বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগে মারা যাচ্ছেন। একদিকে বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা, অন্যদিকে কমছে এতে আক্রান্তদের বয়স। পরিসংখ্যানটি রীতিমতো আতঙ্কজনক। করোনারি আর্টারি ডিজিজ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত ব্যাধি।
হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টার আসলে একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পদ্ধতি। এর পদ্ধতিসমূহের ভেতরে রয়েছে, ডায়েট ম্যানেজমেন্ট, স্ট্রেস ফ্রি টেকনিক, মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম, নিউরোবিক্স, আকুপ্রেশার, চিলেশন, থেরাপি ও ইসিপি। আমরা ধারাবাহিকভাবে এ বিষয়গুলো আলোচনায় আজ ইসিপি নিয়ে আলোচনা করব।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ এ রোগে মারা যাচ্ছেন। একদিকে বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা, অন্যদিকে কমছে এতে আক্রান্তদের বয়স। পরিসংখ্যাটি রীতিমতো আতঙ্কজনক। করোনারি আর্টারি ডিজিজ এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত ব্যাধি।
আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, হৃদরোগ প্রতিরোধ করা যায়, এমনকি প্রতিকারও আছে এর। যে নতুন যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলা হবে এ রচনায় সে বিষয়ে বহির্বিশ্বে ইতোমধ্যেই জনসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাকৃতিক বাইপাস বা ইসিপি থেরাপি (এক্সটার্নাল কাউন্টার পালসেশন)
স্রষ্টা আমাদের হৃদযন্ত্রে শত সহস্র ধমনি দিয়ে দিয়েছেন। তিনটি প্রধান ধমনি ১০টি শাখায় সজ্জিত, যেখান থেকে ১০০টি প্রশাখা ছড়িয়ে পড়েছে। এর আবার রয়েছে হাজারো প্রশাখা। এগুলোকে বলা হয় ক্যাপিলারিস। অনেকটা জালের মতো এগুলোর ভেতর আন্তঃসম্বন্ধ রয়েছে, আবার প্রতিটিই অপরটির সঙ্গে রক্ত গ্রহণ ও প্রদানের সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত। একটি প্রধান বা অপ্রধান ধমনিতে বস্নক সৃষ্টি হলে ওই শত সহস্র রক্তনালি হৃৎপি-ের পেশিতে রক্ত সঞ্চালনে প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। যদি কোনো উপায়ে ওই রক্তনালিগুচ্ছের চ্যানেলটি মুক্ত ও বিস্তৃত রাখা যায় তাহলে হৃদযন্ত্রের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সংহত থাকে। এটাকেই বলা হয় প্রাকৃতিক পাইবাস বা ইসিপি থেরাপি। এটা চালু রাখার জন্য যে চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় তাকে বলা হয় প্যান বাইপাস বা চহবঁসধঃরপষষু অংংরংঃবফ ঘধঃঁৎধষ ইুঢ়ধংং।
এ প্রাকৃতিক চ্যানেলটি খেলোয়াড় ও অ্যাথলেটদের ক্ষেত্রে সাধারণত উপস্থিত থাকে। যেহেতু তাদের প্রচুর ব্যায়াম করা লাগে পুরো ক্যারিয়ার জুড়েই। তাই তাদের বেলায় ক্যাপিলারিস পরিণত হয় বর্ধিত টিউবে। এ টিউবের কারণেই শতকরা ৮০ থেকে ৯০ ভাগ বস্নকেজ দেখা দিলেও এরা বুকব্যথা বা এনজিনায় ভোগেন না। এমনকি ১০০ ভাগ বস্নকেজ হলেও এদের হৃদপি-ের মাংসপেশি বিকল হয়ে পড়ে না।
এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে এ প্রাকৃতিক বাইপাস চ্যানেল সৃষ্টি করা যায়।
না, আমরা একজন হৃদরোগীকে দৌড়বিদের মতো দৌড়ানোর পরামর্শ দেব না। তাদের আমরা এমন কোনো কঠিন ব্যায়ামও দেবো না যাতে বুকের সম্প্রসারণ হয়ে বুকব্যথা অনুভূত হবে। তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছেন যেটা সমান্তরাল রক্ত চ্যানেল সৃষ্টিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এ যন্ত্রটির নাম ইসিপি (এক্সটার্নাল কাউন্টার পালসেশন)। মেশিনটি কৃত্রিমভাবে ধমনিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ায়। মেশিনের এক ঘণ্টার সহায়তায় এ সমান্তরাল আর্টারি-ক্যাপিলারি সিস্টেম চালু করে দেয় এবং হৃদপি-ের পেশিতে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালন শুরু করে। সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক চ্যানেল চালু করার জন্য এ মেশিনের মাধ্যমে পঁয়ত্রিশটির মতো সেশনের প্রয়োজন পড়ে। এভাবে খুব সহজেই পাইবাস সার্জারির বিকল্প হতে পারে এ মেশিন।
এসব বিকল্প হৃদরোগ চিকিৎসার চেয়ে বড় সুবিধা হলো এর জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগে না, কর্মক্ষেত্র থেকে সাময়িক অবসরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, বা এসব শরীরের ওপর কোনো আঘাতও হানে না। অপারেশনের রয়েছে নানাবিধ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অপারেশনহীন এ বিকল্প হৃদরোগ চিকিৎসায় সেসবের কোনো বালাই নেই। এই ইসিপি যন্ত্রটি সম্প্রতি হলিস্টিক হেলথ কেয়ার সেন্টারে নতুন সংযোজন।
সূত্র - দৈনিক যায়যায়দিন

