home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

উৎসবের পরও সজীব
০২ নভেম্বর, ১৩
Tagged In:  staying fresh  
  Viewed#:   82

ছকে বাঁধা জীবনে উৎসব যেন এক খুশির বারতা। সেটির উদ্যাপনের জন্য তাই কত প্রস্তুতি। কিন্তু উৎসব শেষে আবার ব্যস্ত জীবনে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবলেই যেন অবসাদ ঘিরে ধরে। সে অবসাদকে এক তুড়ি মেরে বিদায়ও করে দিতে পারেন আপনি নিজেই।

হারমনি স্পার আয়ুর্বেদ ও রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা বলেন, ‘উৎসবের আমেজটা আমাদের দেহ ও মনকে যেমন নিমেষে প্রফুল্ল করে তোলে, তেমনি উৎসব শেষে সে কাজের চাপ আমাদের ত্বক, শরীর, হাত-পা, চুল সবখানেই ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। সেটিকে চাপ হিসেবে না ভেবে বরং আনন্দের উদ্যাপন হিসেবে নিতে চেষ্টা করুন।’

ফিট অ্যান্ড ফিটনেস জিমের (ব্যায়াম চর্চা কেন্দ্র) প্রশিক্ষক দয়িতা আক্তার বলেন, ‘শরীর যখন চনমনে থাকে কাজেও তখন সহজে মন বসে। এ জন্য ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে ৩০ মিনিট হাঁটতে পারেন। দক্ষ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে যোগ ব্যায়ামের চর্চাও করতে পারেন।’

উৎসবের দিনের ব্যস্ততার পরে শারীরিক ও মানসিক অবসাদকে দূর করে সুন্দর ও সজীব হয়ে ওঠার নানান পরামর্শ দিয়েছেন রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা।

শারীরিক ও মানসিক অবসাদকে বিদায়

 সারা দিনের কাজের পর নিজের জন্য একটু সময় বের করে সহজ শিথিলায়ন বা শবাসন করতে পারেন। শবাসন করতে হলে, শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে শরীর শিথিল করে চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটো লম্বা করে ছড়িয়ে দিন। দুই পায়ের মাঝে এক হাত পরিমাণ জায়গা রাখুন। হাত দুটো দুই পাশে ও হাতের তালু ওপরের দিকে রাখুন। এরপর চোখ বন্ধ করে গভীরভাবে তিন-চারবার লম্বা দম নিয়ে ধীরে ধীরে দম ছাড়ুন। শবাসন করার সময় ভাবুন আপনার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ এবং আপনার খুব আরাম লাগছে। চাইলে উপুড় হয়েও শবাসন করতে পারেন।

সহজ কিছু যোগব্যায়ামের পদ্ধতি শিখে নিন কাজ করতে করতে কাঁধের কাছে ব্যথা অনুভব করলে কাজ শেষে অথবা কাজে একটু বিরতি দিয়ে স্থিরাসন অথবা গোমুখাসন করতে পারেন। মেরুদণ্ড সোজা করে দুই পা সামনের দিকে ছড়িয়ে বসুন। এবার ডান হাত ডান কাঁধের ওপর নিয়ে এসে যতদূর পারেন পিঠের ওপর রাখুন। হাতের পাতা উপুড় অবস্থায় থাকবে। এবার বাম হাত কোমরের কাছ থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে এসে পিঠের ওপর রাখা ডান হাতটি ধরতে চেষ্টা করুন। দম স্বাভাবিক রেখে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড অবস্থান করুন। আবার বাম হাত ওপরে রেখে ডান হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করুন। এভাবে তিন-চারবার করলে ঘাড় এবং পিঠের ব্যথা থেকে অনেকটা আরাম পাবেন।

 অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করার ফলে হাঁটু বা গোড়ালিতে ব্যথা অনুভূত হলে পবনমুক্তাসন করতে পারেন। সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। এবার নিঃশ্বাস স্বাভাবিক রেখে প্রথমে ডান পা তুলে হাঁটুর কাছে ভাঁজ করে বুকের কাছে এনে দুই হাত দিয়ে চেপে ধরুন। এভাবে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড অবস্থান করুন। তারপর বাম পা ভাঁজ করে বুকের সঙ্গে লাগান। দুই পা সোজা করে মাটিতে রেখে আবার একত্রে দুই পা ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে এসে চেপে ধরুন। এভাবে তিন-চারবার করতে পারেন।ত্বক ও চুলের সজীবতায়

