হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫৫০। গত রোববার রোগী ভর্তি ছিল দুই হাজার ১৪৬ জন। অর্থাৎ প্রতি শয্যার বিপরীতে রোগী ছিল প্রায় চারজন। শয্যার অতিরিক্ত রোগীদের জায়গা দেওয়া হয়েছে শয্যার আশপাশের মেঝেতে ও বারান্দায়।
এ চিত্র চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের। এদিকে হাসপাতালে জনবল সংকটও রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম শয্যা ও জনবলের অভাবে স্বাস্থ্যসেবার মান ধরে রাখা যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি হওয়া রোগী ছাড়া প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা নেন আড়াই থেকে তিন হাজার রোগী।
২ অক্টোবর দুর্ঘটনায় পা ভেঙে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারির বাসিন্দা মো. শফিকুর। গত ছয় দিনেও তিনি শয্যা পাননি। শফিকুর বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই বারান্দায় বিছানা পেতে আছি। চিকিৎসক বলেছেন অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু আমার আগে ভর্তি হওয়া রোগীর চাপে এখনো সিরিয়াল পাইনি। বাইরে চিকিৎসা করার সামর্থ্যও নেই। তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৯৬৪ সালে এ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। ৫০ বছর ধরে এর জনবল কাঠামো একই রকম আছে। সম্প্রতি এ হাসপাতালে ৫০ শয্যার কার্ডিয়াক সার্জারি ভবন চালু করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ‘আউটডোর কমপ্লেক্স’। কিন্তু সেটিও প্রয়োজন মেটাতে পারছে না।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, রোগীদের অনেকে শয্যায়, আবার অনেকে বারান্দায় বিছানা পেতে শুয়ে আছে। রোগী ও তাদের সঙ্গে থাকা আত্মীয়স্বজন মিলে পুরো হাসপাতালে গিজগিজ করছে মানুষ। মানুষের চলাফেরার কারণে বারান্দায় রোগীদের শুয়ে থাকায় সমস্যা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে ও বাড়তি চাপের কারণে শৌচাগারসহ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, রোগী অনুযায়ী এক হাজার ৬০০ জন সেবিকা দরকার। অথচ আছেন ৫৩৭ জন। সংকট আছে হাসপাতালে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরও। সংকট রয়েছে চিকিৎসার সরঞ্জামেরও। পুরো হাসপাতালে এমআরআই ও সিটি স্ক্যান যন্ত্রের সংখ্যা একটি করে। এগুলোর মেয়াদও শেষ হওয়ার পথে। যেকোনো মুহূর্তে বিকল হয়ে যেতে পারে অতিপ্রয়োজনীয় এ যন্ত্রগুলো।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খোন্দকার শহিদুল গণি প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগেই শয্যা ও জনবলের সংকট প্রকট। এর ফলে কোনোভাবেই সেবার কাঙ্ক্ষিত মান ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিবছর হাসপাতালের জন্য যে বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। চাহিদা ও আন্তরিকতা থাকা সত্ত্বেও সব রোগীকে বিনা মূল্যে সব ওষুধ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর পরও তাঁরা সীমিত সম্পদ নিয়ে সেবা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সুবিধা ও জনবল বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি এ বিষয়ে আশার বাণীও শুনিয়েছে মন্ত্রণালয়। প্রায় ৫০০ শয্যার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২ করার পরিকল্পনা চলছে।
সূত্র - প্রথম আলো

