বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩২ হাজার শিশু ও ১৪ হাজার মহিলার মৃত্যু হয় শুধু রান্নাঘরের ধোঁয়াজনিত রোগের কারণে। তাই সময় এসেছে রান্নাবান্নায় প্রচলিত চুলার ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হবার।
এ সমস্যা সমাধানে বেশ উদ্যোগী বাংলাদেশ সরকার। সম্প্রতি দেশে পাঁচ লাখ গ্রাহকের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে পরিবেশে বান্ধন 'বন্ধু চুলা'। ৫০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী এই চুলা পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা (জিআইজেড)।
'বন্ধু চুলার বাজার উন্নয়ন উদ্যোগ' শীর্ষক শোভাযাত্রা শেষে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রকল্প ব্যবস্থাপক ও জিআইজেডের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. খালেকুজ্জামান এ তথ্য জানান।
তিনি আরো জানান, সনাতন পদ্ধতিতে রান্না করায় অস্বাস্থ্যকর ও ধোঁয়াজনিত কারণে নানা প্রকার রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের নারীরা।
গবেষকদের হিসেবে, ২০১৩ সালেই রান্না ঘরের ধোঁয়াজনিত কারণে হাঁপানি রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২৫ লাখ। এতে ৫০ হাজার নারী ও শিশু মৃত্যুবরণ করে। এদেশে প্রচলিত চুলায় বছরে প্রায় ১৫০ কোটি মণ জ্বলানি ব্যবহার করা হয়, যার মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ জ্বালানি কাজে লাগে।
তিনি জানান, ২০০৬ সাল থেকে জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেড বন্ধু চুলা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০২১ সালের মধ্যে ঘরে ঘরে বন্ধু চুলা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলেছে সংগঠনটি।
বন্ধু চুলা
‘বন্ধু চুলা’ ছাঁকনি, চিমনি এবং টুপি দ্বারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তৈরি একটি পরিবেশ বান্ধব চুলা। এ চুলায় কোনো ঝিকা না থাকায় আগুনের তাপ বেশি কাজে লাগে। ফলে কম জ্বালানিতে তাড়াতাড়ি রান্না হয়। এতে ছাঁকনির উপর জ্বালানি পোড়ানো হওয়ার কারনে ধোঁয়া চিমনি দিয়ে ঘরের বাইরে চলে যায়।
বন্ধু চুলার সুবিধা
• জ্বালানি খরচ অর্ধেকের নিচে নামিয়ে আনে।
• রান্নাঘর ধোঁয়া ও দূষণমুক্ত রাখে তাই এ চুলা স্বাস্থ্যসম্বত।
• চোখ জ্বালা, হাঁপানি, মাথাব্যাথা ও ক্যান্সারের মতো অনেক রোগের ঝুঁকি অনেক কমায়।
• রান্নাঘর কালিমুক্ত থাকে।
• রান্নাঘরে আগুন লাগার সম্ভাবনা কমে যায়।
• গ্রীন হাউজ ইফেক্ট থেকে পরিবেশেকে বাঁচায়।
সূত্র - poriborton.com

