গলার ক্যানসারের অন্যতম কারণ ধূমপান
29 March,14
Viewed#: 121
আজকাল খুব বেশি শোনা যায় গলার ক্যানসারের কথা। গলার কোনও গ্ল্যান্ড বেশ কয়েকদিন ফুলে আছে। ওষুধ খেয়েও কমছে না। পরে দেখা গেল সেটি ক্যানসার। এই ধরনের ক্যানসারের অন্যতম কারণ ধূমপান। তামাকজাতীয় জিনিস থেকেই গলার ক্যানসার হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। মদ্যপানও গলার ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়ায়। আর দুটোই এক সঙ্গে করলে গলার ক্যানসারের রিক্স ফ্যাক্টর দ্বিগুণ না হয়ে দশগুণ হয়ে যায়! যদি মনে করেন, যে সময়ে ধূমপান করছেন, সে সময়ে মদ্যপান না করলেই তো হলো, তবেই তো আর বলা যায় না দুটো একসঙ্গে করা হচ্ছে- তাহলে ভুল ভাবছেন। ব্যাপারটা তা নয়। একই সঙ্গে ধূমপান ও মদ্যপানের নেশা থাকলে গলার ক্যানসারের সমূহ সম্ভাবনা।
গলার ক্যানসার সবচেয়ে বেশি হয় গলার ভয়েস বক্সে, লিম্ফ নোডে। এ ছাড়া থাইরয়েড গ্ল্যান্ডেও ক্যানসারাস টিউমার হয়। সেটা মহিলাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
কী করে বুঝবেন
হয়তো দেখলেন গলায় একটি শক্ত মাংসপিণ্ড মতো হয়েছে, কিন্তু তাতে ব্যথা নেই। আর সেটি তেমন কোনও সমস্যাও করছে না। শুধু আকারে ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হয়তো গলার আওয়াজ বসে গেছে বা ভেঙে যায়। গার্গল করেও ঠিক হচ্ছে না। প্রথাগত চিকিৎসা ও ওষুধ খাওয়ার পরও যদি দেখেন সপ্তাহ দুয়েক হয়ে গেছে, অথচ সমস্যা রয়ে গিয়েছে, তবে দেরি না করে ডাক্তার দেখাতে হবে।
আবার যদি দেখেন গলার কোনও গ্ল্যান্ড ফুলে গেছে। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে কোনও ফরেন বডি ঢুকেছে। গলার মধ্যে কিছু একটা আটকে আছে। ঢোক গিললে টিউমারটি ওপরে উঠে আসছে, তখন সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে। খাবার গিলতে অসুবিধে হচ্ছে। জল খেলে তবেই খাওয়ার নিচে নামছে। অথবা দেখলেন বাইরে থেকে গলার কাছটা ফোলা ফোলা। গলার যে অংশ খাদ্যনালীর সঙ্গে যুক্ত সেখানে টিউমার হলে সাধারণত এমনটা হয়ে থাকে।
এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে ফেলে না রেখে ডাক্তার দেখাবেন। এমনিতে ওষুধ খেয়ে না সারলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে হবে।
পরীক্ষা নিরীক্ষা
তবে সব টিউমার ক্যানসার নয়। ক্যানসার কি না তা জানার জন্য কিছু পরীক্ষা করতে হবে। যেমন ইউএসজি, পেট স্ক্যান বা এমআরআই ইত্যাদি করতে হতে পারে প্রয়োজন মতো। সন্দেহজনক কিছু পেলে ক্যানসার কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য বায়োপসি করতে হবে। কখনও ব্যথাহীন টিউমার থেকে নিডল বায়োপসি করা হয়। সে ক্ষেত্রে ইনজেকশনের সাহায্যে টিউমারটি থেকে রস নিয়ে সেটি পরীক্ষা করতে হয়। স্বরযন্ত্রে গলার ভেতরের দিকে ক্যানসার হলে এন্ডোস্কপি করে টিউমারের কিছু অংশ নিয়ে বায়োপসি করা হয়।
ক্যানসার হলে
যদি সমস্যাটা ক্যানসার হয় তবে প্রথমে তার স্টেজিং করা হয়। অর্থাৎ সেটি কোন স্টেজে আছে, তা বের করা হয়। চারটে স্টেজ হতে পারে। প্রথম ও দ্বিতীয় স্টেজে থাকলে সেটাকে আর্লি ক্যানসার বলে। আর তৃতীয় আর চতুর্থ স্টেজে থাকলে সেটি লেট স্টেজ।
চিকিৎসা
আর্লি স্টেজে ধরা পড়লে অপারেশন করা হয় বা রেডিয়েশন দেওয়া হয়। এই স্টেজ নিরাময়যোগ্য। রোগী সাধারণত ভালো হয়ে যান। লেট স্টেজে অপারেশন ও রেডিয়েশন দুটোই দরকার হয়। কখনও বা কেমোথেরাপি দিতে হয়। লেট স্টেজে ঠিকঠাক ট্রিটমেন্ট করলে রোগীর জীবনধারা উন্নত করা যায়। আয়ুও বাড়ানো যায়।
গলার ক্যানসার আটকাতে
- ধূমপান করবেন না।
- ধূমপানের সঙ্গে অ্যালকোহল খুবই বিপজ্জনক।
- ওরাল হাইজিন বজায় রাখা খুব দরকার। বিশেষ করে যাঁরা পান খান বা তামাক সেবন করেন।
- মুখের ভেতর কোনো ভাঙা দাঁত বা দাঁতের ধারালো অংশ থাকলে সাবধান। তা দিয়ে অনবরত মুখে ঘষা লাগতে থাকলে কিন্তু পরবর্তীকালে সমস্যা হতে পারে।
সূত্র - ওয়েবসাইট