ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ, যা ইনসুলিনের সম্পূর্ণ বা আংশিক অভাবের কারণে হয়ে থাকে। শরীরে যথাযথভাবে গ্লুকোজ ব্যবহার করতে না পারার ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ মাত্রারিক্তভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে ডায়াবেটিস হয়। ইনসুলিন হচ্ছে ডায়াবেটিস চিকিৎসর একটি অন্যতম উপায়, যা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অপরিহার্য। শরীরে ইনসুলিনের অভাব হলে কোষে গ্লুকোজ প্রবেশের পরিমাণ কমে যায়। ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে প্রায়ই ইনসুলিন রেজিস্টেন্সের ব্যাপারটি জড়িত থাকে, যাতে ইনসুলিন কোষগুলোয় গ্লুকোজ প্রবেশ করানোর স্বাভাবিক কাজটি করতে পারেন। যেহেতু ডায়াবেটিসের কোনো নিরাময় নেই, তাই রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করাই হলো এর চিকিৎসার একমাত্র উদ্দেশ্য। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ডায়াবেটিস রোগী বিভিন্ন ধরনের জটিলতা যেমন-মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্নায়ুরোগ, কিডনি সমস্যা ও চোখের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ ডায়াবেটিক রোগী রয়েছে। যাদের প্রায় ১৩ লাখ রোগীই ইনসুলিননির্ভর। এসব ইনসুলিনের প্রচলিত কিছু সমস্যা থাকায় রোগীরা হাইপোগ্লাইসেমিয়াসহ নানা ঝুঁকিতে ভুগত। তা ছাড়া এসব ইনসুলিনেরই দিনে একাধিকবার নিতে হয়। তবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নতুন প্রযুক্তির ইনসুলিন এনালগের বড় ধরনের চাহিদা রয়েছে। এমনই একটি এনালগ ইলো ইনসুলিন গ্লারজিন। দেশীয় ওষুধ কোম্পানি ইনসেপাট ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড প্রথমবারের মতো গত ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশে উন্নত ফর্মুলার মানসম্মত ইনসুলিনসস 'গ্লারজিন ভাইব্রেনটা' গ্লারজিন প্রস্তুত এবং বাজারজাত করে। ওষুধটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো-দিনে মাত্র একবার নেয়ার হলেই ২৪ ঘণ্টা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ফলে রোগীরা ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়ার স্বাভাবিক ভীতি থেকে মুক্তি পায় এবং এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকিও কম। এটি রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের জটিলতাও দূর করে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ ইনসুলিনের বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। নতুন প্রযুক্তির ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের জটিলতাও দূর করে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ ইনসুলিনের বেশকিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।
স্থানীয় একটি হোটেল সম্প্র্রতি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন গ্লারজিনের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন গ্লারজিনের ভূমিকার ওপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট জার্মান বিজ্ঞানী ড. কার্ট এবার হার্ড ড্রেগার পিএইচডি, যিনি গ্লারজিন আবিষ্কারকদের মধ্যে অন্যতম একজন। এছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত আরো বেশকিছু ওষুধ আবিষ্কারেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির প্রেসিডেন্ট প্রফেসর এ কে আজাদ খান। অনুষ্ঠানে ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডে ভূমিকার কথা বলেন ড. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল।
সূত্র - যায়যায়দিন

