ধর্মঘটের কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডেন্টাল অনুষদের বহির্বিভাগে দুই দিন ধরে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অনুষদের ডিনের কক্ষ ভাঙচুরের ঘটনায় চিকিৎসকদের একটি অংশ এই ধর্মঘট ডেকেছে। এর ফলে দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা। তারা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপদলীয় কোন্দল এখন চরমে উঠেছে। হল সংসদ গঠনকে কেন্দ্র করে স্বাচিপের একটি উপদলের চিকিৎসকেরা ৩ মার্চ অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আলী আসগর মোড়লের কক্ষ ভাঙচুর করেন। ভাঙচুরে অংশ নেওয়া চিকিৎসকেরা অধ্যাপক আবদুল আজিজের সমর্থক।
এই ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা ধর্মঘটে গেছেন। জানা গেছে, ধর্মঘটে ইন্ধন দিচ্ছেন স্বাচিপের স্থানীয় শাখার সাধারণ সম্পাদক এ এস এম জাকারিয়া।
তবে ধর্মঘটে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এ এস এম জাকারিয়া। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন তদন্ত কমিটি তৈরি করেছে। আমরা কমিটির প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত ভাঙচুরের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে মন্তব করেছেন। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বিশ্বদ্যািলয়ের বাইরে ছিলাম। ঘটনা জানার পর ক্যাম্পাসে ফিরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিই।’ তদন্ত কমিটি গঠনের পরও রোগীদের কথা বিবেচনা না করে ধর্মঘট ডাকা দুঃখজনক।
ডেন্টাল অনুষদের চারটি বিভাগের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেয়। তবে চিকিৎসকদের একটি অংশ এ ধর্মঘট সমর্থন করছে না বলে জানিয়েছে। তবে স্বাচিপের ভয়ে তারা রোগী দেখা থেকে বিরত থাকছে।
এ ব্যাপারে অধ্যাপক আসগর মোড়ল বলেন, ২০১০ সাল থেকে কিছু চিকিৎসক উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে চলেছেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। এবার দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নিলে এই অচলাবস্থা চলতে থাকবে বলে তিনি মনে করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, স্বাচিপের দুই উপদলই মারমুখী অবস্থায় আছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে আজ ক্যাম্পাসে গোলমাল হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছেন কেউ কেউ।
সূত্র - প্রথম আলো

