home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

গর্ভবতীর দাঁতের যত্ন
০৮ ফেব্রুয়ারী, ১৪
Tagged In:  pregnancy care  pregnancy step  
  Viewed#:   182

pregnancy-dental-careনারীর জীবনে গর্ভকালীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অনেক গর্ভবতী দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় ভুগে থাকেন। গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে হরমোনজনিত কিছু পরিবর্তনের কারণে দাঁত ও মাড়িতে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ প্রতিক্রিয়ার ফলে প্রায় ৫০-৭০% গর্ভবতী মাড়ির প্রদাহে আক্রান্ত হন। মাড়ির এ প্রদাহকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিস’ বলা হয়। এ সময় দাঁত ও মাড়িতে জমে থাকা খাদ্যকণা, যা হরমোনের প্রভাবে খুব সহজেই ডেন্টাল প্ল্যাকে রূপান্তরিত হয়।

প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিসের লক্ষণগুলো মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ির রং গাঢ় লাল হয়ে যাওয়া, দুদাঁতের মাঝের অংশের মাড়ি ফুলে যাওয়া। অন্তঃসত্ত্বার প্রথম ২ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত মাড়ির এ প্রদাহ বেশি লক্ষণীয়। এটি মোকাবিলা করার জন্য সর্বাগ্রে করণীয় হচ্ছে গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত দাঁতব্রাশ এবং ফ্লসিং করা, যাতে ডেন্টাল প্ল্যাক সৃষ্টি হতে না পারে। গর্ভবতীর দাঁতের যত্নে কয়েকটি বিষয় আলোকপাত করা হল— গর্ভাবস্থার আগে একজন দন্ত চিকিত্সকের কাছে দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া। এতে দাঁতে কোনও সমস্যা থাকলে তা তখনই নির্ণয় করে চিকিত্সা করা উচিত। দাঁতে ক্যালকুলাস (পাথর) থাকলে তা মেশিনের সাহায্যে স্কেলিং করানো উচিত। এছাড়া দাঁত ক্যাভিটি (গর্ত) থাকলে তা ফিলিং করা। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এ গর্ত পরে আরও গভীর হয়ে দাঁতে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া আক্কেল দাঁতের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

গর্ভকালীন প্রথম ও শেষ ৩ মাস দাঁতের চিকিত্সার উপযুক্ত সময় নয়। কারণ এ সময়টিতে গর্ভস্থ শিশুর গঠন ও বৃদ্ধি হয়ে থাকে। ৪ থেকে ৬ মাস চিকিত্সা নেওয়া এবং ওষুধ সেবন তুলনামূলক নিরাপদ। তবে জরুরি চিকিত্সা যে-কোনও সময়েই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী করা যেতে পারে। গর্ভকালীন অনেকে ক্ষেত্রেই সকালে বমি ভাব বা বমি হয়ে থাকে। বমির পর দাঁতে পাকস্থলী থেকে আসা এসিডের আবরণ পড়ে। তাই প্রথমেই দাঁত ব্রাশ না করে ভালোভাবে মুখ কুলি করে নিতে হবে। কারণ এসিড দ্বারা আবৃত দাঁত ব্রাশ করায় দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয় হতে পারে। ফলে বমি করার অন্তত আধা ঘণ্টা পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত। মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

এ সময় গর্ভবতীকে প্রচুর শাকসবজি, ফল, ডিম, মাছ, দুধ, দুগ্ধজাতীয় খাবার খেতে হবে। এসব খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালসিয়াম ও মিনারেল গর্ভস্থ শিশুর দাঁত ও হাড় গঠনে সহায়ক। প্রত্যেক গর্ভবতী অন্তত দুবার নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। দুই দাঁতের মাঝে জমে থাকা খাবার সুতা বা ডেন্টাল-ফ্লশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিবার খাবারের পর ভালোভাবে কুলকুচি করতে হবে। 

সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়
 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: প্রাকৃতিক বাইপাস
Previous Health Tips: মেনোপজের পরে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')