প্রায় সব বক্ষ ব্যাধিতে এবং কিছু হৃদরোগে কফ-কাশি হয়ে থাকে। আমাদের দেহে দুটি ফুসফুস রয়েছে। এ দুই ফুসফুসে রয়েছে অসংখ্য ছোট বড় শ্বাসনালি। শ্বাসনালি বা ব্রংকাস থেকেই কফ তৈরি হয়। কফ-কাশির প্রসঙ্গ এলেই যে রোগের কথা প্রথমে মনে আসে, সেটি হল যক্ষ্মা। যক্ষ্মা হলে কাশি লেগেই থাকে। প্রথম দিকে কফ পাতলা শ্লেষ্মা জাতীয় হয়। এটি জীবাণু সংক্রমিত হলে পেকে হলুদ হয়ে যায়। কোনো রোগী যদি তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অবিরাম কাশতে থাকে তবে তাকে অবশ্যই কফ পরীক্ষা করতে হবে।
প্রায় ১০ শতাংশ যক্ষ্মা রোগীর কফে যক্ষ্মার জীবাণু ধরা পড়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যক্ষ্মা রোগ নির্ণীত হয় এক্সরে পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে। ব্রংকিএকটেসিস নামের রোগে পাকা হলুদ কফ নির্গত হয়। সাধারণত সকালের দিকে এই দুর্গন্ধ যুক্ত কফ বের হয়। ফুসফুসে অ্যানোরোবিক জীবাণু সংক্রমণের ফলে এ দুর্গন্ধ হয়। এ রোগের অন্যতম লক্ষণ হল- কফের সঙ্গে রক্ত যায়। এ ধরনের রোগীকে যক্ষ্মা ভেবে যক্ষ্মার ওষুধ খাওয়ানো হতে পারে। ক্রনিকব্রংকাইটিস পরিবেশ দূষণ এবং ধূমপানের জন্য হয়ে থাকে। এ রোগে শ্বাস কষ্ট প্রধান লক্ষণ।
কফ-কাশির সমস্যা যেন লেগেই থাকে। কফ প্রথমে অল্প আঠালো এবং পিচ্ছিল হয়ে থাকে। জীবাণু সংক্রমিত হয়ে পরে কফ পেকে হলুদ হয়ে যায়। তখন তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং জ্বর হয়। হাঁপানি রোগীর কফ সাধারণত বের হতে চায় না। কফ বের হয়ে গেলে রোগী শ্বাস যন্ত্রণা থেকে আরাম পায়। নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর কফ ভিন্ন ধরনের হয়। কখনও সাদা কখনও হালকা হলুদ।
নিউমোনিয়ার একপর্যায়ে কফের সঙ্গে মরিচার মতো লাল রঙ মিশ্রিত থাকে। ফুসফুসের ক্যান্সারেও কফ থাকে। এ কফে ছিঁড়ে ছিঁড়ে রক্ত যায় এবং বুকে প্রচণ্ড ব্যথা থাকে। ক্যান্সার রোগীর শেষের দিকে কাশি ইড়ারহব ঈড়ঁময-এর মতো ভিন্ন শব্দ থাকে। ফুসফুসে ফোঁড়া বাহলে কফ পেকে হলুদ হয়ে যায় এবং অনেক সময় কফে দুর্গন্ধ থাকে। কফ রক্ত মিশ্রিত থাকতে পারে। অ্যালার্জি জনিত হাঁপানিতে এ ট্রপিক্যাল ইয়োসিনোফিলিয়াতে কফ ঘন হয়। কফ পরীক্ষা করলে প্রচুর ইয়োসিনোফিল পাওয়া যায়। ধূমপায়ীর কফ-কাশি সবসময়ই লেগে থাকে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেও কফ-কাশি হয়ে থাকে।
সূত্র – যুগান্তর.কম

