতরেযায়; এতে শিশু সহজে দুধ চুষতে এবং গিলতে পারে এবং তার পেটে বাতাস কম ঢোকে।জোর করে শিশুর মুখের ভেতর স্তনের বোঁটাসহ কালো অংশ ঢুকিয়ে দেয়া ঠিক হবেনা।

বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর পেটে কম-বেশি বাতাস ঢুকতে পারে এবং এবাতাস বের না হলে শিশু অস্বস্তিতে ভোগে (যাকে অনেকেই পেট ফাঁপা বলেন) এবংএতে সে বমি করে দিতে পারে। তাই, দুধ খাওয়ানোর পর তাকে খাড়া করে মায়ের বুকেরসঙ্গে লাগিয়ে তার পিঠে হাতের তালু দিয়ে হালকা করে থাপ্পড় (ট্যাপিং) দিতেদিতে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলে তার পেটের বাতাস পাকস্থলীর ওপরের দিকে উঠেআসে এবং শিশু ঢেকুর দিয়ে তা বের করে দেয়। এতে শিশু আরাম বোধ করে।শিশুর জন্মের পর থেকে তাকে শুধু মায়ের বুকের দুধই খেতে দেয়া উচিত, অন্য কোনোখাবার নয়- এমনকি পানি, মধু বা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধও নয়।

মায়ের দুধের পাশাপাশি শিশুকে অন্য খাবার কখন দেয়া উচিত
অধিকাংশ বিশেষজ্ঞরাই শিশুর বয়স ৬ মাস হওয়া পর্যন্ত তাকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোরপরামর্শ দেন। তবে এ নিয়ে কিছু ভিন্ন মতও আছে। অনেক বিশেষজ্ঞই ৬ মাসেরপরিবর্তে শিশুকে ৪ মাস বয়স পার হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ বিকল্প খাবারেঅভ্যস্ত করানোর কথা বলেন। যারা ৬ মাসের পক্ষে বলেন, তাদের যুক্তি হল- একজনশিশু কমপক্ষে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত পরিপূর্ণভাবে মায়ের বুকের দুধ পাওয়ারকথা-এর বাইরে শিশুর বিকল্প খাবারের কোনো দরকার নেই। যারা ৪ মাসের কথা বলেন, তাদের যুক্তি হল- সব মায়ের বুকেই শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট পরিমাণেবুকের দুধ ৬ মাস পর্যন্ত সব সময় তৈরি হবে- এমন গ্যারান্টি দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে শিশুর পরিপূর্ণ পুষ্টির অভাব হওয়ার আশংকাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।কাজেই শিশুর বয়স ৪ মাস হওয়ার পর থেকে তাকে পরিচ্ছন্ন এবং নিরাপদ খাবারেঅভ্যস্ত করালে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

যদি কোনো কারণে শিশু পরিপূর্ণপুষ্টি হচ্ছে না বলে মনে হয়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার বয়স ৬মাস হওয়ার আগেও তাকে বাড়তি খাবার দেয়া যেতে পারে। কখনোই নিজের অনুমান, ইচ্ছা বা ‘অভিজ্ঞতা’র ওপর নির্ভর করে শিশুকে ৬ মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেবাড়তি কোনো খাবার দেয়া উচিত হবে না।

শিশু যদি শুধু বুকের দুধের ওপরনির্ভরশীল থাকে, তাহলে তার বয়স ৬ মাস হওয়ার আগে তাকে বাড়তি কিছুই খাওয়ানোউচিত হবে না, এমনকি পানিও না। গরমে যদি শিশু বেশি ঘামে তাহলে তাকে ঘনঘনবুকের দুধ খাওয়াতে হবে। কারণ বুকের দুধের ভেতর যে পানি থাকে তা দিয়েই শিশুরপানিশূন্যতা পূরণ হয়। তবে শিশু যদি বাড়তি খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তাহলেডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে শিশুকে পরিচ্ছন্নভাবে এবংপরিমাণ মতো বাড়তি পানি খাওয়ানো যেতে পারেন।

মায়ের বুকে যদি যথেষ্ট পরিমাণে দুধ না আসে, তাহলে কী করতে হবে
মাযদি পানি বা পানি জাতীয় খাবার কম খান, মায়ের মানসিক অবস্থা যদি শান্ত নাথাকে, মা যদি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকেন, মা যদি বিশেষ কোনো ওষুধ খান- তাহলেবুকের দুধ কমে যেতে পারে। বুকে দুধ কম আসলে মা যে কাজগুলো করতে পারেন তাহল- বেশি পরিমাণে পানি, শরবত এবং রসালো ফল থেকে হবে, শাকসবজিও বেশি খেতেহবে এবং যতটুকু সম্ভব মানসিক টেনশন মুক্ত হয়ে নির্জন পরিবেশে একনিষ্ঠভাবেশিশুকে বুকের দুধ। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মা অন্যমনস্ক থাকলে দুধখেতে শিশুর কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না- সেটি তার নজরে আসে না।

শিশু যতদিনবুকের দুধ পান করে ততদিন পর্যন্ত মা যদি নিজে প্রতিদিন আধা লিটারের মতো দুধপান করেন, তাহলে মায়ের বুকে শিশুর জন্য বেশি পরিমাণে এবং অধিক পুষ্টিকরদুধ তৈরিতে সহায়তা হয়। তাছাড়া ছোট মাছ, কচুশাক, কাঁচাকলা, কলার মোচা ও থোড়-ইত্যাদিতে বেশি পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং আয়রন থাকে বলে এগুলো খেলেস্তন্যদানকারী মায়ের নিজের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে তেমনি শিশুও যথেষ্টপরিমাণে বুকের দুধ পেতে পারে। মা বিভিন্ন রকম দেশী ফল যেমন, বরই, আমলকী, আমড়া, বৈঁচি, পেয়ারা, জাম্বুরা, কামরাঙ্গা ইত্যাদি ফল প্রতিদিন পরিমান মতোযদি খান তাহলে মা এবং বুকের দুধ পানকারী শিশু।

মনে রাখা দরকার, শিশুরজন্মের পর থেকেই মাকে বেশি করে সব ধরনের মাছ-মাংস, দুধ, শাকসবজি এবং ফলখাওয়ালে মায়ের স্বাস্থ্য যেমন ভালো থাকে, তেমনি শিশুর জন্য বেশি পরিমাণেবুকের দুধও উৎপন্ন হয়।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালে কি মায়ের ‘ফিগার’ নষ্ট হয়ে যায়
এখনপর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা হয়েছে বলে জানা যায়নি।শরীর বিজ্ঞানের মধ্যে এমন কোনো তথ্য নেই যা থেকে উপসংহার টানা যেতে পারেযে, শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে মায়ের ‘ফিগার’ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  

সূত্র – যুগান্তর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: প্রশ্ন: ছোট বেলায় মাছ কম খাওয়ার কারণে কি বড় হলে গলগণ্ড হয়?
Previous Health Tips: ডায়াবেটিস থেকে মাড়ির রোগ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')