গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের হাসপাতালে চিকিত্সাধীন সুচিত্রা সেন মৃত্যুর পর ফের বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসতে চান। এ মহানায়িকা তার শেষকৃত্যানুষ্ঠান জন্মস্থান পাবনায় করা হোক— এমন ইচ্ছা পোষণ করেছেন বলে জানা গেছে তার পারিবারিক সূত্রে। লন্ডন থেকে প্রকাশিত অনলাইন ওয়েব পোর্টাল ‘দেশে বিদেশে’ গতকাল এ খবর দিয়েছে।
পাবনার মেয়ে রমা দাশগুপ্তা ১৯৪৭ সালে পাড়ি জমান ভারতে। স্বামী দিবানাথ সেনের উপাধি গ্রহণ করে হয়ে যান রমা সেন। পরে চলচ্চিত্রে তাকে সুচিত্রা নাম দেওয়া হয়। তিনি পাবনার এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ও মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত। রমা ছিলেন সংসারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। ১৯৪৭ সালে দিবানাথ সেনের সঙ্গে বিয়ে হয় সুচিত্রার। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন মহানায়িকা সুচিত্রা। তার নিরাপত্তার কথা ভেবে কলকাতার বেলভিউ হাসপাতাল চত্বর ও এ আশপাশ এলাকায় পুলিশের প্রচুর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া আছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও। হাসপাতালের বাইরে তৈরি করা হয়েছে ব্যারিকেড, সংবাদকর্মীদের জন্য এনক্লোজার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গত শনিবার রাত থেকেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত রোববার থেকে সুচিত্রা সেনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। প্রায় সারা দিনই তিনি ঘুমাতে পারছেন না। তবে ইশারায় সাড়া দিচ্ছেন। শরীর খুবই দুর্বল। সুচিত্রার চিকিত্সকরা জানান, তার ফুসফুসে পানি জমেছে। এন্ডোট্রাকিয়াল টিউবের মাধ্যমে কফ বের করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে সাকশন মেশিনও। এ সময় কফের সঙ্গে বেরিয়ে আসে রক্ত। প্রচণ্ড কষ্ট হওয়ায় বারবার মুখের নল খুলে ফেলার চেষ্টা করেন সুচিত্রা। পরে তাকে ঘুমের ইনজেকশন দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক সুকুমার মুখোপাধ্যায় জানান, নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রাখার পরও সুচিত্রা সেনের শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। তার অবস্থা সত্যিই আশঙ্কাজনক।
সূত্র - দৈনিক আমাদের সময়

