
সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটজনকে প্রায়ই খাটো হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ব্যাপারে মা-বাবাদের দায়ী করার সুযোগ নেই। কারণ তাঁরা ‘শিশু-বিভ্রমে’ পড়েই সবচেয়ে ছোট সন্তানটিকে তার প্রকৃত উচ্চতার চেয়েও খাটো বলে ভাবতে শুরু করেন।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে অবস্থিত সুইনবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জর্ডি কফম্যান ও তাঁর সহযোগীরা ৭৭ জন নারী-পুরুষকে তাঁদের সন্তানদের উচ্চতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। এতে দেখা যায়, মায়েরা নিজেদের সবচেয়ে ছোট শিশুসন্তানের উচ্চতা গড়ে সাড়ে সাত সেন্টিমিটার কমিয়ে বলেছেন। তবে অন্য সন্তানদের উচ্চতা সম্পর্কে তাঁরা প্রায় সঠিক তথ্য দিতে পেরেছেন।
কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইবোনদের মধ্যে জন্মের ক্রমানুসারে তাদের জীবনে অনেক ধরনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নির্ধারিত হয়—এমন ধারণার প্রচলন রয়েছে বহু আগে থেকেই। সবচেয়ে ছোটজন সম্পর্কে গড়পড়তা নেতিবাচক ধারণার প্রভাবে মা-বাবারা তাঁদের বড় সন্তানদের তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ানের গবেষক অ্যান্ড্রু হোয়াইটহাউস বলেন, শিশুর বিকাশে তার জন্মক্রমের বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং রহস্যময়। সম্ভবত মানুষ নিজের কনিষ্ঠতম সন্তানটিকে সব সময় ‘ছোট’ হিসেবেই দেখতে চায়। কিন্তু এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবসম্মত নয়। নিউ সায়েন্টিস্ট।
সূত্র - প্রথম আলো

