অনেক মা-বাবা সর্দিকাশিতে ভুগলেই শিশুকে ইচ্ছামতো কফ-কাশির সিরাপ সেবন করান। তারপর বেশ কিছু সময় নষ্ট করে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাচ্চাকে হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আসেন। এটা আমাদের দেশে খুব ঘটে। কিন্তু সর্দিকাশিতে ভুগলেই কি কফের সিরাপ দিতে হবে?
বৈজ্ঞানিক তথ্য
সিরাপের মূল উপাদান কোডিন, ডেকস্ট্রো- মিথোরফেন শিশুর জন্য বিপজ্জনক। সম্প্রতি আমেরিকান চেস্ট মেডিসিন এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে। আবার অস্ট্রেলিয়ায় দুটি প্যাডিয়াট্রিক হাসপাতালে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, খুসখুসে কাশি কমানোর সিরাপ, কফ আলগা করার ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন, নাসারন্ধ্র খোলা রাখার ড্রপস, শ্বাসনালি প্রসারণে ব্যবহৃত ব্রংকোডাইলেটর ইত্যাদি ওষুধ শিশুর কফ-কাশি লাঘবে বাড়তি ভূমিকা নেই; বরং প্রতিক্রিয়া আছে। শিশু ঝিমোয় বেশি, বেশি অস্থিরতায় ভোগে। কখনো কখনো মারাত্মক বিপদ ডেকে আনে এসব ওষুধ; কিন্তু বড় সমস্যা তৈরি হয় যখন সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং জটিল অবস্থায় বিশেষত মারাত্মক নিউমোনিয়ার কষ্ট নিয়ে শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
কাশির উপকারিতা
শিশুর কাশি যদিও অভিভাবকদের কাছে অসহনীয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এ অবস্থাটিকে শিশুর জন্য খারাপ নয় বলছে। কাশি শিশুদেহ থেকে জীবাণু প্রবেশে বাধা দেয় ও দেহের জীবাণু বের করে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম। তবে এও ঠিক, অতিরিক্ত কাশি বা একনাগাড়ে বেশিদিন কাশি শিশুর জন্য কষ্ট বয়ে আনে। কাশি লাঘবের জন্য নিরাপদ মধু, তুলসীপাতার রস, লেবু মেশানো কুসুম কুসুম গরম নিরাপদ পানি অনেক উপকারী।
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

