ডেঙ্গু জ্বর হতে পারে যে কোনো একটি ভাইরাস আক্রমণ করলে কিন্তু ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ারপর সঙ্গে সঙ্গেই অন্য ভাইরাসের আক্রমণ ও রোগের প্রকোপ ত্বরান্বিত হয়। তাই ডেঙ্গুজ্বরের চার রকমের ভাইরাসের জন্য টেট্রাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন লাগে।মানুষ ছাড়া অন্য কোনো জীবের ডেঙ্গু হয় না, থাইল্যান্ড ভ্যাকসিনের রিসার্চেঅগ্রগতি অর্জন করলেও এখনও বাজারে ভ্যাকসিন আসেনি।
মশা : যেহেতু ভ্যাকসিননেই, তাই মশা ও তার লার্ভা বা ডিম নিশ্চিন্ত করাই আমাদের টার্গেট। এডিসমশা ডমেস্টিক বা গৃহপালিত। দেয়ালের কোণে, দরজার ফাঁকে ও পর্দার ভাঁজে সেঁটে থাকে এডিস। ডেঙ্গু এড়াতে হলে এডিস মশাকে প্রতিহত করতে হবে। মশার ডিম পাড়ার বা লার্ভা জন্মাবার জায়গা হল জলকান্দা, ডিমের খোসা, নারিকেলের খোলা, এয়ারকুলার/এসি, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, ফুলের টব ও নির্মিয়মাণ ইমারতের চৌবাচ্চায় জমে থাকা পানি এবং বাসার পাশে জমানো আর্বজনার পানি।
এ জন্য এডিস মশাকে পাত্র মশাও বলে। কোনো অবস্থাতেই এসব ছোট জলাধারে পাঁচদিনের বেশি পানি জমতে দেয়া যাবে না। তাহলে মশা ডিম দিবে না, লার্ভা জন্মাবে না। ঘরের মধ্যে মশা মারতে বা ঠেকাতে হবে। শুধু রাতে নয়, দিনেও মশারি ব্যবহার করতে হবে। কয়েল, ¯েপ্র, ম্যাট, লিকুইড- সব ধরনের মশকনিধক ব্যবহার করতে হবে।দেয়ালের কোণে, দরজার ফাঁকে ও পর্দার ভাঁজে স্প্রে করতে হবে। ঘরের মশা নিজেকেই মারতে হবে। মশা যাতে না কামড়ায় সে জন্য ফুলহাতা জামা পড়ার অভ্যাস করতে হবে।
রোগী ও ওষুধ : রোগী এবং আত্মীয়-স্বজনকে জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে, পানি খাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসক : ডাক্তারকে হেমোরেজিক ডেঙ্গু শনাক্ত করতে হবে। রোগী শক সিন্ড্রমে যাতে না যায় সে জন্য ব্লাড প্রেসার, প্রস্রাবের পরিমাণ ইত্যাদি দেখে মনিটর করতে হবে। অযৌক্তিক, অতিরিক্ত চিকিৎসার জন্য জটিলতা যেন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সব ভাইরাসই ডেঙ্গু নয়, ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু আর দশটা ভাইরাসের মতোই সাধারণ রোগ। হেমোরেজিক না হলে ডেঙ্গু সিরিয়াস নয়। হেমোরেজিক হলেও ভয় নেই, যদি গ্রেড-১ ও গ্রেড-২ হয়।চিকিৎসককে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে যেন গ্রেড-২ ডেঙ্গু গ্রেড-৩ বাগ্রেড-৪-এ না যায়। পরিমিত পানি দিতে পারলেই এটা সম্ভব। গ্রেড-১, গ্রেড-২বাসায় বা আউটডোরেই চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।
সূত্র – যুগাম্তর.কম

