ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মাড়ির রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। টাইপ-২ ডায়াবেটিকরোগীর ক্ষেত্রে জটিলতা বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিস নেইএমন ব্যক্তির চেয়ে ডায়াবেটিক রোগীর দাঁত হারানোর আশংকা থাকে প্রায় পাঁচগুণ বেশি। ডায়াবেটিক রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় জীবাণু আক্রমণ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ফলে মাড়িতে পেরিওডন্টাল পকেট সৃষ্টি হয়। পেরিওডন্টালপকেটে খাদ্যদ্রব্য জমা হয়ে মাড়ি ফুলে যেতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে পেরিওডন্টাল লিগামেন্টগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং এক সময় দাঁত নড়তে শুরু করে। রোগীর মুখে শুকনো ভাব দেখা দেয়। লালা গ্রন্থি ফুলে যেতে পারে, যা সায়ালেসিস নামে পরিচিত। এটি স্বয়ংক্রিয় নিউরোপ্যাথির কারণে হতে পারে।জিহ্বায় প্রদাহ দেখা যেতে পারে বা জিহ্বার ফিলিফরম প্যাপিলার পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে খাবারের স্বাদ গ্রহণে সমস্যা হয়। খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ করার সময় জিহ্বায় ঝাল ভাব অনুভূত হতে পারে। ক্লোরপ্রোপাইমাইড ব্যবহারের কারণে মুখের মিউকোসাতে লাইকেনয়েড রিঅ্যাকশন দেখা যেতে পারে।
এন্টিবায়োটিক ওষুধের কারণেও এমনটি হতে পারে। ক্লোরপ্রোপামাইডের কারণে ফেসিয়াল ফ্লাসিং হতে পারে।ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ওরাল ক্যান্ডিডোসিস হতে পারে। ডায়াবেটিস ইনসিপিডাসের ক্ষেত্রে দাঁতের চিকিৎসায় মুখের শুষ্কতা ছাড়া তেমন সমস্যা হয় না।
ডায়াবেটিক রোগীদের সামান্য আঘাতে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হয়। মাড়িস্পঞ্জের মতো নরম তুলতুলে হয়ে যায়। দাঁত শিরশির করা ছাড়াও মাড়ি থেকে পুঁজবের হতে পারে।
মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং খাবার গ্রহণের সময় দাঁতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে মাড়ির রোগকে কোনো ভাবেই অবহেলা করাযাবে না। আপনার দাঁতে যদি পাথর থাকে তাহলে অবশ্যই স্কেলিং করিয়ে নিতে হবে।নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করা ছাড়া মাঝে মাঝে মাউথওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। সঠিক মাউথওয়াশ ব্যবহার না করলে মুখে আলসার বা ঘা থাকলে তা সহজে ভালো হয় না।যাদের ডায়াবেটিস রয়েছে তাদের নিয়ম-শৃংখলার মধ্যে জীবন যাপন করতে হয়।
সূত্র - যুগান্তর কম

