অস্পষ্ট, যখন-তখন, ব্যাখ্যাতীত পেইন
সচারচর শরীরের কোথাও ব্যাথা মানেই হচ্ছে সেই স্থানের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে তা’ জানান দেয়া। সত্যি কথা বলতে, এভাবে ব্যাথা আমাদের উপকারই করে। সচেতন ব্যক্তি মাত্রেই ব্যাথাকে উপেক্ষা না করে সতর্ক থাকেন, সময়মত ডাক্তারের পরামর্শ নেন। আর ডাক্তারগন অনেক সময় বিভিন্ন রকমের পরীক্ষা-নীরিক্ষা করেও রহস্যময় ব্যাথার কুল-কিনার করতে গলদঘর্ম হন।
এরকম রহস্যময় ব্যাথা হওয়ার অনেক কারনের মধ্যে একটা হতে পারে ‘ফাইব্রোমায়ালজিয়া’। পুরুষের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। ফাইব্রোমায়ালজিয়া’তে শরীরে প্রচন্ড চাপ বা ব্যাথা অনুভূত হয়, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এখনো পর্যন্ত রোগ সনাক্তকরণ বা নির্ণয়ের সুনির্দিষ্ট কোন পদ্ধতি নেই। তাই ডাক্তারগন সাধারনত ব্যাথার সম্ভাব্য কারনসমূহ বের করে রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় ফিজিক্যাল থেরাপি প্রদান ও ব্যাথানাশক দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। যদিও গবেষকরা এ রোগ সম্মন্ধে আরো বেশি জানার নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, কখনো কখনো ডিপ্রেশনও শরীরের বিভিন্ন অংশে যখন-তখন, ব্যাখ্যাতীত ব্যাথার জন্য দায়ী হতে পারে। বিভিন্ন ফর্মে ব্যাথা যেমন ব্যাক পেইন, মাথাব্যাথা, ভাসমান মনে হওয়াসহ আরো অনেক লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
এটা কেন হয়? আমরা জানি, ব্যাথা এবং আবেগ-অনুভূতি একই পথ অর্থাৎ স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে। কারো কারো ক্ষেত্রে এই পরিবহন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে বা ট্র্যাক জাম্প করলে শরীরে কোথাও কোথাও সত্যিকারের ব্যাথা শুরু হয়ে যায়। সাধারনত এন্টি-ডিপ্রেসেন্ট ঔষধ কিংবা থেরাপি বা উভয় প্রকার ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে ডিপ্রেশন ও এর দ্বারা উদ্ভুত ব্যাথা নিরাময়ের চেষ্টা করা হয়।
(পরের পর্বে দেখুন টেস্টিকুলার পেইন)
ডিসকভারি ফিট এন্ড হেলথ থেকে হেলথ প্রায়র ২১

