শিশুর অ্যালার্জি
20 January,14
Viewed#: 86
বড়দের চেয়ে শিশুদের অ্যালার্জি জনিত অসুখ-বিসুখ বেশি হয়ে থাকে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। অ্যালার্জিতে হাঁচি থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অ্যালার্জি সামান্য অসুবিধা করে আবার কারও জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঘর-বাড়ির ধুলো ময়লায় মাইট জীবাণু, ফুলের বা ঘাসের পরাগ রেণু, পাখির পালক, জীব-জন্তুর পশম, ছত্রাক, কিছু খাবার ও ওষুধ, নানা রকম রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি থেকে অ্যালার্জি জনিত রোগ হয়ে থাকে।
আমাদের শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেম থাকে, কোনো কারণে এই সিস্টেমে গোলযোগ দেখা দিলে অ্যালার্জির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আমাদের শরীর ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। কখনও কখনও ক্ষতিকর নয় এমন বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে আমাদের দেহ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এই অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়। অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী বহিরাগত বস্তুকে অ্যালার্জি উৎপাদক বা অ্যালার্জেন বলা হয়।
অ্যালার্জি জনিত সর্দি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস : অনবরত হাঁচি, নাক, চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, কারও কারও চোখ দিয়েও পানি পড়ে এবং চোখ লাল হয়ে যায়। এটি দুই ধরনের-
* সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
* পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
অ্যাজমা বা হাঁপানি : কাশি, ঘন ঘন শ্বাসের সঙ্গে বাঁশির মতো শব্দ হওয়া বা বুকে চাপ লাগা, বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডা লাগা। অনেক শিশুর রাতে নাক দিয়ে পানি পড়ে বা কাশি হয়। এই লক্ষণগুলো অনেক মা নিউমোনিয়া বলে ধরে নেন। এটি শিশুদের অ্যাজমার প্রাথমিক লক্ষণ। পরবর্তী পর্যায়ে বড়দের মতো অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন-
* বুকের মধ্যে বাঁশির মতো শাঁই শাঁই আওয়াজ
* শ্বাস নিতে ও ছাড়তে কষ্ট
* দম খাটো অর্থা ফুসফুস ভরে দম নিতে না পারা
* ঘন ঘন কাশি
* বুকে আটসাট বা দম বন্ধ ভাব
* রাতে ঘুম থেকে উঠে বসে থাকা
আর্টিকেরিয়া : ত্বক লালচে ফোলা হয় এবং চুলকায়। হাত-পা ফুলে যেতে পারে। এটি কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। যে কোনো বয়সে আর্টিকেরিয়া হতে পারে, শিশুদের স্বল্পমেয়াদে দেখা যায়।
সংস্পর্শজনিত অ্যালার্জিক ত্বক প্রদাহ/ অ্যালার্জিক কনটাক্ট ডারমাটাইটিস : ত্বকের স্থানে স্থানে শুকনো, খসখসে, ছোট দানার মতো ওঠে। এটি ছোটদের বেশি
হয়।
একজিমা : একজিমা বংশগত চর্মরোগ। এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়, চুলকায়, আঁশটে ও লালচে হয়। চুলকানোর জন্য ত্বক পুরু হয় ও উঠে যায়। ফলে ত্বক জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পানি পড়ে এবং দেখতে ব্রণের মত হয়। বচ্চাদের মুখে ও ঘাড়ে এবং হাত-পায়ে বেশি দেখা যায়।
অ্যালার্জিক কনজাংকটাইভাইটিস : চুলকানো ও চোখ লাল হয়ে যায়। উপসর্গ হচ্ছে-
* দুই চোখই লাল হবে।
* দুই চোখে চুলকানি এবং জ্বলুনি ভাব।
* চোখের পাতা ফুলে যেতে পারে।
খাওয়ায় অ্যালার্জি : গরুর দুধ, গরুর গোশত, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেট ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। ৬ থেকে ৮ ভাগ শিশু এবং ১ থেকে ২ ভাগ বৃদ্ধ খাদ্য অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
অ্যালার্জির মাত্রা বেশি আছে কি-না তা দেখা হয়।
স্কিন প্রিক টেস্ট : রোগীর ত্বকের ওপর বিভিন্ন অ্যালার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয় এবং কোনো জিনিসে অ্যালার্জি আছে তা ধরা পড়ে।
রক্তের আরএসটি বা রেডিও অ্যালারগোসোরবেন্ট (রাস) টেস্ট : এই পরীক্ষার জন্য রক্ত নিতে হয়। স্কিন প্রিক টেস্ট কোনো কারণে করা না গেলে এই পরীক্ষা করা হয়। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য এটি প্রযোজ্য।
বুকের এক্স-রে : বুকের এক্স-রে করে দেখা দরকার অন্য কোনো কারণে শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা।
স্পাইরোমেট্রি বা ফুসফুসের ক্ষমতা দেখা : রোগীর ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। ৫ বছরের বেশি বয়সের শিশুর জন্য প্রযোজ্য।
অ্যালার্জির সমন্বিত চিকিৎসা হল অ্যালার্জেন পরিহার : অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে তা পরিহার করে চললে অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
ওষুধ প্রয়োগ
অ্যালার্জি ভ্যাকসিন বা ইমুনোথেরাপি : ভ্যাকসিন অ্যালার্জি রোগীদের সুস্থ থাকার অন্যতম চিকিৎসা পদ্ধতি। প্রায় ৮০ বছর ধরে ভ্যাকসিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত।
সূত্র - দৈনিক যুগান্তর