ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য
09 June,14
Viewed#: 71

ডায়াবেটিস একটি রোগ। বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। আবার ডায়াবেটিস ২ ধরনের। ডায়াবেটিস হলে একে সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা সম্ভব হয় না তবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ডায়াবেটিস হলে সাধারণত বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। ডায়াবেটিসের পুরো বিষয় সম্পর্কে আমরা জানতে চাই। সেই কারণেই ডা. মোঃ রাজিউর রহমানের মুখোমুখি হয় সাপ্তাহিক। তিনি বারডেম জেনারেল হসপিটালের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরিফুর রহমান।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিস কী?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: ডায়াবেটিস হলো অগ্ন্যাশয়ের একটি রোগ। সাধারণত অগ্ন্যাশয় হতে ইনসুলিন রক্তে নিঃসৃত হয়। ইনসুলিন দেহকে শর্করা ও ফ্যাট ব্যবহারে সাহায্য করে। যখন একজন ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয় তার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলো হতে পারে-
১. ইনসুলিন তৈরি হয় না।
২. অল্প পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি হয়।
৩. ইনসুলিন তৈরি হয় কিন্তু সঠিক জায়গায় কাজ করে না।
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের সুস্থ থাকার জন্য সঠিক জীবনযাপন জরুরি।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিসের কারণগুলো কী?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: ডায়াবেটিসের প্রধান কারণগুলো হলো-
১. পারিবারিক ইতিহাস
২. অতিরিক্ত স্থূলতা
৩. বয়স
৪. গর্ভাবস্থা।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিসের টাইপগুলো কী কী?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: ডায়াবেটিস দুই ধরনের হতে পারে। যেমন-
১. টাইপ-১: অগ্ন্যাশয় খুব অল্প পরিমাণ ইনসুলিন অথবা কোনো ইনসুলিন নিঃসরণ করে না। টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের বেঁচে থাকার জন্য ইনসুলিন নিতে হয়।
২. টাইপ-২: ইনসুলিন তৈরি হয় কিন্তু কাজ করে না। ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভোগে।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কী কী করণীয়?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সঠিক ডায়েট, ব্যায়াম এবং ওষুধ নেয়া জরুরি।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ নিম্নলিখিত উপায়ে করা যায়-
১. ইনসুলিন
২. খাবার নিয়ন্ত্রণ
৩. ব্যায়াম।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা যায়-
১. ডায়েট এবং ব্যায়াম
২. ওষুধ
৩. ইনসুলিন (অপেক্ষাকৃত কম)।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো কী কী?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: টাইপ-১ ডায়াবেটিস-
১. অতিরিক্ত তৃষ্ণা
২. শুষ্ক মুখহ বারংবার মূত্রত্যাগ
৩. ওজন হ্রাস
৪. ক্লান্তি
৫. অস্পষ্ট দৃষ্টিক্ষমতা।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস-
১. কাটা বা ঘা ধীরে শুকানো
২. চামড়ায় চুলকানি
৩. অস্পষ্ট দৃষ্টিক্ষমতা
৪. টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কিছু লক্ষণ।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিস নির্ণয়ের মাপকাঠি কী?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক রক্ত এবং মূত্র পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। সাধারণ অবস্থায় রক্তে শর্করা ৭০-১০০ মি.গ্রা/ডেসি.লি হতে পারে। ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য খাবারের আগে ব্লাড সুগার পরিমাপ করা হয় এবং এটি ১২৬ মি.গ্রা/ডেসি.লি কিংবা তার উপরে হলে ডায়াবেটিস আছে ধরে নেয়া হয়।
সাপ্তাহিক: ডায়াবেটিস কি নিরাময়যোগ্য?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: না। ডায়াবেটিস নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সঠিক নিয়ন্ত্রণ না হলে ডায়াবেটিস নিম্নলিখিত পর্যায়ে যেতে পারে-
১. হার্টের অসুখ
২. কিডনির অসুখ
৩. উচ্চ রক্তচাপ
৪. নিম্ন রক্তচাপ
৫. চোখের ক্ষতি
৬. দাঁতের ক্ষতি
৭. পায়ে ইনফেকশন
৮. নার্ভের ক্ষতি।
সাপ্তাহিক: স্বল্পমাত্রার ব্লাড সুগারের লক্ষণগুলো কী কী?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: যখন একজন ব্যক্তির ব্লাড সুগার ৬০ মি.গ্রা/ডেসি.লি এর কম হয় তখন বলা যায় রোগীটির স্বল্পমাত্রার ব্লাড সুগার আছে। লক্ষণগুলো হলো-
১. দুর্বলতা
২. অতিরিক্ত ক্ষুধা
৩. কাঁপুনি
৪. ঘাম হওয়া
৫. হৃৎপিণ্ডের অতিরিক্ত স্পন্দন
৬. ফ্যাকাসে চামড়া
৭. উদ্বিগ্ন ব্যবহার।
সাপ্তাহিক: ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে একই সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিন কি নেয়া যায়?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: হ্যাঁ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে একই সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিন নেয়া যায়।
সাপ্তাহিক: কীভাবে ডায়াবেটিসের জটিলতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
ডা. মোঃ রাজিউর রহমান: চোখের রোগ (রেটিনোপ্যাথি)- রোগীদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখ পরীক্ষা করা জরুরি।
কিডনির রোগ (নেফরোপ্যাথি)- ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি বছর মূত্র পরীক্ষা করা উচিত। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। কারণ উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের অন্যতম কারণ।
নার্ভের রোগ (নিউরোপ্যাথি)- সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের হাত বা পায়ের পাতায় অসাড়তা বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এ কারণে রোগীদের নার্ভের কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।
সূত্র - সময়ের কন্ঠশর