home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

ডায়াবেটিসে কিডনি সমস্যা
৩১ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  diabetes  
  Viewed#:   241

ডায়াবেটিসের কারণে ক্ষুদ্র রক্তনালির সমস্যায় অসুখ ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি কিডনির ব্যর্থতার (রেনাল ফেইলুর) অন্যতম প্রধান কারণ। যেখানে রোগীর প্রস্রাবে অতিরিক্ত প্রোটিনের উপস্থিতি ক্রমেই বৃদ্ধি প্রাপ্তি, উচ্চ রক্তচাপ এবং অতিরিক্ত কমে যাওয়া কিডনির পরিশুদ্ধি করণ কাজ ইত্যাদি তীব্র ভাবে দেখা যায়। টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ৪০% থেকে ৫০% এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ৩৫% লোক এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। ৩০ বছর বয়সের আগে যাদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে তাদের ২৫%-এরও বেশি কিডনি ফেইলুরের শেষ পর্যায়ে পেঁৗছে। তবে বেশকিছু ডায়াবেটিস রোগীকে কিডনির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে দেখা যায়। জেনেটিক প্রভাব এখানে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ডায়াবেটিস শুরু হওয়ার ১০-২৫ বছর পর ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি শুরু হয়। ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি শুরুটা সবার ক্ষেত্রে একরকম নয়। ডায়াবেটিস শুরুর সময়কার কিডনির কার্যক্ষমতা, রক্তচাপ ও রক্ত প্রবাহ এসব বিষয় ডায়াবেটিসের নেফ্রোপ্যাথির শুরু ও ক্রমবিবর্তনকে প্রভাবিত করে। শুরুর দিকে কিডনির আকার কিছুটা বড় হয়, তারপরই প্রস্রাবে প্রোটিনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে কিডনির ছাকনি কাজ (এঋজ) ৬০%-এর বেশি কমে গেছে এ সময়ে রক্তচাপ বাড়তে থাকে আর রক্তে নাইট্রোজেন বর্জ্য পদার্থ জমার হার বাড়তে থাকে।

ডায়াবেটিসের রোগীদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত কিডনির সমস্যায় ভুগতে পারেন। আর শেষ ধাপ হলো চূড়ান্ত পর্যায়ের কিডনি ফেইলুর। তাই ডায়াবেটিস নির্ধারণের প্রথম দিক থেকেই কিডনির কার্যকারিতা জেনে নেয়া হয়। পরবর্তী সাক্ষাৎ গুলোতেও কিডনির অবস্থা জেনে নেয়া জরুরি। কমপক্ষে বছরে একবার কিডনির কার্যকারিতা দেখার জন্য পরীক্ষা করাতে হবে। এ জন্য যেসব পরীক্ষা করা হয় তা হলো প্রস্রাবে প্রোটিনের মাত্রা, ২৪ ঘণ্টার প্রসাবের জমাকৃত মোট প্রোটিন রক্তের ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন এবং রক্তের আধানগুলো। ডায়াবেটিস রোগীযাতে কিডনি ফেইলুরের দিকে ধাবিত না হয় সে জন্য ডায়াবেটিসের শুরুর চিকিৎসায় কিডনি সুরক্ষাকারী কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সঠিকভাবে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখা। মাঝেমধ্যে যদি রক্তের গ্লুকোজ পরিমাণ বেড়ে যায় তবে তাদের কিডনি হুমকির মধ্যে পড়তে পারে।

রক্তের ঐনঅ১ঈ৪%-এর কম রাখতে পারলে কিছুটা নিরাপদ থাকা যায়। যারা কঠোর ভাবে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন তারা ডায়াবেটিস নেফ্রোপ্যাথি হয়ে যান তবে রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে তেমন কোনো ইতর বিশেষ হয় না। ডায়াবেটিস রোগীদের কিডনির সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে হলে তাদের রক্তচাপও সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ডায়াবেটিস রোগীর নিরাপদ রক্তচাপ হলো ১৩০/৭০ মিলিমিটার পারদ। এর বেশি প্রতি মিলিমিটার রক্তচাপই কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়বে। তবে প্রতিক্ষেত্রেই লবণ কম খাওয়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীদের সঠিক পরিমাণ লবণ খেতে হবে প্রতিদিন। যাদের একবার কিডনির পরীক্ষায় কোনো গরমিল দেখা দিয়েছে তাদের প্রোটিন খেতে হবে বেশ হিসাব করে। ডায়াবেটিস রোগীদের সম্ভব বেদনানাশক ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকা ভালো, যাদের প্রস্রাবে প্রোটিন অধিক পরিমাণ পাওয়া গেছে বা রক্তে অধিক ইউরিয়া বা ক্রিয়োটিনিন আছে তাদের চিকিৎসকের কড়া নজরদারিতে থাকা উচিত।


সূত্র - যায়যায়দিন

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: যেসব কাজ করতে মানা
Previous Health Tips: পেটের মেদ কমবে যেভাবে

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')