বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রক্ত বা রক্তরস নিয়ে কিছু পরীক্ষা করলে জানা যায় একজন লোকের হার্ট অ্যাটাক
হওয়ার আশংকা আছে কিনা। যেমন- রক্তে এপো-লাইপোপ্রোটিন-বি (এপো-বি) কতটুকু আছে, তা জেনে বলে দেয়া
যায়, রক্তে কতটুকু মন্দ চর্বি এলডিএল আছে। এ মন্দ চর্বি বেশি থাকা মানেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশংকা
আছে। তেমনি রক্তে এপো-লাইপোপ্রোটিন১-ই ৪ (এপো-ই ৪)-এর পরিমাণ জেনে খাদ্যের ধরন পরিবর্তন করতে
হবে। অন্য সূচকগুলো স্বাভাবিক থাকলেও লাইপোপ্রোটিন-এ (এলপি-এ) প্রোটিনের বৃদ্ধি বিপজ্জনক। এই
প্রোটিন এক ভাগ বৃদ্ধি পেলেই হার্ট অ্যাটাকের আশংকা অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া ‘নন এলডিএল’ রক্তে বৃদ্ধি
নিয়ে গবেষণা চলছে।
আজকাল অনেকেই ‘হোমোসিস্টিন’-এর কথা জানেন। এটি প্রাকৃতিক অ্যামাইনো এসিড। এ এসিড শরীরে তৈরি হয়ে
আবার বের হয়েও যায়। কোনো কারণে অ্যামাইনো এসিডের মাত্রা রক্তে বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটাকের আশংকা
অনেক বেড়ে যায়। উচ্চ ঘনত্বের কলেস্টেরল ‘এইচডিএল’-টুবি হার্ট ও হার্টের রক্তনালিকে বাঁচিয়ে রাখে। এই
ভালো চর্বি কমে গেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
একটি ব্যাকটেরিয়ার কথা হয়তো আমরা অনেকেই জানি। এর নাম ‘ক্লেমাইডিয়া নিউমোনি’। এটি রক্তে পাওয়া
গেলে বিপজ্জনক। এটি ভীষণ ক্ষতি করে এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়। একটি পরীক্ষার নাম ‘সিআরপি’ অর্থা
সি-রিয়েকটিভ প্রোটিন। রক্তে এটি বেড়ে গেলে ধমনিতে প্রদাহ হয়। মাত্রা বেশি হলে প্রদাহ আরও বাড়বে।
একসময় হার্টের ক্ষতি করবে। ‘রক্তের ফিব্রিনোজেন’ পরীক্ষা করে যদি দেখা যায় অনেক বেশি, তাহলে তা
হার্টের জন্য ক্ষতিকর। এ পদার্থ রক্তকে দ্রুত জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে। ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তে ইনসুলিন ক্রমশ বাড়তে থাকলে হার্ট অ্যাটাকের আশংকাও বেড়ে যায়,
যদিও এই হরমোন ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব পরীক্ষার পর মাত্রা দেখে অন্তত ধরে নেয়া যায়,
কোনো লোকের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কতটুকু আশংকা আছে। এক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে সহজেই জীবন
বাঁচানো সম্ভব।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর

