home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

এই শীতে শিশুর নিউমোনিয়া
১৮ জানুয়ারী, ১৪
Tagged In:  pneumonia  child care  
  Viewed#:   76

baby-pneumoniaবাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হলো নিউমোনিয়া। আর শীতকালেই এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।

উপসর্গের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে তিন ধরনের নিউমোনিয়াকে চেনাজানা দরকার। খুব মারাত্মক, মারাত্মক ও সাধারণ নিউমোনিয়া।
 
মারাত্মক বা খুব মারাত্মক লক্ষণগুলো না থাকলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি না করে মুখে খাবার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা যায়।
 
এই চিকিৎসায় যদি শিশুর জ্বর কমে যায়, শিশু ভালোমতো খেতে পারে ও অবস্থার উন্নতি হয়, তবে নির্দেশনামতো পাঁচ দিনের অ্যান্টিবায়োটিক পূর্ণ মেয়াদে শেষ করতে হবে। যদি উন্নতি না হয়ে বরং মারাত্মক বা খুব মারাত্মক লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
 
সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা পেলে সাধারণত দুই দিনের মধ্যে শিশুর অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে। অ্যান্টিবায়োটিক ও অক্সিজেন ছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সঠিক পরিচর্যা জরুরি।  জ্বর ৩৯ (১০২.২ফারেনহাইট ) সেন্টিগ্রেড বা বেশি থাকলে প্যারাসিটামল দেওয়া যায়।
 শ্বাস নিতে শব্দ হলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো নেবুলাইজেশন বা শ্বাসনালি প্রসারক ওষুধ দেওয়া হয়।
 শিশুর গলায় ঘন কাশি আটকে গেলে সাকশান দিয়ে তা বের করে আনা যায়।
 সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে, বুকের দুধ ঘন ঘন খাওয়ানো ও অন্যান্য তরল খাওয়াতে হবে। তবে তরলের পরিমাণ সঠিক রাখাও জরুরি। অনেক কম বা অত্যধিক স্যালাইন বা জলীয় পদার্থ কোনোটাই ভালো নয়।
 সময়মতো ও সঠিক মাত্রায় ও মেয়াদে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে।
 বাচ্চা যদি খেতে বা পান করতে অসমর্থ থাকে বা অচেতন থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শমতো নাকে নল দিয়ে খাওয়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
 
কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে নিচের যেকোনো একটি উপসর্গ থাকলে বুঝতে হবে যে শিশু খুব মারাত্মক ধরনের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

এগুলো হলো:
১. জিব ও ঠোঁট নীল বর্ণ হয়ে যাওয়া।

২. বুকের দুধ বা পানীয় পান করতে না পারা বা বমি করে দেওয়া।

৩. খিঁচুনি, নিস্তেজ বা অচেতন হয়ে পড়া।
 
খুব মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা এবং দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক ও অক্সিজেন শুরু করা জরুরি।
 
কাশি ও শ্বাসকষ্টের সঙ্গে নিচের যেকোনো একটি লক্ষণ দেখা গেলে মারাত্মক নিউমোনিয়া বলা হয়।
যেমন:
১. বুকের নিচের অংশ দেবে যাওয়া।
২. নাসারন্ধ্রের দুপাশ ফুলে ওঠা।
৩. দুই মাসের কম বয়সী শিশুর কষ্টকর প্রশ্বাস ও ঘড়ঘড় শব্দ।
৪. শ্বাস-প্রশ্বাসের হার দ্রুত, মানে মিনিটে ৭০ বা তার বেশি।
এ ক্ষেত্রেও হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হবে।
 
নিউমোনিয়া হলো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াঘটিত ফুসফুসের সংক্রমণ। তবে ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
 
সাধারণ নিউমোনিয়ায় কাশি বা শ্বাসকষ্টের সঙ্গে শিশুর দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের হার লক্ষ করা যায়।
বয়স দুই মাসের কম
শ্বাস মিনিটে ৬০ বা ততোধিক
বয়স ২-১২ মাস
শ্বাস মিনিটে ৫০ বা ততোধিক
বয়স ১২ মাস-৫ বছর
শ্বাস মিনিটে ৪০ বা ততোধিক হলে বুঝতে হবে এটি সাধারণ সর্দি-কাশি নয়, এটি নিউমোনিয়া।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: ওজন কমাতে স্বল্প ক্যালরির কিছু খাবার-১
Previous Health Tips: গর্ভকালীন রক্তশূন্যতা

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')