হেলথকেয়ার ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়ন চেয়েছে জিএসকে-সেভ দ্যা চিলড্রেন
18 August,14
Viewed#: 11
উন্নয়শীল দেশগুলো শিশু মৃত্যহার কমিয়ে আনার উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোর মধ্য থেকে সেরাটিকে পুরস্কৃত করবে জিএসকে ও সেভ দ্যা চিলড্রেন। এক মিলিয়ন ডলারের হেলথ কেয়ার ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ প্রদান করার জন্য উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রস্তাব আহবান করেছে আয়োজকরা। এই আবেদন করা যাবে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত। আর ডিসেম্বরে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
জিএসকে ও সেভ দ্যা চিলড্রেন ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দিয়েছিল। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্য থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কার পেয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের দেশের সরকারের স্বাস্থ্যউন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছিল। একই সঙ্গে নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের নীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে।
২০১৩ সালের পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে মাইক্রোক্লিনিক টেকনোলজিস লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি তাদের ‘জিআইডিআই’তরউর’ মোবাইল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম শীর্ষক প্রকল্পের জন্য এক লক্ষ মার্কিন ডলার জিতেছিল। কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।
শিশুদের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে ওষুধ সরবরাহ, সেবার মান ও সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হওয়ার কারণে এই পদ্ধতি দেশটির জাতীয় ই-সাস্থাসেবা প্লাটফর্মের একটি অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ‘জিআইডিআই’ পদ্ধতি পাঁচ হাজার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পে যুক্ত হতে যাচ্ছে যা আগামী বছর থেকেই শুরু হবে।
আফ্রিকার দেশ মালিতে কমিউনিটিভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান মুসো (Muso)। প্রতিষ্ঠানটি দারিদ্র্য-সংশ্লিষ্ট শিশু মৃত্যুহার কমাতে কাজ করে থাকে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না এমন নারী ও শিশুদের দ্রুত চিহ্নিত করার কাজে এই প্রতিষ্ঠানটিও এক লক্ষ মার্কিন ডলার পেয়েছিল। মালির ৭৭ হাজার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পুরস্কারের এ অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। পুরস্কারটি জেতায় মালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটির জাতীয় কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যক্রম ত্বরান্তিত করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনার খসড়া তৈরিতে মুসো’র সহায়তা নিচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবনী পুরস্কারের স্বীকৃতি পাওয়া পূর্বের উদ্ভাবনীসমূহ দেশের সীমারেখা অতিক্রম করে বর্তমানে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাস্তবায়িত হচ্ছে। যে উদ্ভাবনীগুলো শিশুর জীবন রক্ষায় সহায়তা করতে পারে সেগুলোর বিনিময় নিশ্চিত করা হচ্ছে।
২০১৩ সালের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছিল খুব অল্প দামের কনটিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার কিট যা মালাও-এর ‘ফ্রেন্ডস অব সিক চিল্ড্রেন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন করেছিল।
প্রি-ম্যাচিউর নবজাতকদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তায় সহজে কাজ করে যন্ত্রটি। মালাও-এর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এবং পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সংস্থাটি এখন তানজানিয়া, জামবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় হাসপাতালে প্রশিক্ষণ দেয়ার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির বিনিময় করছে। যদি পুরো আফ্রিকা মহাদেশে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এই প্রযুক্তির পক্ষে প্রতি বছর এক লক্ষ ৭৮ হাজার আফ্রিকান শিশুর জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এ বছরের স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবনী পুরস্কারের জন্য আবেদন করতে পারবে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ যা পাঁচ বছরের কম বয়সী সুস্থতার সঙ্গে বেঁচে থাকা শিশুদের হার বৃদ্ধিতে বাস্তব ও প্রয়োগযোগ্য সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে, যেগুলো টেকসই এবং যেগুলোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করা ও অন্য জায়গায় চালু করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে- এরূপ উদ্ভাবনীর ক্ষেত্রেই কেবল এ পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে।
এ বছর পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবায় নবজাতকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে বিশেষ নজর দেয় এমন উদ্ভাবনীগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
আফ্রিকা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত জিএসকে’র ভাইস প্রেসিডেন্ট রামিল বার্ডেন বলেন, “গত বছরের পুরস্কার জেতার মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিজয়ীদের কাছ থেকে আমরা যে সাফল্য-গাথা শুনছি- তা সত্যিই উৎসাহব্যঞ্জক। আমরা চাই এই সাফল্য অন্যত্র ছড়িয়ে দিতে। যে দেশে বা যে অঞ্চলেই কাজ করুক না কেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই এককভাবে বলতে পারবে না যে আসলে কখন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশের হার বাড়ছে। আমাদের যা করতে হবে তা হলো প্রতিনিয়ত নতুন ও বিচিত্র ধারণার অনুসন্ধান করা।”
তিনি বলেন, “পুরস্কারটি এটারই স্বীকৃতি দেয়, যে উন্নয়ন-প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের সবচেয়ে কার্যকর সমাধান প্রায়ই এমন জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে পাওয়া যায়, যারা এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই বসবাস করে এবং এ ধরনের জনগোষ্ঠীর সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে স্থানীয় সমাধান-পদ্ধতিগুলোর উন্নয়নসাধন করে আমরা এর বৈশ্বিক প্রভাব সৃষ্ঠি করতে পারি।”
সেভ দ্য চিল্ড্রেন-এর স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধান ড. স্যাম অ্যাগবো বলেন, “এ বছর আমরা নির্দিষ্ট করে এমন উদ্ভাবনীর খোঁজ করছি যা উন্নয়নশীল বিশ্বে নবজাতকের স্বাস্থ্য উন্নয়নে সহায়তা করছে। প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিয়ন শিশু জন্মের এক মাসের মধ্যেই মারা যায়। কিন্তু এ ধরনের অনেক মৃত্যুই স্থানীয় স্বাস্থ্য সুবিধা ও সম্পদ ব্যবহার করে রোধ করা সম্ভব। এ ধরনের মৃত্যু রোধ করতে হলে আমাদের অবশ্যই বিভিন্ন পদ্ধতির অবলম্বনসহ যারা এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে, তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতার বিনিময় করতে হবে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে যা চূড়ান্তভাবে প্রথিবীর কিছু সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে।”
সূত্র - নতুন বার্তা