ত্বক ও চুলের সজীবতায়

তৈলাক্ত ত্বকের ফেসপ্যাক

 শসার রস ৪ চামচ, মধু ৪ চামচ, লেবুর রস ১ চামচ, গোলাপজল ১ চামচ, লাল আটা ২ চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখমণ্ডলে ও ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সব শেষে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিন।

 মসুর ডাল বাটা ৩ চামচ, শসার রস ১ চামচ, লেবুর রস আধা চামচ, ডিমের সাদা অংশ ১টি একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে লাগান। শুকিয়ে গেলে কুসুম গরম পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। সবশেষে ময়েশ্চারাইজার লাগান।।

স্বাভাবিক বা মিশ্র ত্বকের ফেসপ্যাক

 গাজর বাটা ৩ চামচ, বেসন ২ চামচ, মধু ২ চামচ, গোলাপজল ১ চামচ মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগান এবং ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। তারপর ময়েশ্চারাইজার লাগান।

 চন্দন বাটা এবং গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগান এবং ২০ মিনিট পর মুখ ধুয়ে ফেলুন।

শুষ্ক ত্বকের ফেসপ্যাক

 ময়দা ১ চামচ, ডিমের কুসুম ১টি, জলপাই তেল ২ চামচ, গোলাপজল ১ চামচ একসঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। মুখ মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

 মধু ১ চামচ, ডিমের কুসুম ১টি, গ্লিসারিন ১ চামচ একত্রে ভালোভাবে মেশান এবং মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

চুলের উজ্জ্বলতায়

 তৈলাক্ত চুলে ১ কাপ শিকাকাই ও আধা কাপ মেথি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে লাগাতে পারেন। মাথায় ব্যবহার করার সময় এই মিশ্রণের কিছুটা নিয়ে ডিমের সাদা অংশের সঙ্গে মিশিয়ে শ্যাম্পুর মতো চুলে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

 রুক্ষ চুল যাঁদের তাঁরা খালি হাতে অথবা আঙুলের ডগায় তেল নিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন। এ ছাড়া ১টি পাকা কলা, ২ চামচ মধু, ২ চামচ জলপাই তেল, ২ চামচ দুধ একত্রে মিশিয়ে চুলে লাগাতে পারেন। ৩০ মিনিট রেখে চুল পরিষ্কার করে ফেলুন।

হাত ও পায়ের সৌন্দর্যে

সপ্তাহে অন্তত একবার ম্যানিকিওর ও পেডিকিওর করুন।

প্রথমে নেইল পলিশ রিমুভার তুলাতে ভিজিয়ে প্রত্যেকটি নখে চেপে রাখুন। এভাবে নখের পুরোনো নেইল পলিশ তুলে ফেলুন। ফাইলার দিয়ে নখের কোনা থেকে মাঝের দিকে ঘষে ঘষে পছন্দমতো আকৃতি করে নিন। প্রয়োজনে নেইল কাটারের সাহায্য নিন। এবার শসার রস, গাজরের রস, চালের গুঁড়া, মধু, টকদই মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করে হাতে চার-পাঁচ মিনিট ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের মরা কোষ দূর করবে। ম্যাসাজ শেষে একটি কাচের বাটিতে কুসুম গরম পানি নিন। এরপর নখের ওপর পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে হাত চার-পাঁচ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। একটি নরম নেইল ব্রাশ দিয়ে ধীরে ধীরে নখ এবং হাত ঘষুন। তারপর তোয়ালে দিয়ে হাত মুছে ফেলুন। এবার জলপাই তেল, গোলাপজল এবং গ্লিসারিন একঙ্গে মিশিয়ে ময়েশ্চারাইজার বানিয়ে হাতে এবং নখে ম্যাসাজ করুন। সবশেষে বাফার দিয়ে নখের ওপর ঘষে নিন। এতে নখের উজ্জ্বলতা বাড়বে।


সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: সুগন্ধে সতেজ
Previous Health Tips: আবেগের বৈজ্ঞানিক ব্যবচ্ছেদ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')