নারীর জীবনে গর্ভকালীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় অনেক গর্ভবতী দাঁত ও মাড়ির সমস্যায় ভুগে থাকেন। গর্ভাবস্থায় নারীর দেহে হরমোনজনিত কিছু পরিবর্তনের কারণে দাঁত ও মাড়িতে কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এ প্রতিক্রিয়ার ফলে প্রায় ৫০-৭০% গর্ভবতী মাড়ির প্রদাহে আক্রান্ত হন। মাড়ির এ প্রদাহকে চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায়, ‘প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিস’ বলা হয়। এ সময় দাঁত ও মাড়িতে জমে থাকা খাদ্যকণা, যা হরমোনের প্রভাবে খুব সহজেই ডেন্টাল প্ল্যাকে রূপান্তরিত হয়।
প্রেগন্যান্সি জিনজিভাইটিসের লক্ষণগুলো মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মাড়ির রং গাঢ় লাল হয়ে যাওয়া, দুদাঁতের মাঝের অংশের মাড়ি ফুলে যাওয়া। অন্তঃসত্ত্বার প্রথম ২ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত মাড়ির এ প্রদাহ বেশি লক্ষণীয়। এটি মোকাবিলা করার জন্য সর্বাগ্রে করণীয় হচ্ছে গর্ভাবস্থার শুরু থেকে নিয়মিত দাঁতব্রাশ এবং ফ্লসিং করা, যাতে ডেন্টাল প্ল্যাক সৃষ্টি হতে না পারে। গর্ভবতীর দাঁতের যত্নে কয়েকটি বিষয় আলোকপাত করা হল— গর্ভাবস্থার আগে একজন দন্ত চিকিত্সকের কাছে দাঁত ও মাড়ি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া। এতে দাঁতে কোনও সমস্যা থাকলে তা তখনই নির্ণয় করে চিকিত্সা করা উচিত। দাঁতে ক্যালকুলাস (পাথর) থাকলে তা মেশিনের সাহায্যে স্কেলিং করানো উচিত। এছাড়া দাঁত ক্যাভিটি (গর্ত) থাকলে তা ফিলিং করা। কারণ অনেক ক্ষেত্রে এ গর্ত পরে আরও গভীর হয়ে দাঁতে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে। এছাড়া আক্কেল দাঁতের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
গর্ভকালীন প্রথম ও শেষ ৩ মাস দাঁতের চিকিত্সার উপযুক্ত সময় নয়। কারণ এ সময়টিতে গর্ভস্থ শিশুর গঠন ও বৃদ্ধি হয়ে থাকে। ৪ থেকে ৬ মাস চিকিত্সা নেওয়া এবং ওষুধ সেবন তুলনামূলক নিরাপদ। তবে জরুরি চিকিত্সা যে-কোনও সময়েই চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী করা যেতে পারে। গর্ভকালীন অনেকে ক্ষেত্রেই সকালে বমি ভাব বা বমি হয়ে থাকে। বমির পর দাঁতে পাকস্থলী থেকে আসা এসিডের আবরণ পড়ে। তাই প্রথমেই দাঁত ব্রাশ না করে ভালোভাবে মুখ কুলি করে নিতে হবে। কারণ এসিড দ্বারা আবৃত দাঁত ব্রাশ করায় দাঁতের অ্যানামেল ক্ষয় হতে পারে। ফলে বমি করার অন্তত আধা ঘণ্টা পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত। মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
এ সময় গর্ভবতীকে প্রচুর শাকসবজি, ফল, ডিম, মাছ, দুধ, দুগ্ধজাতীয় খাবার খেতে হবে। এসব খাবার থেকে প্রাপ্ত ক্যালসিয়াম ও মিনারেল গর্ভস্থ শিশুর দাঁত ও হাড় গঠনে সহায়ক। প্রত্যেক গর্ভবতী অন্তত দুবার নরম ব্রাশ দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করতে হবে। দুই দাঁতের মাঝে জমে থাকা খাবার সুতা বা ডেন্টাল-ফ্লশ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিবার খাবারের পর ভালোভাবে কুলকুচি করতে হবে।
সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়

