ঢাকার সাভারের বেসরকারি একটি হাসপাতাল মামলার বাদী ও দুই আসামিকে অর্থের বিনিময়ে ভুয়া চিকিৎসাসনদ দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাসপাতালটির নাম সাভার আধুনিক হাসপাতাল। সাভারের শিমুলতলা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে এর অবস্থান। হাসপাতালের মালিক চিকিৎসক মকসুদ ঢালী ২০০৯-১০ সালে লাইসেন্স নেওয়ার পর আর হাসপাতালের নবায়ন করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন দেওয়ান।
যেভাবে শুরু: মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজ নগর গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে লিপি আক্তারকে মারধরের ফলে গুরুতর জখমের চিকিৎসাসনদ দেন মকসুদ ঢালী। ওই সনদে গত ১৪ আগস্ট রাত ১১টায় লিপিকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলা হয়। লিপি ওই সনদ দিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাইর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ১৪ আগস্ট রাত নয়টায় পাশের চাপরাইল গ্রামে লিপির সাবেক স্বামী আবু সায়েম, বৃদ্ধ শ্বশুর আবদুস সোবহান, শাশুড়ি আয়শা বেগম, ননদের স্বামী মনির হোসেন ও ভাশুরের স্ত্রী জহুরা আক্তার তাঁদের বাড়িতে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান।
মামলা করার কয়েক দিন পর চিকিৎসাসনদের জন্য মকসুদের কাছে যান আসামি আবু সায়েম ও মনির হোসেন। ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে তাঁদেরও সনদ দেন মকসুদ ঢালী। সনদ অনুযায়ী সায়েম অসুস্থ হয়ে ১২ থেকে ১৬ আগস্ট ও মনির হামলার শিকার হয়ে ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অর্থাৎ একই চিকিৎসকের সনদ বলছে, দুই আসামি হামলার ঘটনার সময়ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সায়েম প্রথম আলোর কাছে অভিযোগ করেন, তিনি প্রায় চার মাস আগে লিপির সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। থাকেন সাভারের সোবহানবাগে। কিন্তু লিপি তাঁদের হয়রানির উদ্দেশ্যে ভুয়া চিকিৎসাসনদ নিয়ে মিথ্যা মামলা করেন। সায়েম বলেন, হামলা বা আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটলে লিপি সরকারি সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতেন। অথচ তিনি রাতে গ্রাম থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। এ কারণে হামলা ও চিকিৎসাসনদের বিষয়টি ভুয়া প্রমাণের জন্য তাঁরাও আধুনিক হাসপাতালের মকসুদ ঢালীকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ভুয়া চিকিৎসাসনদ নেন।
লিপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি মকসুদ ঢালীকে দিয়ে চিকিৎসা করান।
২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আধুনিক হাসপাতালে যাওয়ার পরপরই মকসুদের ভাই মোর্শেদ ঢালী এ প্রতিবেদকের কাছে এগিয়ে এসে বলেন, ‘ভাই সার্টিফিকেট লাগবে? সার্টিফিকেট নিলে বসকে (মকসুদ ঢালী) ডেকে নিয়ে আসি।’ পরিচয় দেওয়ার পর মোর্শেদ আর কোনো কথা বলেননি। তিনতলার এই হাসপাতালে ঢুকে মকসুদ ও একজন সেবিকা ছাড়া আর কাউকে পাওয়া যায়নি। কোনো রোগীও ছিল না।
জানতে চাইলে লিপি, সায়েম ও মনিরকে চিকিৎসাসনদ দেওয়ার কথা স্বীকার করে মকসুদ ঢালী বলেন, ‘তাঁরা সবাই আমার হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ কারণেই তাঁদের চিকিৎসাসনদ দেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে ভুয়া চিকিৎসাসনদ দেওয়ার কথা সত্য নয়।’ তাহলে এক রোগীর ওপর হামলার সময় ও আগে-পরের দিন কীভাবে দুই আসামি ভর্তি থাকেন—জানতে চাইলে মকসুদ বলেন, ‘দাদা, আমি তো বিপদে পড়ে গেলাম।’
সূত্র - প্রথম আলো

