home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

কলার মোচা ও থোড়ের পুষ্টিগুণ
১৪ মে, ১৪
Tagged In:  banana health benefits  fruit quality  
  Viewed#:   133

banana-flower

বাংলাদেশের সর্বত্র কলাগাছ দেখা যায়। প্রায় সারা বছরই কলার ফলন হয়। তাই সব সময় বাজারে নানা জাতের কলা পাওয়া যায়। কলার রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। কলার মোচা, থোড়, কাঁচা করা, পাকা কলার রয়েছে আলাদা আলাদা পুষ্টিগুণ।


কলার ব্যবহার দুভাবে। কাঁচা রান্না করে এবং পাকা কলা খাওয়া হয়। বহু প্রকারে কলা রয়েছে। রান্না করে খাওয়া যায় যে কলা তাকে কাঁচা কলা বা কাঁচকলা বা আনাজে কলা বলে। বাকি সব কলা পাকলে খাওয়া হয়। যেসব কলা পাকা খাওয়া হয়, সেগুলো হচ্ছে সাগর কলা, সবরি কলা, চম্পা কলা, বিচি কলা বা দয়া কলা, ঠটে কলা বা পূজার কলা, অগ্নিস্বর কলা, বানেস্বর কলা ইত্যাদি।

এগুলোর মধ্যে সাগর কলা, সবরি কলা ও চম্পা কলা জনপ্রিয় ও সহজলভ্য। আশির দশক থেকে আমাদের দেশে নেপাল থেকে এক প্রকার কলা এনে চাষ করা হচ্ছে। সবাই এটাকে নেপালি কলা বলে। এগুলো বেশ বড় বড় বড়।

গুণাগুণের দিক থেকে কাঁচা কলা ও পাকা কলার ভিন্ন ভিন্ন গুণ। বাঙালি মাত্রই কাঁচা কলা ব্যবহারের কথা জানেন। ভর্তা, ঝোল, ভাজা, ডালনা, কোপতা, বড়া, চপ নানা প্রকারে কাঁচা কলা খায় বাঙালিরা। কাঁচাকলার খোসা পর্যন্ত ভেজে খায়। আয়ুর্বেদি মতে, কাঁচাকলা শরীর ঠাণ্ডা রাখে। বল বৃদ্ধি করে। রোগীকে কাঁচাকলার ঝোল খেতে দেয়া হয়।

এছাড়াও কাঁচাকলা কফ নাশক, অম্লপিত্ত দাহ, ক্ষয় ও বায়ুনাশক। কাঁচাকলায় আয়রন বেশি থাকায় শরীরে রক্ত বাড়ায়। শক্তি বৃদ্ধি করে। যাদের পেটের অসুখ তারা কাঁচাকলা ভর্তা বা ঝোল খেতে পারে।banana-flower2 যাদের পাকস্থলী বা অগ্ন্যাশয়ে আলসার আছে, তারা কাঁচাকলা সেদ্ধ বা ভর্তা খেতে পারেন। কাঁচাকলা সেদ্ধ টক দইয়ের সঙ্গে চটকে খেলে আমাশয় ও রক্ত আমাশয় ভালো হয়। এই কলা মেয়েদের অ্যানিমিয়া দ্রুত পূরণ করতে পারে।

কলার মোচা ও ভেতরের থোড়ও উপকারী। আয়ুর্বেদ মতে, কলার মোচা সেদ্ধ করে কাশ, পেঁয়াজ, লবণ ও সরষে তেল দিয়ে ভর্তা করে খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। এটা মধুর, কষায়, হজমে গুরুপাক, ডায়াবেটিস, বায়ু, পিত্ততেও কলার মোচা খুবই উপকারী। যাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, তারা কলার মোচা ভর্তা বা ডালনা খেলে উপকার পাবে।

কলা গাছ ছুলে ফেললে ভেতরে মোটা গোলাকার দণ্ড পাওয়া যায়। একে বলে থোড়। শহুরে লোকেরা থোড় খেতে জানে খুব কম। গাঁয়ের লোকেরা কলার কাঁদি কাটার সময় গাছ কেটে ফেলে খোসা ফেলে থোড় বের করে বাড়িতে নিয়ে আসে।

তারপর রান্না করে খায়। চিকন চিকন করে কেটে তেলে ভেজে ভাতের সাথে খায়। এই থোড় রুচি বাড়ায়, ক্ষুধা বৃদ্ধি করে, বীর্য বাড়ায়, ডায়াবেটিস কমায়। মেয়েদের শ্বেত ও রক্তপ্রদর রোগ ভালো হয়।

হেকিম ও কবিরাজদের পরামর্শ মোতাবেক থোড় শুকিয়ে গুঁড়ো করে এবং থোড় বেটে রস করে চিনি ও মধু মিশিয়ে খেলে নানাবিধ রোগ মুক্ত হওয়া যায়। কলাগাছের মূল ও শেকড়ও উপকারী। হেকিম ও বৈদ্যদের পরামর্শ মতে খেলে বহু রোগ সারে।

সূত্র - নুতনবার্তা 

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: পান খাওয়ার লাভ-ক্ষতি
Previous Health Tips: ৫ উপায়ে বুঝুন হার্ট-অ্যাটাকে আক্রান্ত কিনা ও যা করবেন

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')